মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে মুক্তির খোলা চিঠি

আপা, আমি বিশেষ্য বিশেষন দিয়ে তোষামোদি করতে জানিনা। তাই সরাসরি আমার কিছু না বলা কথা এবং কিছু হতভাগা মুক্তিযোদ্ধাদের করুন ইতিহাস আপনার সদয় অবগতির জন্য মিডিয়ার সাহায্য নিতে বাধ্য হলাম।
আপা, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুজিবনগরে প্রশিক্ষণ নেয়া যোদ্ধা।
স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ২রা মার্চ জাতিরজনক বংগবন্ধু/বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজুদ্দিন আহমেদ একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই ১০ মিনিটের নির্দেশে ভূমি মন্ত্রণালয়ে চাকুরী প্রদান করেছিলেন। ৭ দিন কি ৮ দিন পায়ে হেটে না খেয়ে মুজিবনগরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম একটি স্বাধীন সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নেশায়।
এ নেশা সাড়ে সাত কোটি মানুষের রক্তে মাংসে অস্তিত্বে মগজে সেলের মত বিধেছিল ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ “পশ্চিমা হানাদার বাহিনীর হাত থেকে বাংলাকে মুক্ত করতে হবে” জাতিরজনকের এই উদাত্ত আহবানে সারা দেয়া কী ভুল সিদ্ধান্ত ছিল? তাই আমি মুক্তিযোদ্ধা। নামবিহীন অস্তিত্ববিহীন মুক্তিযোদ্ধা! নাম বদলে দিলাম। মোঃ মোকতেল হোসেন থেকে নাম বদলে হয়ে গেলাম মোকতেল হোসেন মুক্তি।
পরবর্তীতে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু ১৩ই এপ্রিল ১৯৭২ সালে মন্ত্রী পরিষদ গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হলে মাদারীপুরের কৃতি সন্তান মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক খাদ্যমন্ত্রী প্রয়াত ফনি ভূষন মজুমদারের অনুস্বাক্ষরে বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবীল থেকে এক হাজার টাকার অনুমোদন (মাদারীপুর মহকুমা প্রশাসক অফিসে) এবং ৩ বান ঢেউ টিন প্রদান করেন।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের রেকর্ডে একজন মুক্তিযোদ্ধার কোটায় আমার চাকুরী হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের সচিবালয়ে আমিই ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রথম নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী ছিলাম। আমার ডিউটি ছিল জননেত্রী শেখ হাসিনার ফুফা, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি, সাবেক চীপ হুইপ আলহাজ্ব হাসনাত আব্দুল্লাহ সেরনিয়াবাত এর গর্বিত পিতা, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনি ভাইয়ের শ্বশুর, সাংসদ ব্যারিষ্ঠার তাপসের নানা সাবেক কৃষক লীগের সভাপতি ভুমি মন্ত্রী ও পরবর্তীতে পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায়।
ইতিহাসের ঘৃণ্য কালো অধ্যায় ১৫ঈ আগস্টের মধ্যযূগীয় বর্বর হত্যাকান্ডের লাশ দেখে আমি পাগল হয়ে যাই। পিজি হাসপাতালে আমার ৩ মাস চিকিতসা চলে এবং সে তিন মাসের বেতন ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তন করে। এ কথা সকলেই জানেন।
আমি ভারতের প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। আমার ঘরের সব কাগজপত্র আমার ভাইদের শিক্ষার সনদ, জমির দলিল দস্তাফেজ সমূহ সব মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ছিড়ে ফেলি। আমার পরিবারের সব আমি ধংস করে ফেলেছিলাম। ভুমি মন্ত্রনালয় তার প্রমান।
আমি মন্ত্রীকে এসব কথা বলাতে আমাকে অপমান করতে পারেন না। আমি প্রবাসে থাকি। আমাকে আবেদনের সুযোগ না দিয়ে অপমান করার অধিকার মন্ত্রীর নাই। তিনি আমার দরখাস্ত গ্রহন করা ও না করার অধিকার রাখেন কিন্তু মেজর জেনারেল সুবিদ আলীর নির্দেশে  আমাকে অপমান করতে পারেন না। তিনি আমার আবেদনে লিখেছেন
“যেহেতু আবেদনকারী বহুবার দেশে এসেছিলেন এবং আবেদন করেন নি তাই তার আবেদন গ্রহন করা গেল না”
তিনি মেজর জেনারেল সুবিদ আলীর শিখানো কথা মত বললেনঃ ৪৫ বছর পরে মুক্তিযোদ্ধা হতে এসেছে। বের করে দেন”।
আমি মুক্তিযোদ্ধাই নই, একজন সক্রিয় আওয়ামি যোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া আমার জীবনে অন্য কোন বিষয় কাজ করেনি এবং এ মুক্তিযুদ্ধ বংগবন্ধ ও আওয়ামী লীগই আমার ধ্যান ধারনা চিন্তা চেতনা আদর্শ এ কথা প্রমান করে আমার ৬০ হাজার প্রায় লীফলেটস, ব্যানার ও পোষ্টার এশিয়ায় ইন্টারনেট চালু হবার পর থেকেই কার বিনা প্ররোচনায় করে এসেছি। শুধু তাই নয় আমি ২০০ ওয়েব সাইট ও ব্লগ মেইনটেইন করি যা’শুধু যুদ্ধাপরাধী মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ সংক্রান্ত। এ সকল ছবি ও ব্লগ/ওয়েবসাইটগুলোই প্রমান করে যে আমি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রীতিমত একজন বদ্ধ উন্মাদসম গবেষক।
Just write my name on the google search engine where you’ll get real Identity of mine “write Moktel Hossain Mukthi or muktimusician.
এ ছাড়াও আমি একজন একনিষ্ঠ অনলাইন আওয়ামী যোদ্ধা। মালদ্বীপের বঙ্গবন্ধু পরিষদ এবং আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, মালদ্বীপের মাটিতে আমিই সর্ব প্রথম মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু এবং পাকিস্তানের ৩০ লক্ষ বাঙ্গালী হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য জনসভায় বক্তৃতা প্রদান করে পাকিস্তান হাই কমিশনের মামলা খাওয়া একজন মালদ্বীপ সরকারের শিক্ষক।
মন্ত্রী মহোদয় এ সব পরিচয় জানার পরেও বলেন নি যে আপনি বসেন বা কিছু বরং তাঁর আচার ব্যবহার এতই রুঢ় ছিল যা’ শিবির বা জামাতের কারো সাথে করছেন বলে অনুমেয়। আমার সাথে ভদ্র ভাষায় কথাও বলেন নি। এক পর্যায়ে জেনারেল সুবিদ আলীর কথায় তিনি আমাকে ঘাড় ধরে তাঁর কক্ষ থেকে বেড় করে দেয়ার কথা বলেন এবং অতঃপর………।।
তিনি মন্ত্রী না হলে হয়তো সেখানেই কোন দুর্ঘটনা ঘটে যেতো। আমি আমার নিজেকে নিয়ন্ত্রন করে চলে আসি। আমার সহযোদ্ধারা এখনো অনেকেই বেচে আছেন। ড: গোলাপ আমার সাথের একই ক্যাম্পের যোদ্ধা। আওয়ামি যোদ্ধা।
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী সব সময় প্রচন্ড মিথ্যা কথা বলেন। যা’ মিডিয়া ও বক্তৃতায় বলেন, বাস্তবের সাথে তার কোন মিল নেই; তিনি যা বলেন সব মিথ্যা কথা মিথ্যা তথ্য। এখনো বহু আসল মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকাভুক্ত করতে পারেনি অথচ তিনি বক্তৃতায় ঘোষনা করলেন সকল জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের কথা রেকর্ড করা হবে। আসল অনেক মুক্তিযোদ্ধার নামই সংগ্রহ করতে পারেন নি-তিনি কিভাবে এ ঘোষনা প্রদান করেন?
তার দেয়া সব তথ্য জাতিকে বিভক্ত করছে; মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কলঙ্কিত হচ্ছে। নতুন তালিকা প্রণয়নের নামে এগুলো প্রতারণা। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী মিথ্যাচার করছেন। মিডিয়া, দেশবাসী এমন কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রতারণা করছেন । দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উপজেলা ও জেলাসমূহে যে দুর্নীতি চলছে, যে সনদ ও মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইয়ের নামে ব্যবসা বাণিজ্য শুরু হয়েছে তাতে আওয়ামী লীগের বিগত বছরগুলোর সকল সফলতা এমন কি মহান মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের যে অবদান সব মলিন হয়ে যাবে এই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীদের মত স্বজনপ্রীতি দুর্নীতি গ্রস্থ নেতা/কমান্ডারদের কারনে।
কারন আপনি আদর্শিক কারনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষন ও মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করছেন।  সমস্ত মন্ত্রী এম পি দের তৃনমূলের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। ক্ষমতা ও অর্থ সম্পদ শালী মধ্য শ্রেণীর নেতা যার মধ্যে অর্ধেকই প্রায় জামাত শিবির ও বি এন পি, তাদের সাথে তাল মিলিয়ে, হাত মিলিয়ে আমার মত পাগল ছাগল নিবেদিত ত্যাগি সৎ নিষ্ঠাবান অভিজ্ঞ উচিত কথাবলার প্রকৃত মুক্তিসেনাদের এভাবেই তারা অপমান তাচ্ছিল্য করে দূরে সরিয়ে রাখে। যে কারনে ছাত্রলীগের ছেলেদের সেনাবাহিনী নৌ বাহিনী বিমান বাহিনী পুলিশ বিজিবি ও অন্যান্য সরকারী ভালো পদে চাকুরী হয় না।
কারন ওরা ত টাকা দিতে পারবে না। দলীয় ছাত্র লীগের ছেলেদের নিকট টাকা চাইতেও পারে না; যদি আবার নেত্রীকে বলে দেয় বা জানিয়ে দেয়। তাই গোপনে আওয়ামী লীগের নেত্রীর বিশ্বাসী নেতাগন গোপনে চাকুরী প্রদান করে, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রীদের ভর্তির সুপারিশ ও তদবীর করে জামাত বি এন পির ছেলে মেয়েদের । কারন টাকা পাওয়া যাবে।
উত্তরা ও এয়ারপোর্ট থানা এলাকায় আমার বাস। আমার জানা মতে ঠিক আমারই মত ত্যাগি জীবনবাজী রেখে নৌকার জন্য ভোট সংগ্রহ কারীর একটি মেয়েকে বঙ্গ মাতা স্কুলে ভর্তির জন্য কি না করেছে? মায়া ভাই পর্যন্ত বিষয়টি জানতেন। সে মেয়েটি সুযোগ পায়নি; দেখা গেছে-ঢাকা এয়ারপোর্ট ও বিমানে চাকুরীরত জামাত বি এন পির ছেলে মেয়েরা অজানা রহস্যের কারনে সবাই সুযোগ পেয়ে গিয়েছে।
এর নাম স্বাধীনতা ? মুক্তিযুদ্ধ ? আওয়ামী লীগ ? এত সে বঙ্গবন্ধুর নৌকা ডুবানোর দুরদন্ত শয়তানী মাঝি খন্দকার মোস্তাক আহমেদ, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, চাষী মাহবুবুল আলম, নূরুল ইসলাম, কে এম ওবায়দুর রহমান তাহের উদ্দিন ঠাকুরদের চেয়ে একটূ কম নয়। আমিই হলাম বাঙ্গালী জাতির মধ্যে সবচেয়ে কুলাঙ্গার। ধিক্রিত অবহেলিত লাঞ্ছিত মূর্খ বেয়াকুপ বেয়াক্কেল আহাম্মদ বোকা গাধা । না পারলাম প্রাণ খুলে হাসতে না পারলাম দুটি কন্যা সন্তানকে প্রাণ খুলে হাসতে। কি লাভ হল? এ স্বাধীনতায়? যে স্বাধীনতা আমার অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দেয় না; সে স্বাধীনতাকে আমি কেন স্বীকৃতি দেব? রাষ্ট্রই যদি আমাকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়, আমি কেন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবো? কেউ দেবে না। এটাই নিয়ম, এটাই লজিক। জানি আমি এতে হবো রাষ্ট্রদ্রোহী। তাও মন্দ কী? একটা কিছু ত হবো? আওয়ামী লীগের একজন মন্ত্রী একজন মুক্তিযোদ্ধাকে ঘাড় ধরে বেড় করে দেয়?? এ স্বাধীনতার অর্থ কী? কেন পেলাম? কি আশায় স্বাধীন হলাম? কিসের নেশায় নৌকা নৌকা মুজিব মুজিব করে জীবনের শেষ অবস্থানটুকুকে ধূলিসাৎ করে দিয়ে নির্বাসিত হলাম এই দ্বীপ রাজ্য মালদ্বীপে । ভুল কোথায়? ভুল তো আছেই হয়তো জানিনা জীবনের কোথায় কোন সিদ্ধান্তে বড় রকমের ভুল ছিল। তাই ভুলের মাশুল দিয়ে গেলাম ৬৫ বছর বয়সের মুক্তিযোদ্ধা মোকতেল হোসেন মুক্তি।
ভুল তথ্য দিচ্ছেন। এর সমাধান চাই। এর একটি পরিস্কার ব্যাখ্যা চাই; সত্যের জয় হবে; তাই চাই; জাতিরজনকের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ ক্ষমতায় থেকে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের নিয়ে রঙ তামাশা করবে; মুক্তিযোদ্ধা নির্ধারণের নামে ব্যবসা করবে, এর জন্য যুদ্ধে যাইনি, এর জন্য ৩০ লক্ষ বাঙ্গালী শহীদ হয়নি; এর জন্য ২ লক্ষ ৪০ হাজার মা বোনের ইজ্জত হারায়নি। আসল মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাই করতে ব্যর্থ মোজাম্মেল হক।
এই মিথ্যাচারের জন্য আল্লাহ্‌ বিচার করবেন রোজ হাসরের দিন। মহান আল্লাহর বিচারে কারো হাত নেই। আল্লাহর উপরে কোন মন্ত্রী নেই; আল্লাহর উপরে বিচারক নেই; রোজ হাসরের থেকে শক্তিশালী ক্ষমতাবান কোন আদালত নেই। বহু আসল মুক্তিযোদ্ধা এখনো তালিকার বাইরে এবং এ সমস্যা আগামী ১০০ বছরেও কোন সরকার সমাধান করতে পারবে না। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কথা রেকর্ড হবে ।
মন্ত্রী নিজেও জানে না যে উপজেলা জেলা গুলোতে এই তালিকা নিয়ে কি পরিমান টাকার ছাড়াছড়ি চলছে? কি পরিমান ব্যবসা করছে নব্য থানা কমান্ডারগণ। এমন কোন উপজেলা নেই যেখানে সত্যকারের মুক্তিযোদ্ধা বাদ পড়ে নাই এবং ভূয়া মিথ্যা তথ্য প্রদানকারী মন্ত্রীর ক্ষমতা বলে নয়তো এম পির ক্ষমতা বলে অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ক্ষমতা বলে নতুন তালিকায় নাম লিখিয়েছে। এমন প্রমান আমার গ্রামে আমার ইউনিয়নে রয়েছে। আমি ত অন্যের ক্কথা শূনে এ সব লিখিনি ভাই।ফুরিয়ে যাচ্ছে ৭১ এর সোনার ছেলে মেয়েরা, বেচে থাকবে শুধু ৭১ এ জন্ম নেয়া নব্য মুক্তিযোদ্ধারা, যারা লক্ষ টাকায় মুক্তিযুদ্ধের সনদ কিনে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে। আমরা মুজিবনগরে (ভারতে) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এর চেয়ে বড় পরিচয়ের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ডঃ আব্দুস সোবহান গোলাপ ভারতের চাদপাড়া এবং পরবর্তীতে ব্যারাকপুর মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রশিক্ষণ নেয়া মুক্তিযোদ্ধা এবং আমরাও একই সময়ে একই শিবিরে একই কমান্ডারের অধীন প্রশিক্ষণ নেয়া মুক্তিযোদ্ধা। ডঃ আব্দুস সোবহান গোলাপের নাম যদি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের তালিকায় থাকতে পারে, তবে আমাদের নাম থাকবে না কেন? শুধু আমরা নই, সারা বাংলাদেশে বহু অখ্যাত অপরিচিত অশিক্ষিত অজো পাড়া গায়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বহু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম এখনো তালিকাভুক্ত হয়নি। বহু মুক্তিযোদ্ধা ইতোমধ্যেই পরলোকগমন করেছেন, কোন স্বীকৃতি ও সুযোগ সুবিধা ভোগ না করেই তারা চলে গেছেন বাঙ্গালী জাতিকে মহান স্বাধীনতা প্রদান করে। তাদের নাম কে তালিকাভুক্ত করবে? কেন একটি সঠিক তদন্ত কমিটি কর্তৃক সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করা হয়নি? এ প্রশ্ন সরকার ও দেশবাসীর কাছে। আমরা মনে করি মহান মুক্তিযুদ্ধের নেত্রিত্বদানকারী দল হিসেবে জাতিরজনক বংগবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকারের এ মহান দায়িত্ব মুক্তিযোদ্ধাদের জীবদ্ধশায় সম্পন্ন করা উচিত। সবাই শেয়ার করুন, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সত্যিকারে শ্রদ্ধা থাকে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে মুক্তির খোলা চিঠি
আমার সার্টিফিকেট দরকার নাই। কোন ভাতার দরকার নাই। আপনি মুসলমান দাবী করলে আমি কেন করবো না? আমিও তো  নামাজ পড়ি? মন্ত্রী আমাকে অপমান করতে পারে না। তার চেয়ে আওয়ামী লীগের জন্য আমার অবদান সেই ৬৯ থেকে অদ্যাবধি তিল পরিমান কম নয়; বঙ্গবন্ধু আমাকে চাকুরী দিয়েছিলেন সচিবালয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। অমুক্তিযোদ্ধা ভাতা পায় এবং তা আওয়ামী লীগের আমলে এবং আওয়ামী লীগের মন্ত্রীর স্বাক্ষরে কেন? আমার কি ইচ্ছে করে না যে আমার সন্তান মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হোক। আমার সন্তানের কি ইচ্ছে করে না, তার বাবা মুক্কতিযোদ্ধা এ কথা অন্য দশজনের নিকট বলে গৌরব বোধ করতে? মন্ত্রীর ইচ্ছে মত চলতে পারে না; এ সব তথ্য নেত্রীর জানা দরকার।
নিবেদক – মোকতেল হোসেন মুক্তি, কন্ঠশিল্পী মুক্তিযোদ্ধা,
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সময়৭১।
মালদ্বীপ আওয়ামী লীগ
বঙ্গবন্ধু পরিষদ, মালদ্বীপ শাখা
সাধারণ সম্পাদক
মালদ্বীপস্থ প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটি এসোসিয়েশন
সুরকার গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালক
সঙ্গীত শিক্ষক
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ।

I was a freedom fighter, singer and musician; presently music teacher. I love our great leader Bangabandhu, Janonetree Sheikh Hasina, Bangladesh Awami league and sixteen million people of the Bangladesh republic. I always love to say truth with honesty and sincerity. I dislike the Razakars, al-Badre, al shams those who had killed our innocent civilians, intellectuals, philosophers, psychologists, professors, lecturers, doctors, engineers, journalists, young boys / girls and thousands of freedom fighters. They had not only helped the Pakistani army rather they had strategically planned the rape of nearly 10 thousands vulnerable mothers & sisters during the liberation period – 1971. They are still alive in Bangladesh and killing the innocent people in the name of almighty Allah. They are doing dirty politics in the country and using the holy Qur’an and Islam and tarnishing their sanctity by brain washing the youth of Bangladesh. I would be overwhelmed to see those killers hanged till death in public, who had killed our father of Bengali nation Bangabandhu sheikh Mujibur Rahman with his family in 15 August,1975.--(1).jpg22

অশিক্ষিত মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা ও ভাতা প্রসঙ্গে এত জ্বলন কেন? মোকতেল হোসেন মুক্তি

অশিক্ষিত মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা ও ভাতা প্রসঙ্গে এত জ্বলন কেন? মোকতেল হোসেন মুক্তি
“সাত কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙ্গালী করে মানুষ করনি”-

former secretary Nazrul Islam khan N I Khan নামেই বেশী পরিচিত। সাবেক এই সচিব মহান মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় ৪ নেতাদের নিয়ে অনেক গবেষণামূলক প্রবন্ধ লেখা লিখেছেন। মনে প্রাণেই মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তির একজন তুখোড় লেখক সমালোচক এবং গবেষক । তিনি উচ্চ শিক্ষিত বিধায় তাঁকে নিয়ে কোন খারাপ মন্তব্য করা সমীচীন নয়। কিন্তু একটি বিষয় আমার বোধগম্য হচ্ছে না যে তিনি কেন হঠাত করে মূর্খ গরীব অসহায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানের একান্ত প্রাপ্য জাতীয় মর্যাদা ও সন্মানাদি প্রসঙ্গে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান এবং বিরুপ কঠোর সমালোচনামূলক বিতর্কের সৃষ্টি করলেন? একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি না পেলেও আমার সন্তান আমি বিদেশে নিজের কষ্টার্জিত অর্থেই লেখা পড়া করিয়েছি। নিজে যা’পারিনি তা’ সন্তানদের পুরন করার এই যে মহান প্রত্যয় ও প্রত্যাশা তা’ বাস্তবায়ন করা অতি হত দরিদ্র্য নিভৃত পল্লীর অখ্যাত অজ্ঞাত অশিক্ষিত একজন বয়োবৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা আদৌ সম্ভব নয়। ১। মাদারীপুর কালকিনি উপজেলার কমান্ডার মুক্তিযুদ্ধকালীন আমার কমান্ডার New Zealand প্রবাসী Hanif Mahmud নিজেও উচ্চ শিক্ষিত এবং তাঁর সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। ২। মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানকারী সেক্টর কমান্ডারগণ/ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক/ইউনিক গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূর আলী/নৌ পরিবহন মন্ত্রী মোঃ শাহজাহান খানসহ আরো অগনিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা অথবা তাদের সন্তানেরা কি অশিক্ষিত? অন্যান্য বিত্তশালী উচ্চ শিক্ষিত বর্ণাঢ্য ব্যবসায়ী/শিল্পী/সাহিত্যিকগীতিকার/সুরকার/সচিব/কবি/লেখক/ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ারদের কথা না হয় উল্লেখ নাই করলাম। যাদের আর্থিক সঙ্গতি রয়েছে তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও চাকুরীর ক্ষেত্রে এই বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধার কোটা প্রয়োজন নেই। তাই তাঁরা এ সব নিয়ে কখনো মাথায় ঘামাননি বা বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে কোন মিডিয়া বা পত্র/পত্রিকায় গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হয়নি। আজ বঙ্গবন্ধু কন্যা এই হত দরিদ্র্য অজো পাড়া গায়ে অবহেলা অবজ্ঞা দীনহীন মানবেতর জীবন যাপন করা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়নের লক্ষ্যেই মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা/কোটা ইত্যাদিসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা যথা গ্যাস বিল পানি বিল বিদ্যুৎ বিল সিটি কর্পোরেশনের ট্যাক্স-আয়কর কিছুটা কমিয়ে সহজতর করার চেষ্টা করেছেন। যদিও এরই মধ্যে বিগত জামাত বি এন পি সরকারের অশুভ কর্ম পরিধি মুক্তিযোদ্ধার তালিকাকে কলুষিত ও কলঙ্কিত করেছে। তালিকায় নাম এসেছে ৪ বছরের দুধের শিশুর। বিধায় আসল মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেরই নাম আজো তালিকাভুক্ত হয়নি। যে সমস্যা নিয়ে আমরা অনেকেই হা হুতাশ এবং বর্তমান সরকারের মন্ত্রী নেতা ও কমান্ডারদের কঠোর সমালোচনা করে যাচ্ছি। অন্যদিকে অমুক্তিযোদ্ধা হাতিয়ে নিচ্ছে শেখ হাসিনার দেয়া সকল সুযোগ সুবিধাদি। “সকলের জন্য ধান, সকলের জন্য চাল, সকলের জন্য পানি, সকলের জন্য ভূমি, শিক্ষা, সকলের জন্য অন্ন বস্ত্র বাসস্থান, সকলের জন্য আর্থ সামাজিক উন্নয়নের সুসমবন্টন, সকলের জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধের ফসল, সকলের জন্য একটি সুখি সাচ্ছন্দ জীবন ব্যবস্থার জন্যই জাতিরজনকের আজীবন সংগ্রাম এই মহান “স্বাধীনতা”। সাড়ে সাত কোটি থেকে আজ আমরা ১৬ কোটি ৩৫ লক্ষে পৌছে গিয়েও সমাধান করা সম্ভব হয়নি হতভাগা মুক্তিযোদ্ধাদের সমস্যা। এর মূল কারন ১৯৭৫ সালে জাতিরজনক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সফল সংগঠক জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যা করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করা এবং পাকিস্তান আই এস আই’র পা’চাটা কুকুর স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে পুনঃপ্রতিষ্ঠার ফলে হারিয়ে গিয়েছে আসল মুক্তিযোদ্ধারা এবং দেশপ্রেমিক সোনার মানুষগুলো। “৭৫ পরবর্তী এমনও পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে যে ভয়ে অনেকেই স্বীকার করেনি যে আমি মুক্তিযোদ্ধা” বা আওয়ামী লীগ সমর্থনকারী । কি ভয়াবহ ছিল বাঙ্গালী জাতির ২১টি বছর! ভাবতে গেলে গা’শিউরে ওঠে! লক্ষ করলেই দেখা যাবে যে স্বাধীনতা বিরোধী আল বদর আল শামস আল-রাজাকারের কোন সন্তান অশিক্ষিত নয় এবং দারিদ্র্যসীমার নীচে জীবন প্রবাহ অতিবাহিত করে না। ভাগ্নে সজীব ওয়াজেদ জয় ” একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এর একটি সেমিনারে উল্লেখ করেছিলেন ” মহান স্বাধীনতায় বাঙ্গালী জাতি বিজয় অর্জন করলেও স্বাধীনতার সুফল মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তির ঘরে পৌছায় নি” কথাগুলো একটি ছোট মানুষের হলেও বিশাল এবং ব্যাপক অর্থে মহা দর্শনের চেয়েও অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ ছিল সজীব ওয়াজেদ জয়ের সে বক্তব্য। অতি সম্প্রতি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জনৈক মুনতাসীর মামুন স্যার এবং শাহরিয়ার কবীর (যিনি জীবনে তাঁর কোন লেখায় বঙ্গবন্ধুকে জাতিরজনক বলে স্বীকার করেন নি বা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোন লেখা প্রবন্ধ গল্প কাহিনী কখনো লিখেন নি কিন্তু তিনি রাজাকারের ফাসি চেয়েছেন) এই মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছিলেন এবং পরবর্তীতে নেত্রীর পরোক্ষ ধমক অর্থাৎ সান্টিং খেয়েই দালাল নির্মূল কমিটির দালালগণ থেমে গিয়েছিলেন। মুনতাসীর মামুন সাহেব আবার আওয়ামী লীগ সরকারের পয়সায় ইতোমধ্যে পবিত্র হজ্বব্রতটিও বীনা পয়সায় সেরে নিয়েছেন। যাক সে কথা লিখছিলাম। একটি বিষয় আমি ৭১ থেকে এ পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে লক্ষ করে এসেছি এবং হিসাব মিলিয়েও দেখেছি যে সাবেক শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান স্যারের কথার মধ্যে কিছুটা সত্যতা খুজে পেলেও এই ভাতা ও কোটার বিরুদ্ধে তাঁর মত বিচক্ষন ব্যক্তি জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সর্ব উচ্চ ডিগ্রিধারী একজন পণ্ডিত ব্যক্তির বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি সমর্থকের কলামে/ভাষায়/লেখায়/বলায়/ তর্কে /বিতর্কে বিরোধীতা কেমন যেনো বেমানান এবং অশালীনতার মতই গা’জ্বালাময় বক্তব্য। আমি তাঁকে চিনি এবং জানি। তিনি মনে প্রাণেই জাতিরজনকের একান্ত ভক্ত অনুসারী । কিন্তু এই হতভাগা দীনহীন অশিক্ষিত হত দরিদ্র্য অজো পাড়া গায়ের সর্ব কালের সর্ব শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের “অশিক্ষিত বা মূর্খ” শব্দটি ব্যবহার করে সর্বনাশ করে দিলেন! আমি হতবাক নজরুল স্যার! আপনার মত ব্যক্তির মূখে মুনতাসীর মামুন ও শাহরিয়ার কবীরের মত বস্তাপচা সস্তা হাত তালির প্রত্যাশায় এহেন বক্তব্য নিদারুণ বেদনাদায়ক এবং অসহনীয়। আমার গ্রামে আব্দুর রহিম সরদার নামে একজন মুক্তিযোদ্ধা। যার সন্তান এস এস সি পরীক্ষা দেবার ফি না দিতে পারার কারনে ঘরে বসে কাদতে ছিলেন। তারপরে যেভাবেই হোক অন্য কেউ ব্যবস্থা করেছিল। আজ যদি এই হত দরিদ্র্য আব্দুর রহিম সরদারের অর্থ থাকত তাহলে ইউনুক গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূর আলি স্যারের মতই এই রহিমের ছেলেও আমেরিকান ইন্টারন্যাসনাল স্কুলে ইংলিশ মিডিয়ামে নিউ ইয়র্কে লেখা পড়া করত এবং মাসের ঐ ১০ হাজার টাকা ভিক্ষা এবং ছেলেকে ভর্তি ফি না দিতে পারার যন্ত্রণায় কাতরাতে হতনা। কাজেই এই হত দরিদ্র্য রহিমের ছেলে যেভাবেই হোক পাস করে একটি চাকুরী নিতে যাবে। ১০০ মার্কের মধ্যে যদি সে ৮০ থেকে ৯০ ও প্রাপ্ত হয় তার চাকুরী হবে না। কেন জানেন? কারন একটি সরকারী চাকুরী নিতে গোটা দেশে এখন হাইব্রীড কাউয়া ফার্মের মূরগীর দালালদের নিকট প্রথমে দৌড়াতে হবে। তারপরে চুক্তি হবে দালালের সাথে। কত লাখ দিতে পারবেন? না না তা’ হবে না, কারন মন্ত্রী সাহেবকেই দিতে হবে ৫ লাখ। তারপরে ওমক নেতাকে দিতে হবে এবং এর মধ্য থেকেই আমার % রাখতে হবে। এখন আসুন আসল কথায় আমার গ্রাম দক্ষিন আকাল বরিশ ঐ যে হতভাগা বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম সরদারের ছেলে গল্প বলছিলাম-সে আব্দুর রহিম সরদার ওর বাপ দাদা ১৪ গুষ্ঠির সকল ঘর বাড়ী সহায় সম্বল কম্বল বিক্রয় করলেও ২ লাখ টাকার বেশী যোগার করতে পারবে না। আমার আত্মীয় আমার সহপাঠী, সহযোদ্ধা বন্ধু, আমি তার একান্তজন হিসেবে সবই জানি। সে আমারই এক ছাত্রীকে বিয়ে করেছিল। তাহলে নজরুল স্যার আপনি যে বললেন সকল % কেটে মাত্র ৫% কোটা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সীমিত রাখতে, বাকীটা কি ঐ সকল আল বদর আল শামস আল রাজাকারের সন্তানের জন্য রাখতে বলছেন? নাকি আপনার ছেলে মেয়ে অথবা মুনতাসীর মামুন ও শাহরিয়ার কবীরের ছেলে মেয়েদের জন্য রাখতে বলছেন? তবে স্যার একটা কথা জেনে রাখবেন-মনে রাখবেন ” জাতিরজনকের ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ও ২৬শে মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণায় উল্লেখ করা উচিত ছিল যে অশিক্ষিত মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করতে পারবে না – শুধু আপনাদের মত মহা জ্ঞানপাপী পন্ডিত বর্ণাঢ্য ব্যবসায়ী সুদখোড় ইউনুসের মত ধনকুবের লুটেরা, রাজাকার মুসা বীন শমসেরের (লুনা মুসার) মত গোটা বাংলাদেশের খেতে খামারে ব্রিটিশ সরকারের গাঁরা ম্যাকনেট চুরি করে বিক্রয়কারী) মুনতাসীর মামুনের মত দালাল এবং শাহরিয়ার কবীরের মত সুবিধাভোগি চাটুকর তোষামোদকারীরাই মুক্তিযুদ্ধ করতে পারবে। যেহেতু বঙ্গবন্ধু কৃষক শ্রমিক জেলে তাতী কামার কুমার ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার কবি শিল্পী সাহিত্যিক লেখক নৌকার মাঝি ইঞ্জিনের ড্রাইভার অথবা রিকশা/ভ্যানগাড়ী চালক/বাসের ড্রাইভার/হেল্পার/ঠিকাদার কারো কথাই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে স্পষ্ট উল্লেখ করেননি। সেহেতু আপনাদের এহেন অবান্তর অহেতুক কোটার বিরোধী তথা হত দরিদ্র্য দীনহীন মজদুর অজো পাড়া গায়ের নিভৃত পলীতে রাত দিন আপনাদের মূখের অন্ন ফলানোর কাজে ব্যস্ত বয়োবৃদ্ধ অশিক্ষিত মুক্তিযোদ্ধের “অশিক্ষিত” বলে সম্বোধন করে মহান মুক্তিযুদ্ধের মহা নায়ক হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতিরজনকের বিদেহী আত্মাকে কষ্ট দেবার চেষ্টা থেকে বিরত হোন। আপনি ভালো থাকুন। সুন্দর থাকুন। আমরাত অশিক্ষিতই; সে দোষ ত আমাদের না স্যার? সে দোষ পশ্চিমা শোষক হায়েনা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ লিয়াকত আলী খান আইউব খান টিক্কা খান, মোনায়েম খানদের। “সাত কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী রেখেছ বাঙ্গালী করে মানুষ করনি।”- কবির এ মর্মবেদনা অনেক পুরোনো।সেদিনের কবির চেতনায় আগুন ধরেছিল বঙ্গ সন্তানদের চেহারা দেখে। তাই বড় আফসোস করে কবি তার বেদনা দগ্ধ চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন কাব্যিক ছন্দে।কিন্তু আজ অনেক চড়াই উৎরাই ঘাত প্রতিঘাত আর উস্থান-পতনের মাধ্যমে স্বাধীনতার এতো বছর পরেও বাঙ্গালীর জাতির পিতা নিয়ে আমরা নষ্ট খেলা,ইতিহাস নিয়ে টানাটানি এবং অপবাদ নিয়ে মেতে আছি। আমরা আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে, সংশয় এবং মানা না মানার মধ্যে দিয়ে যে নষ্ট খেলায় মেতে আছি তা শুধু আমাদের জন্য অপমান জনক না বরং তা আমাদের বিশ্বের মানচিত্রে অতি নগ্ন হিসাবেই পরিচিত লাভ করাতে দ্বিগুন সাহায্য করে। ঠিক তেমনি মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রণয়নে এবং ভাতা ও কোটা নিয়েও আপনারা আজ জাতিরজনক নেই বলেই টানা হেচড়া করে সন্মানের বদলে অসন্মান করছেন। তাহলে আমাদের ঢাকা ষ্টেডিয়ামে ডেকে কেন বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে অস্ত্র জমাদানের প্রাক্কালে জীবন প্রদ্বীপ নিভিয়ে দিলেন না?

শেখ মুজিবের ছাত্রজীবন আদর্শ ও দেশপ্রেমের প্রতিকৃতি।

শেখ মুজিবের ছাত্রজীবন
আদর্শ ও দেশপ্রেমের প্রতিকৃতি। 
শেখ মুজিবের ছাত্রজীবন : আদর্শ ও দেশপ্রেমের প্রতিকৃতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবনের স্বপ্ন ছিল বাংলার স্বাধীনতা ও বাঙালির জাতিসত্তার প্রতিষ্ঠা। শৈশব কৈশোর থেকে তিনি এই আদর্শ নিয়েই বড় হয়ে ওঠেন। নিজেই নিজেকে প্রস্তুত করে তোলেন। তাঁর এই চারিত্রিক দৃঢ়তার পেছনে ছিল গভীর অধ্যয়ন, জানা-চেনা-শোনা ও দেখার গভীর অন্তর্দৃষ্টি। তিনি হৃদয়ের আবেগকে যথেষ্টভাবে ধারণ করতে সমর্থ হন। এর পেছনে ছিল মানুষকে ভালোবাসা ও সাহায্য করার জন্য তাঁর দরদী মন। এই শিক্ষাটা তিনি অর্জন করেন তাঁর পরিবারের মানুষদের দেখে, তাঁর গৃহশিক্ষকের কাছে এবং দারিদ্র অভাবগ্রস্থ গ্রামের মানুষকে দেখে। তাঁর হৃদয়ে যা কিছু ছাপ রেখেছে বা প্রভাব ফেলেছে সেটা তিনি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। এই ক্ষমতা অল্প বয়স থেকেই তাঁর আয়ত্তে ছিল। তাঁকে চিন্তাচ্ছন্ন করে তুলতো, তাঁকে আবেগতাড়িত করতো। তাঁর জাতির পিতা বা বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠার পেছনে তাঁর গ্রাম টুঙ্গিপাড়ার মানুষের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। এই ছোট্ট অনুন্নত গ্রাম ও মানুষের মধ্যে তিনি লক্ষাধিক গ্রাম ও কয়েক কোটি মানুষকেও দেখেছেন। আর সেজন্যই বাঙালি জাতির ভাগ্যকে তিনি জয় করতে গিয়ে তিনি নিজের জীবনের প্রতি তাকিয়ে দেখার সুযোগ পান নি। জেল-জুলুম, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, শাসকগোষ্টীর অত্যাচার– সবকিছু সহ্য করেছেন। কিন্তু বাংলার মানুষের সঙ্গে কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। তাঁর লক্ষ্য ছিল বাংলার মানুষের মুক্তি। বাঙালি উন্নত জীবনের অধিকারী হোক। বিশ্বে মাথা উচু করে দাঁড়াক। বাঙালি জাতিসত্তাকে প্রতিষ্ঠা করুক। একজন মহান নেতা হবার সবকটি গুণই আমরা তার মধ্যে খুঁজে পাই। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবের জন্ম হয়। মা-বাবার চোখের মণি, ভাই-বোনের আদর ভালোবাসা, আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশি সকলের কাছেই ছিল তার সমাদর। গ্রামের মাটি-আলো-বাতাসের স্পর্শ নিয়ে প্রকৃতির শান্ত শীতল সবুজ ছবিটি দেখে তিনি বড় হয়ে উঠলেন।
গিমাডাঙ্গা প্রাইমারি স্কুলে লেখাপড়া করেন। বাড়িতে লেখাপড়ার জন্য শিক্ষক, মৌলভী ও পণ্ডিত ছিলেন। গ্রাম থেকে গোপালগঞ্জ শহরে এসে মিশন স্কুলে ভর্তি হন। পিতা ছিলেন গোপালগঞ্জ দেওয়ানী কোর্টের সেরেস্তাদার। স্কুল ছাত্রজীবনেই তাঁর চোখে বেরিবেরি রোগ হওয়ায় কলকাতায় গিয়ে ডা. টি. আহমদের কাছে অস্ত্রপচার করতে হয়। দুই বছর লেখাপড়া বন্ধ ছিল। এ সময়টায় তিনি ঘুরে বেড়াতেন, সভায় গিয়ে বক্তৃতা শুনতেন, গৃহশিক্ষকের কাছে অনেক কথা কাহিনী ও খবরাখবর শুনতেন। সুস্থ হওয়ার পর তিনি আবার স্কুলে ভর্তি হন, খেলাধুলায়ও মনোযোগী হন। ফুটবল ছিল প্রিয়। স্কুলের দলের হয়ে খেলতেন। লেখাপড়া করতেন ঠিক মত, কেননা তাঁর মা-বাবার প্রচন্ড উৎসাহ ছিল এবং তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ছিল, শাসনও ছিল। তাঁর গৃহশিক্ষক কাজী আবদুল হামিদ ছিলেন একজন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কর্মী যিনি আত্মগোপন করতে তাদের বাসায় আশ্রয় নেন। সেই শিক্ষকই শেখ মুজিবের জীবনকে আলোকিত করার প্রথম প্রদীপটি জ্বালান। তিনি তাঁকে ইতিহাসের শাসকদের গল্প শোনান। বিপ্লব-বিদ্রোহের কাহিনী শোনান। বাংলার ইতিহাস কিশোর মুজিবের কাছে ছিল এক আদর্শময় পাঠ। বাঙালির কৃতিত্ব, শিল্প–সাহিত্য-সংস্কৃতির জ্ঞানও তিনি ধীরে ধীরে গ্রহণ করেন। এই শিক্ষা গ্রহণ করার পাশাপাশি সেই সময়ের বৃটিশ শাসকদের শাসন ও শোষণ, গান্ধিজীর আন্দোলন, হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক, রাজনৈতিক আন্দোলন, সামাজিক সমস্যাবলী, বন্যা-দুর্ভিক্ষ, খাদ্যাভাব – সবই তিনি তাঁর গভীর পর্যবেক্ষণ শক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। স্কুল ছাত্র জীবনেই তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। যারা রাজনীতি করতেন তাদের খুব কাছাকাছি চলে যান। ঐ সময়ে বাংলার প্রধানমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হক ও মন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক সফরে এলে তিনি তাঁদের সামনে গিয়ে স্কুলের ছাদ দিয়ে পানি পড়ার অভিযোগ তুলে ধরেন এবং মেরামতের দাবি জানান। তাঁর কথা বলার ভঙ্গি দেখে দুই নেতাই মুগ্ধ হন। সোহরাওয়ার্দী তাঁকে কাছে ডেকে কথা বলেন এবং এলাকার রাজনৈতিক খবরাখবর নেন। তিনি ঠিকানা দিয়ে চিঠি লিখতেও বলেন। শেখ মুজিবের সঙ্গে সেই প্রথম সম্পর্ক গড়ে ওঠে যা আজীবন ছিল। সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক আদর্শ শিষ্য হিসেবে শেখ মুজিব গড়ে উঠতে থাকেন। সেই সফরে সম্বর্ধনা জানাতে একটি কমিটি গঠিত হয়। পরবর্তীতে সেই কমিটির একটি গোলমালের ঘটনায় শেখ মুজিবসহ চার পাঁচজনকে আসামী করে বিরোধীরা থানায় একটি মামলা করে। গোপালগঞ্জ থানা হাজতে সাতদিন বন্দি থেকে জামিনে মুক্তিলাভ করেন। পরবর্তীতে ১৫০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিলে মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
সেই তাঁর প্রথম কারাজীবন এবং এটাও তাঁর জীবনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। ১৯৪২ সালে এন্ট্রান্স পাশ করে শেখ মুজিব কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন। বৃটিশ শাসিত দুই বাংলা একত্রে বাংলা বা বেঙ্গল হিসেবে পরিচিত ছিল। বাংলার মেধাবী, মননশীল ছাত্ররা ইসলামিয়া কলেজে লেখাপড়া করতো এবং বেকার হোস্টেলে থাকতো। ১৯২৬ সালে ইসলামিয়া কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৭ সালে এর নামকরণ হয় সেন্ট্রাল কলকাতা কলেজ। ১৯৬০ সালে উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ মাওলানা আবুল কালাম আজাদের নামে রাখা হয়। বর্তমানে মাওলানা আজাদ কলেজ নামে পরিচিত। শেখ মুজিব এখান থেকে ১৯৪৪ সালে আই.এ. এবং ১৯৪৭ সালে বি.এ. পাশ করেন। কলেজের পাশের রাস্তায় তালতলা থানার কাছেই বেকার হোস্টেল। তিনতলা বিরাট ভবন। শেখ মুজিব তিনতলার বাঁদিকের সামনের সারির কোনায় ২৪নং কক্ষে থাকতেন। ছোট্ট কক্ষ, কোন ফ্যান ছিল না তখন। একটি ছোট্ট খাট। পাশেই কাঠের তৈরি পড়ার টেবিল ও চেয়ার। একটি ছোট্ট আলমারীও আছে। বর্তমানে এটি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কক্ষ নামে পরিচিত। তাঁর ছবি ও তাঁর সম্পর্কিত লেখা বইয়ের একটি আলমারিও আছে। পাশের ২৫ নম্বর কক্ষটিও এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্য রাখা হয়েছে। দরোজার পাশে দেয়ালে বঙ্গবন্ধুর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনীও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এই দুটি কক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও তাঁর সঙ্গীসাথীরাও থাকতেন। সারাদেশ থেকে তাঁর ছাত্র রাজনীতির কর্মী, ভক্ত ও অনুরাগীরা এসে দেখা করতো এখানেই। অনেক সভা করেছেন হোস্টেলে। হোস্টেল সুপার ছিলেন অধ্যাপক সাঈদুর রহমান। ছাত্র-কর্মীদের থাকার জন্য শেখ মুজিব খালি রুম বা বড় হলঘর চাইলেই তিনি কখনও না করতেন না। শেখ মুজিবের প্রতি তাঁর একটা আলাদা স্নেহ-ভালোবাসা ছিল। ইসলামিয়া কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ছিলেন ড. এইচ. আর. জুবিরী। 
শেখ মুজিবের প্রতি তাঁর ছিল অপার স্নেহ। বিশেষ করে বি.এ. পরীক্ষায় বসার জন্য তিনি তাঁকে সবরকম সহযোগিতা করেছিলেন। কেননা দাঙ্গা-হাঙ্গামা, পুনর্বাসন ইত্যাদি কর্মকান্ডে শেখ মুজিব তখন ব্যস্ত থাকতেন। মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। একদিকে ছাত্রনেতা হিসেবে বলিষ্ঠ সংগঠক ছিলেন, অপরদিকে মুসলিম লীগের ড্রইংরুম রাজনীতিকে সাধারণের মাঝে নিয়ে আসার কাজে তিনি সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশেমের যোগ্য শিষ্য ছিলেন। বেকার হোস্টেলের ছাত্র সংসদের নেতৃত্বও তিনি নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং একবার সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। শিক্ষক ও ছাত্র সকলের প্রিয় ছিলেন শেখ মুজিব। তাঁর আদর্শ, সাহস ও চিন্তা-ভাবনার প্রতি সকলের শ্রদ্ধা ছিল। স্কুল ছাত্রজীবন থেকেই শেখ মুজিব দেশের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৩৮ সালে মুসলিম লীগের ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে সিরাজগঞ্জে প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সম্মেলনে যোগদান করে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এ সম্মেলনে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহসহ ভারতের বড় বড় নেতৃবৃন্দ যোগদান করেন। এছাড়াও দিল্লীতে ভারতীয় মুসলিম লীগের সাধারণ সম্মেলনে তিনি দুইবার যোগদান করেন। 
সেখানেও নেতাদের ভাষণ শুনে তিনি অনুপ্রাণিত হন। কলকাতায় ছাত্রাবস্থায় তিনি দাঙ্গা দেখেছেন ও রুখেছেন। ১৯৪৬ সালের সাধারণ নির্বাচনেও তাঁর ভূমিকা ছিল। ছাত্রজীবন থেকেই দেশপ্রেম ও দেশের জন্য কাজ করা তাঁর স্বভাবের অংশ হয়ে ওঠে। ছাত্রজীবনে তাঁর কর্মকাণ্ড, বিচক্ষণতা ও ভাষণ শুনে সবাই আকৃষ্ট হতো। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরে শেখ মুজিব ঢাকায় এসে ১৪০নং মোগলটুলীর ‘কর্মী-ক্যাম্পে’ ওঠেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং সলিমুল্লাহ হলে মাঝে মাঝে থাকতেন। 
ঢাকায় এসে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং মুসলিম ছাত্রলীগের স্বেচ্ছাচারিতা ও বাংলা বিরোধী ভূমিকার জন্য তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করেন। তিনি পূর্ব বাংলা মুসলিম ছাত্রলীগ গঠন করেন। যুবলীগেরও একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। খাজা নাজিমুদ্দিনের বাংলাভাষাবিরোধী ভূমিকা এবং উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার হুমকির বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সমাজ যখন গর্জে ওঠে, তিনিও তাদের সঙ্গে নেতৃত্ব দেন। ১৯৪৮ সালে প্রথম প্রতিবাদ ও হরতাল পালিত হলে শেখ মুজিবও সবার সঙ্গে গ্রেফতার হন। পরে পূর্ব বাংলার মূখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়ে সবাইকে মুক্তি দেন। এরপর শেখ মুজিব কৃষকদের দাবি নিয়ে আন্দোলন করেন। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করেন। এসময় উপাচার্যের বাড়ি ঘেরাও কালে তাঁকেও পুলিশ গ্রেফতার করে এবং অনেকগুলো মামলা দায়ের করে। কারাগারে থাকার সময় তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগের যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন। জেল থেকে বের হয়ে এক ছাত্রসভায় বক্তৃতা দিয়ে তিনি ছাত্র রাজনীতি থেকে বিদায় নেন এবং জাতীয় রাজনীতিতে যোগদান করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে বহিস্কার করা হয়েছিল। জেলে থাকাকালে সরকার তাঁকে জরিমানা ও মুচলেকার প্রস্তাব দেয় এবং জানায় তিনি যদি রাজনীতি না করেন, তাহলে ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেয়া হবে। তিনি সরকারি প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছিলেন। 
কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে শেখ মুজিব টুঙ্গিপাড়ায় গ্রামের বাড়িতে কিছুদিন অবস্থান করেন। তাঁর পিতা শেখ লুৎফর রহমান তাঁকে লন্ডনে গিয়ে ব্যারিস্টারি পড়তে বলেন। কিন্তু শেখ মুজিব ততদিনে পাকিস্তানের শাসকদের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তকে অনুধাবন করে ফেলেন। তিনি তাঁর প্রিয় বাংলার জনগণকে পাকিস্তানের শোষণের মধ্যে ফেলে রেখে লন্ডনে গিয়ে আর পড়তে চাইলেন না। তিনি রাজনীতি করার সদিচ্ছা প্রকাশ করে বাংলার মানুষের আদায়ের দাবিতে আবার ঢাকা চলে এলেন। তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা জীবনের ইতি ঘটে। কিন্তু ঘরে বসে বই পড়ার অভ্যাস থাকায় তিনি একটি লাইব্রেরি গড়ে তোলেন। স্বচ্ছ মনের মানুষ ছিলেন, রাজনৈতিক চিন্তার দিক থেকে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ছিলেন, সাহসী, সৎ ও দৃঢ় চারিত্রিক আদর্শের অধিকারী ছিলেন।

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আতঙ্ক ছিলেন একমাত্র শেখ মুজিব। মন্ত্রীত্বের লোভ, লাইসেন্সের টোপ এবং ব্যবসা-বানিজ্যের নানা সুযোগ সুবিধা দিয়ে তখন অনেক নেতাকে ক্রয় করা যেত। কিন্তু শেখ মুজিব তাঁর লক্ষ্যে দৃঢ় ছিলেন। জেল-জুলুম মামলা–ফাঁসির ভয় তাঁর মাথা নত করতে দেয়নি। বাংলার মানুষের মুক্তির দাবিতে, অধিকার আদায়ে, শোষণের বিরুদ্ধে তিনিই ছিলেন সোচ্চার প্রতিবাদী। তাঁর বজ্রকন্ঠ পাকিস্তানের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। দেশ ও মানুষকে তিনি তাঁর হৃদয়ের আধেয় করে একজন আত্মত্যাগী দেশপ্রেমিক নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হন। ছাত্রজীবন থেকে যে শিক্ষা ও দীক্ষা তাঁর জীবনকে আলোকিত করে তোলে, তার শিখা চিরন্তন করে রেখে গেছেন তিনি।

সঙ্গত কারনেই বিচার চাই; একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিচার পাওয়ার অধিকার আমার আছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক আমার মত একজন সামান্য ক্ষুদ্র মুক্তিযোদ্ধার আবেদন গ্রহণ না করে মেজর জেনারেল (অব) সুবিদ আলী ভুইয়ার কথায় আমাকে অপমান করে তাড়িয়ে দিতে পারেন না। আমি ভারতে প্রশিক্ষন নেয়া মুক্তিযোদ্ধা। আমার অধিকার আমাকে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং মোজাম্মেল হকের ক্ষমা চাইতে হবে। এর জন্য যা’করার তাই করবো ইনশাহ আল্লাহ্‌। হয়তো আওয়ামী লীগ সরকার ক্রস ফায়ারও দিতে পারে। সে জন্য কোন মুজিবসেনা জয় বাংলা শ্লোগান দিতে পিচ পা হয়না; সে জন্য কোন মুক্তিসেনা মৃত্যুর পরোয়া করে পিচ পা হতে জানে না। এ কথা আ ক ম মোজাম্মেল হকের জানা নেই। বিচার চাই। সঙ্গত কারনে বিচার চাই। মুক্তিযোদ্ধা হতে চাইনা। সনদের কপালে থু থু দেই মোজাম্মেল সাহেব। আপনার জন্য আমার নির্বাচনী প্রচারে নামতে হবে না? আপনার জন্যওত আমার কিছু দায় দায়িত্ব আছে না কি বলেন?

আপনার ঘুম হারাম করে দেবো যদি মেরে না ফেলেন। আপনার পৃথিবী কানা করে ফেলবো পোষ্টারে পোষ্টারে। ঠেলা সামলান। দেশে কি বিচার ব্যবস্থার এতই অবনতি হয়েছে যে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী লাঞ্ছিত করছে আর তার বিচার হচ্ছে না? তাহলে জামাত বি এন পি র অত্যাচারী স্বৈরাচারী সরকার আর মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানকারী সফল রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

জামাত শিবির মুক্তিযোদ্ধাদের মার ধর করে, আমরা প্রতিবাদ করি। আজ আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী ভারতে প্রশিক্ষন নেয়া একজন মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করছে; তার কেন প্রতিবাদ হল না? তার কেন বিচার হবে না? তাহলে কি আওয়ামী লীগ সরকার ও মন্ত্রী পরিষদ স্বেচ্ছাচারী হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখতে যাচ্ছে? হারিয়ে যেতে বসেছে মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগ মহিমা গৌরব ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের তপস্যা সাধনা শ্রম ও জেল জুলুমের মহাত্ম? 

৩০ লক্ষ শহীদদের আত্মত্যাগের মহিমা কি এই আ ক ম মোজাম্মেল হকদের দ্বৌরাত্বের নিকট হেরে গেল? 

২ লক্ষ ৪০ হাজার মা বোনের ইজ্জত ও সম্ভ্রমের কি মর্যাদা প্রদান করলো আওয়ামী লীগ? 
প্রতিকার চাই। বিচার চাই; এটাই শেখের বেটির নিকট শেষ প্রত্যাশা। 
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

মুক্তিসেনারা পিছু হটতে জানে না। 

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

জাতিরজনকের আদর্শ নিয়ে ব্যবসা করেন?

যে সকল লোভী দুর্নীতি পরায়ন নেতা মন্ত্রী জাতিরজনকের আদর্শ নীতি, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উদ্দেশ্যকে গলা টিপে হত্যা করছে; সে সকল হায়েনা মুক্তিযোদ্ধা নামের দস্যুদের হত্যা করুন; এরা শেখ হাসিনাকেও একদিন ১৫ই আগষ্টের মত মিথ্যা বানোয়াট দুর্ভিক্ষ দেখিয়ে হত্যা করে ক্ষমতার মসনদে বসবে; এরাই একদিন খুনি জিয়ার কামানের উপর দাঁড়িয়ে লুঙ্গি ড্যান্স দিবে; এরাই একদিন বংগভবনে খন্দকার মোস্তাকদের সাথে মিষ্টি বিতরন করবে; এরাই একদিন বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজাতে চাইবে; এদের এখনি হত্যা করুন;

আকম মোজাম্মেল হক সাহেব জাতিরজনকের আদর্শ নিয়ে ব্যবসা করেন? মিথ্যার বেসাতি দিয়ে আওয়ামী লীগকে কলুষিত করেন? মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে রঙ তামাশা করেন? আপনার চরিত্র জাতি জেনে গেছে। নিজেকে সামাল দিন; জনতার রায় কেউ ঠেকাতে পারবে না। বঙ্গবন্ধুর নাম বিক্রয় করে আর কত দিন? জাতিরজনকের আদর্শ নিয়ে ব্যবসা করেন? বঙ্গবন্ধুর নাম আদর্শ নীতি চেতনা আত্মজীবনী ইত্যাদিকে সম্বল করে আজ দুপয়সা কামিয়ে নিচ্ছেন, তাঁদের জন্য বলি; ভাই এ দিন দিন নয়; আরো দিন আসিবে; সেদিন যেনো ভোটের জন্য আমাদের হাতে পায়ে না ধরেন। নির্বাসিত নায়ক নির্বাসিত নায়ক মোজাম্মেল হক সাহেব, মুক্তির কয়টি ফেসবুক টুইটর গুগল ইয়াহু ব্লগ ওয়েবসাইট হ্যাক করবেন বা বন্ধ করবেন? বন্ধ করতে হলে মুক্তিকেই চির তরে বন্ধ করে দিতে হবে। বাপের ব্যাটা হলে সেটা করে দেখান। নইলে পদত্যাগ করেন। 


একজন প্রকৃত বন্ধু কোন দিনই আর একজন বন্ধুর সব কথা ও কাজের প্রশংসা করবে না; যারা করে তারা চাটুকর; আজকের আওয়ামি লীগের জন্য চাটুকরের কোন কমতি নেই। ভালোরা দূরে থাকুন সেটাই আওয়ামী লীগ প্রত্যাশা করে; এই প্রত্যাশা আওয়ামী লীগকে ১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্টের ভয়াবহতাকে ছাড়িয়েও যেতে পারে। সেদিনও বাকশাল গঠনের নামে মোস্তাক শাহ মোয়াজ্জেম তাহের উদ্দিন ঠাকুন নুরুল ইসলাম, চাষী মাহবুবুল আলমের গল এভাবেই বঙ্গবন্ধুর পা’চাটতে শুরু করেছিল। একমাত্র বংগতাজ তাজুদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানই পা’চাটতে জানতেন না।

নীতির সাথে আপোষ হয়না-জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু 
the policy doesn’t compromise=father of nation bangabandhu that’s all my dear friends, no compromise with a k m mozammel haque what ever will happen, i damn care! 65 years old freedom fighter never thinking when he have to be expired.
ইতিহাস কাউকে ক্ষমতা করে না। অতীতের সকল ভুল ভ্রান্তি থেকে আওয়ামী লীগকে শিক্ষা নিতে হবে। নইলে আফসোসের সময় থাকবে না।আ ক ম মোজাম্মেল হকের একশন শুরু হয়ে গেছে। আমার সব গ্রুপ ও পেজ ব্লক করা হয়েছে অফিসিয়াল্লি।
গুড এটাইত চেয়েছিলামকেউ অগণতান্ত্রিক পন্থায় নিজের অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করলে; আমরাও মাইক বাজিয়ে প্রচার করতে জানি; মন্ত্রী মহোদয়! ফেসবুক আ ক ম মোজাম্মেল হকের ১৪ পুরুষের পৈত্রিক সম্পত্তি নয় আর ফেসবুক আমার প্রতিদিনের বাজার করে দেয়না ফেসবুক চালাইতেই হবে এমন কোন চুক্তিত হয়নি কারো সাথে? তবে একশন শুরু হলে-মুক্তি ছাড়াও বহু আইডি রয়েছে








মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার সমীপে মুক্তির ফরিয়াদ

মো: মাহমুদ হাসান ঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোক্তেল হোসেন মুক্তি ১৭ই মে ২০১৭ বিকাল ৩.৪৫ এ 
নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এবং “কালকিনি মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি” বরাবরে আবেদন করে যে ফেসবুক স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন, তা হুবহু নিচে উল্লেখ করা হলো: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোক্তেল হোসেন মুক্তির ফেসবুক স্ট্যাটাস: মাননীয় নৌ পরিবহন মন্ত্রী মহোদয়, আপনি মাদারীপুর জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের দায়িত্বে এবং কালকিনি মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি। আপনার নিজের অবস্থান, আপনার মান-সন্মান, মর্যাদা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আপনার অবদান থেকে আমরা শিখেছি। ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থানের অগ্রভাগে আপনাদের শিখানো শ্লোগানে মূখরিত করেছি আমরা। আপনাদের প্রেরণা ও উৎসাহে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি আমরা। কেউ আপনার আত্মীয় নয়; কেউ আপনার পর নয়; সবাই আপনার নিকট সমান। আপনি আমাদের নেতা। আপনাকে আমরা মাদারীপুরবাসী আমাদের যোগ্য প্রতিনিধি, যোগ্য নেতা বলে শ্রদ্ধা করি, সন্মান করি; মিছিল করি, উল্লাস করি; আপনার আগমনে কালকিনি তে নব জোয়ার এসেছে। প্লিজ, ভারতে প্রশিক্ষণ দেয়া অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকায় নেই এবং এ মহান দায়িত্ব আপনার উপর। আপনি অন্যায় অবিচার করলে আমরা আর কার নিকট যাবো? সবাইতো আর নেত্রীর সাথে দেখা করতে পারেন না। আজ যারা কালকিনিতে কমান্ডার বলে খ্যাত, এদের অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা নয়; এমন কি আমার ইউনিয়ন বাঁশগাড়ীর সকল মুক্তিযোদ্ধাদের আমার চেয়ে তো অন্য কেউ বেশী চিনে না, জানে না; এখানে আসল মুক্তিযোদ্ধারা এমন কি ব্যারাকপুর মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ কালীন কমান্ডার হানিফ মাহমুদ (নিউজিল্যান্ড প্রবাসী) এর নামও তালিকায় নেই, যিনি চাঁদপাড়া রিসিপশন ক্যাম্পের সহকারী ইন-চার্জ ছিলেন। হায়দার বেপারী, যিনি স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এবং ৭১ সালে চাঁদপাড়া ক্যাম্পের ইন-চার্জ মাদারীপুর-কালকিনি-৩ আসনের প্রথম এম পি (এম সি এ) বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এডঃ মতিউর রহমান (মতিভাই)র সাথে তাঁর বাসায় থাকতেন এবং ক্যাম্প অফিসের কাজ করতেন। তার দরখাস্তও আপনি গ্রহণ করেননি; বড় কষ্ট পেয়েছি; যারা মুক্তিযোদ্ধা নয়; তাদের সাথে আপনি হেসে কথা বললেন-গল্প করলেন, তাদের কাগজপত্র স্বাক্ষর করলেন আর যে আসল মুক্তিযোদ্ধা তাঁকে ফিরিয়ে দিলেন; সে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে গেল; এ দুঃখজনক ঘটনা আপনার দ্বারা সংঘটিত হওয়ায় অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে ছিলাম এবং লাল বইতে আমার নাম না থাকা সত্বেও আমি কথা বলেছিলাম।
ওদের সমর্থন করেছিলাম, আপনার মনে আছে হয়তো। মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিশেষ করে যারা বঙ্গবন্ধুর অবদানকে অস্বীকার করেছে এবং এখনো করছে, তাঁরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সকল সুযোগ সুবিধা পাবে, তাও আবার আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাকালীন এবং আপনার মত মাদারীপুর কাঁপানো আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রীর সামান্য ভুলের কারনে? এটা ঠিক কিনা? আপনি নিজেই অনুধাবন করুন। আমরা আপনার সুবিবেচনা ও সুবিচারের প্রত্যাশায় অধীর আগ্রহে বসে থাকলাম তাছাড়া আঞ্চলিক সমস্যাগুলো নেত্রী সরাসরি না জেনে কিভাবে সমাধান করবেন? এ মহৎ কাজটি আপনাকেই করতে হবে। ভারতে প্রশিক্ষণ নেয়া আমার সহযোদ্ধা অনেকেই আর বেঁচে নেই; তাদের পরিবার বঞ্চিত হল মহান স্বাধীনতার ফসল থেকে। এ কাজ যারা করেছে, তারা তাদের ইচ্ছে মত অর্থ নিয়ে ৭১ এর স্বাধীনতা বিরোধীদের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় লিখে দিয়েছে। যে সমস্যা মাদারীপুরের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের কলুষিত করছে, সে সমস্যা কেন্দ্রীয়ভাবে সমাধান হবার নয়; যার যার জেলা উপজেলায়ই সমাধানযোগ্য। আমার মুক্তিযোদ্ধা হবার সখ মিটে গেছে, কিন্তু ঐ হতভাগাদের কি হবে? যারা ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের নাম মূখে আনেনি, তারা ভাতা পাচ্ছে, তাদের সংসার ভালো চলছে, আর যারা জীবনবাজি রেখে যুদ্ধে গেল, যুদ্ধ করলো তাদের নাম নেই; এ কলঙ্ক এ ব্যর্থতা যে কোনভাবেই হোক আওয়ামী লীগ সরকারের এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার উপরই বর্তায়। কারন, আওয়ামী লীগ মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদান করেছিল। আপনি আমাদের শেষ ভরসা-আপনার রিপোর্ট অনুযায়ী চূড়ান্ত তালিকা হবে। মহান আল্লাহ্‌ যেনো আপনার দ্বারা কোন ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণের কলঙ্ক দিয়ে আপনার বাবা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠজন সহযোগি, আওয়ামী লীগের সংগঠক ও দুর্দিনের কান্ডারী মরহুম এডঃ আচমত আলী খানের সারা জীবনের কষ্ট, সাধনা, সাফল্য কলঙ্কিত না করে সে দোয়া করি; আপনি আরো উপরে যান; আল্লাহ্‌ আপনাকে সঠিক মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিতকরনে সহযোগিতা করুক। আমিন ! 
 আমার নিজস্ব অভিমত: 
একটা জাতি কতটুকু দুর্ভাগা হলে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সকল আবেদন, নিবেদন ব্যর্থ হওয়ার পর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি বরাবরে আবেদন করতে হয়, এটা ভাবতে গেলে গা শিউরে ওঠে। ইচ্ছে হয়, রাষ্ট্রের কর্ণধারদের টুঁটি চেপে ধরে রাস্তায় টেনে এনে মিশিয়ে দেই ধুলোর সাথে; কিন্তু, বাস্তবে তা সম্ভব নয়। নষ্ট পূঁজিবাদী একটি রাষ্ট্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বললে এখন টিটকারি, লাঞ্চনা-গঞ্জনা সইতে হয়, যদিও শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে, কিছু রায়ও হয়েছে, কিছু রায় কার্যকরও হয়েছে। কিন্তু, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা আদৌ কোথাও সন্মানিত হচ্ছে কি, জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় একটি মরণোত্তর রাষ্ট্রিয় গার্ড অব অনার পাওয়া ছাড়া, আমার জানা নেই। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নয়, অথবা কোন আমলা নয় এমন সাধারন মুক্তিযোদ্ধাকে দিয়ে আজ পর্যন্ত্য রাষ্ট্রের কোন একটি স্থাপনার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন বা উদ্বোধন করানোর মাধ্যমে সন্মান জানানো হয়েছে কি? ব্যক্তি বা সমাজের কিছু লোকের উদ্যোগে কোন মুক্তিযোদ্ধার নামে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কোন লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠিত হলে সেই প্রতিষ্ঠানটিকে আলাদাভাবে একটু বেশি সুবিধা দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সন্মানিত করার কোন অনুরোধ কোন মহল থেকে করা হলেও মি. বিধি-বিধানের অদৃশ্য সূতোর টানে প্রতিষ্ঠানটিই অস্তিত্বের সঙ্কটে পড়ে এ নজির বহু আছে, ফরিদপুর অঞ্চলে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের কথা এ মূহুর্তে মনে পড়ছে, “মৃগী শহীদ দিয়ানত কলেজ”; যেটির অস্তিত্ব সঙ্কটকালে সে সময়কার কলেজ শিক্ষক সমিতির নেতা হিসেবে কিছুটা সহায়তা করেছিলাম, ছাত্র জীবনের বন্ধু তৎকালীন কলেজ অধ্যক্ষের কাছে সব জেনে।
মাদারীপুর জেলার (সাবেক ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর মহকুমার) কালকিনি উপজেলার (সাবেক কালকিনি থানার) বীর মুক্তিযোদ্ধা মালদ্বীপ প্রবাসী “মোক্তেল হোসেন মুক্তি”র গত কয়েকদিনের কিছু ফেসবুক স্ট্যাটাস ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে রাষ্ট্র কত হীনভাবে অপমান করছে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। ওনার কিছু স্ট্যাটাস এতোই হৃদয়বিদারক যে, তা জনসমক্ষে প্রকাশযোগ্য নয়, তরুণরা ক্ষিপ্ত হয়ে এসবের কুশীলব নষ্টদের মান-সন্মানে আঘাত করে বসতে পারে। রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের কর্ণধারদের আগে অনেক কিছুই জনাতাম; অধিকাংশই সমাধান না হলেও, কিছু হতো। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে, ততই হতাশ হয়ে পড়ছি। এক কুখ্যাত রাজাকার পুত্রের অনুরোধে আমার খুব কাছে থেকে দেখা এক বীর মুক্তিযোদ্ধার সনদ না দিতে গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র উন্মুখ হয়ে লড়েছে, দেখেছি চোখে ঠুলি পরে। যদিও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যারা এ পর্যন্ত্য দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা সকলেই মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বলেই ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। কিন্তু, এসব মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আমলেই অনেক কুখ্যাত রাজাকার ও রাজাকার পুত্ররা “মুক্তিযোদ্ধা সনদ” পেয়ে গেছেন অনেক চুপিসারে বিদ্যুৎ গতিতে, রাষ্ট্রযন্ত্রের কর্ণধারেরা নিজেরাই এদের ফাইল বগলদাবা করে নিয়ে ছুটেছেন এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে, এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে। কিন্তু, “মুক্তিযোদ্ধা সনদ” পেতে বয়োবৃদ্ধ, রোগে শোকে কাতর, অনাহারে-অর্ধাহারে জর্জরিত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে তার সনদ পেতে ঘুরতে ঘুরতে স্যান্ডেলের তলা ক্ষয় হয়েছে, ঘাটে ঘাটে (দপ্তরে, দপ্তরে, টেবিলে টেবিলে) তাকে ষ্টেটম্যান্ট দিতে হয়েছে যেমনটি দিতে হয় একজন দাগী আসামীর “জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল” এর সন্মূখীন হয়ে অপরাধ স্বীকার না করার চেষ্টাকালে। আর এসব মুক্তিযোদ্ধাকে এসব দপ্তরে কখনো সন্মানের সাথে একটু বসতে বলা হয়েছে, এমন কখনো শুনিনি। গত কয়েক মাস যাবৎ শুরু হয়েছে আরেক তেলেসমাতি কান্ড-কারখানা “মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটি”র সন্মূখে আবেদনটি পৌছাতে নাকি টাকা দিতে হয়, হরহামেশাই এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলিতে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর যে তথ্যটি আসছে পত্রিকায় কিছু উপজেলায় নাকি “মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটি”তে অর্ন্তভূক্ত হয়ে আছেন কুখ্যাত রাজাকারও। উল্লেখিত ফেসবুক স্ট্যাটাসটি ছাড়াও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোক্তেল হোসেন মুক্তির আরো কিছু ফেসবুক স্ট্যাটাসে কিছু হৃদয় বিদারক হাহাকার ও ক্ষোভ ঝরে পড়েছে, যেগুলির সারমর্ম হলো, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ষড়যন্ত্রের সাথে ন্যাক্কারজনকভাবে জড়িত পবিত্র সংসদ ভবনে চিৎকার করে খুনী কনফেডারেশন জিয়াকে “বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক” দাবী করা সুবিদ আলী ভূইয়ার ইন্ধনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর উপস্থিতিতে মন্ত্রীর কক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব লাঞ্চিত করেছেন। এটা জাতির জন্য উদ্বেগজনক, খোন্দকার মোশতাকের উকিল জামাই সুবিদ আলী যখন গোটা জাতির ধিক্কার ও ঘৃণায় লুকিয়ে থাকে, তখন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর কক্ষে সে ঢোকে কি করে? নাকি মাননীয় মন্ত্রী ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্টের কথা শোনেননি? তিনি কি শোনেননি জঙ্গিদের মদদদাতাদের কথা যারা আজ বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনা সহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ধ্বংস করে দেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে? মাননীয় মন্ত্রী কি শোনেননি কে, এম ওবায়দুর রহমান, তাহের উদ্দিন ঠাকুর, শাহ মোয়াজ্জেমদের নাম, বা জানেন না এদের পূর্ব পরিচয়? তিনি তো দুধের শিশু নন। মাননীয় মন্ত্রী নিজে শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধা শুধু নন, তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন প্রকাশ্য ও গোপন প্রস্তুতির সংগঠকও। পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে গোটা জাতি যুদ্ধ শুরু করার বেশ আগেই যে তিনি একটি অতি সাহসী বীরত্বসূচক কাজ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে তিনি কি সেটা ভূলে গেছেন?
মাননীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাোম্মেল হক এর দৈনিক ভোরের কাগজ ১৯ মার্চ, ২০১৬ তে প্রকাশিত ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ ১৯শে মার্চ ১৯৭১” শিরোনামের একটা লেখায় উল্লেখ রয়েছে, ৭ মার্চে উজ্জীবিত হয়ে আমরা সম্ভবত ১১ মার্চ গাজীপুর সমরাস্ত্র কারখানা (অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি) আক্রমণ করি। গেটে বাধা দিলে আমি হাজার হাজার মানুষের সামনে টেবিলে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করেছি মাইকে। পাকিস্তানিদের বুঝতে পারার জন্য ইংরেজিতে বলি ‘I do hereby dismiss Brigadier Karimullah from the directorship of Pakistan Ordnance Factory and do hereby appoint Administrative officer Mr Abudul Qader (বাঙ্গালী) as the director of the ordnance Factory’ এ গর্জনে সত্যি কাজ হয়েছিল। পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার বক্তৃতা চলার সময়ই পেছনের গেইট দিয়ে সালনা হয়ে পালিয়ে ঢাকা চলে আসেন। পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার আর পরবর্তী সময় ১৫ এপ্রিলের আগে গাজীপুরে যায়নি। পাকিস্তান সমরাস্ত্র কারখানা ২৭ মার্চ পর্যন্ত আমাদের দখলেই ছিল। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে বিনীতভাবে জিগ্যেস করতে চাই, এমন সাহসী ভূমিকা কি ১১ই মার্চ ১৯৭১ এ কি আপনার একাই ছিলো, নাকি মোক্তেল হোসেন মুক্তিদের মতো সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরই ছিলো? কিভাবে ২০১৬ সালে পাকিস্তানের এজেন্ট খুনী জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবীকারি সুবিদ আলী আপনার উপস্থিতিতে আপনার কক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোক্তেল হোসেন মুক্তিকে অপমান করার ঔদ্ধত্য দেখায়? আর সচিব কি প্রজাতন্ত্রের মালিক না কর্মচারি না সেবক? আপনি সচিবের অধীন, নাকি সচিব আপনার অধীন? এসব প্রশ্নগুলি নিজের বিবেককে করুন মাননীয় মন্ত্রী। দেশবাসীর বিবেক জাগ্রত হোক: আমি দেশবাসী, বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তরুণদের বিবেকের উদ্দেশ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোক্তেল হোসেন মুক্তির দুটি ফেসবুক স্ট্যাটাস উল্লেখ করতে চাই। সাথে এও বলতে চাই, যদি উনি মুক্তিযোদ্ধা নাই হবেন, তবে প্রকাশ্যে জনসমক্ষে এ দাবীটি তুলতে পারতেন না। যারা ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা তারা এ সনদ পায় গোপনে টাকার থলি দিয়ে কিনে আর এ সনদ ব্যবহার করে টাকার বস্তা কামায়। তাই, আমি বিশ্বাস করতে বাধ্য যে, উনি আসলেই একজন মুক্তিযোদ্ধা। তার হাহাকার আমার কাছে আজ পঙ্গু হয়ে উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর পৌরসভায় ভাড়া বাসায় যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকা ১৯৭২ সালে সনদ পেয়েও ১৯৭৪ সালে ছিড়ে ফেলার পর বারবার চেষ্টা করেও নতুন সনদ না পাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম এর হাহাকারের মতোই মনে হয়েছে। মোক্তেল হোসেন মুক্তির ১৭.৫.২০১৭ তারিখ বিকাল ২.৩৮ এর ফেসবুক স্ট্যাটাস: “আমাকে আমার মাওলা ছাড়া আর আমার মা বাবা ছাড়া কেউ বোঝেনি, কেউ না। আমার চেয়ে দলকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তিযুদ্ধ কে কারা কিভাবে বেশী ভালোবাসতে পারে আমার জানা নেই। আমার অস্তিত্ব না থাকলে আমি কারো অস্তিত্ব নিয়ে ভাববো কেন? এখানে ক্ষমার প্রশ্ন নয়; এখানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার প্রশ্ন। যে মেজর সুবিদ আলী ভুঁইয়া বলতে পারে যে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক সে সুবিদ আলীর কথায় মন্ত্রী আমাকে অপমান করতে পারে না। আমার গান হাতে থাকলে ঐ খানেই কিসসা খতম করে দিতাম সুবিদ আলীর। আমি আর মুক্তিযোদ্ধা হতে চাই না। এবার হবো সন্ত্রাসী। মরার আগে যে ক’দিন বাচি, আওয়ামী লীগের সবাই যেনো আমাকে জুতা মারে, থু থু নিক্ষেপ করে এবং শেষ শব্দটি উচ্চারন যে
“Moktel Hossain Mukthi was a great rajakar in 1971.” মোক্তেল হোসেন মুক্তির ১৭.৫.২০১৭ তারিখ বিকাল ২.০৫ এর ফেসবুক স্ট্যাটাস: সবাই মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু নিয়ে গবেষনা করে। কেউ কেউ নাম ভাঙ্গিয়ে খায়, ব্যবসা করে; বড় বড় লম্বা বক্তৃতায় মাইক ফাটিয়ে দেয়; অথচ মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সারা দেশে অবৈধ ব্যবসা চলছে; মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সচিব মারধর করছে, মন্ত্রী অপমান করছে, তার কোন প্রতিবাদ হয় না; কার চরিত্র ভালো? ফেসবুকের চরিত্র আরও জঘন্য; আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগি অনলাইনের সে সোনার ছেলেরা কোথায়? আজ গা’ জ্বলে না? আপনার বাবা যদি মুক্তিযোদ্ধা হত, আর মন্ত্রী অপমান করতো আপনি কি করতেন? আমার কোন ছেলে নেই, তাই কেউ আমার পাশে এসে দাড়ালেন না? ভালো থাকুন সবাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী পরিষদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাথে সিংগাপোর মালদ্বীপ থাইল্যান্ড সহ ইউরোপের দেশগুলোর সাথে কি সম্পর্ক রয়েছে? আ ক ম মোজাম্মেল হক কোন সূত্রে, কোন বিষয়ে চুক্তিপত্র বা সেমিনারে অংশগ্রহণের জন্য এ সকল দেশ তার লুটেরা ঘুষখোর বাহিনী নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর রাতে ৫ তারা হোটেলে সুন্দরী রমনীদের দিয়ে হাত পা টিপাচ্ছে? ৭০ বছর বয়সের একজন বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তির লজ্জা শরম বা মৃত্যুর ভয় নেই কেন? আওয়ামী লীগ এ ধরনের নাস্তিক নিমক হারামী শয়তান জালিমদের কোন দিন প্রশ্রয় দেয়নি । আজ কেন দিচ্ছে? কি জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশে নাই, তাই কি মোজাম্মেলদের ডিস্কো নাচের সময় হয়? নেত্রী যেদিন হজ্জব্রত পালনের জন্য সৌদি গেলেন ঠিক সেদিনই মোজাম্মেল এসেছে জামুকা ও মন্ত্রণালয়ের লুইচ্চা ঘুষখোর বাহিনী নিয়ে মালদ্বীপে ফিলিপিনো ললনা দিয়ে শরীর মাসাজ করাতে। অথচ মালদ্বীপের সাথে মুক্তিযুদ্ধের কোন প্রকার সংশ্লিষ্ঠতা নেই বা ছিল না। আজ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতিরজনকের শেষ চিনহ বঙ্গ নেত্রী শেখ হাসিনা অসুস্থ্য; ঠিক সে সময়ে লুইচ্চা মোজাম্মেল ইউরোপ ঘুরতে যাচ্ছে। এ অর্থ কোথা থেকে আসছে? কার টাকায় মোজাম্মেলের লুটেরা বাহিনী ইউরোপ সফর করছে? আমরা হিসাব চাই; বিচার চাই। কারন মহান মুক্তিযুদ্ধে আমারো অবদান রয়েছে। অবহেলা অবিচার অনাচার মিথ্যাচার ভ্রষ্টাচার যখন তার নিজস্ব সীমা লঙ্ঘন করে তখনি সমাজ দেশ জাতির কেউ না কেউ দেশের কোন একপ্রান্ত থেকে প্রতিবাদের ঝড় তুলে ইতিহাস রচনা। বেচে থাকে কি মরে যায়, সেটি বড় প্রশ্ন নয়; সত্য বলতে পারাটাই বড় যা’জাতিকে বদলে দিতে সাহায্য করে। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ র রাষ্ট্র ভাষা উর্দু ঘোষনার প্রতিবাদ একাই করেছিলেন। ছয় কোটি মানুষের মধ্যে তিনি হয়ে উঠেছিলেন মধ্যমনি। ৫২ র ভাষা আন্দোলনের নায়ক বঙ্গবন্ধুই আমাদের শিখিয়ে গিয়েছেন-প্রতিবাদ কর-অন্যায় অবিচার ভ্রষ্টাচারের বিরুদ্ধে। কি পেলেন কি না পেলেন এ কথা ভাববার অবকাশ ছিল না বঙ্গবন্ধুর। চির শোষিত লাঞ্ছিত বঞ্চিত অবহেলিত বাঙ্গালী জাতির অধিকার স্বাধীকার আদায়ে একটা জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিলেন ন্যায় সত্য হিস্যা আদায়ের সংগ্রামে । আওয়ামী লীগের একজন মন্ত্রীর অন্যায় অবিচার স্বজনপ্রীতি দুরাচারের বিরুদ্ধে আমার এ আন্দোলন জাতিরজনকের থেকে শিক্ষা নেয়া নীতি আদর্শের বহিঃপ্রকাশ। মুক্তিযোদ্ধারা আ ক ম মোজাম্মেল হকের কথা যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেনি; করেছিলেন ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষনের তেজদীপ্ত প্রতিক্রিয়া হিসেবে ।
কি পেলাম কি পেলাম না? তা খতিয়ে দেখার সময় নেই। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার সোনার ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধারা কি পেয়েছে, তা’ আজ খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। কেউ ইচ্ছে করলেই মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু এবং তার আদর্শ নিয়ে ব্যবসা করতে পারে না। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার এত সুনাম এত উন্নয়ন এত ত্যাগ গুটি কয়েক দুর্নীতি পরায়ন মন্ত্রী আমলার কারনে ধূলিসাৎ হতে দেয়া উচিত নয়; সবাই ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের ঝড় তুলুন। শেখ হাসিনাকে রক্ষা করুন দুর্নীতির অহেতুক অনাহুত কলংকের হাত থেকে। প্রতিষ্ঠা করুন ডিজিটাল সুখি সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলাদেশ। মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম নেই মুক্তিযুদ্ধা Moktel H. Mukthi মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলা বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিন আকাল বরিশ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোক্তেল হোসেন মুক্তি। যাকে এলাকার সবাই এক নামেই চেনে। আছে তার আরেকটি পরিচয়,তিনি একজন কন্ঠ শিল্পী। স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে যিনি গেয়েছেন অসংখ্য গান। মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ গোলাম আম্বিয়ার হাত ধরেই গানের হাতেখড়ি শিখেন মুক্তি।১৯৯০ সালে জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী বারী সিদ্দিকীর মিউজিকে বের হয় তার নিজের লেখা গানের ৩ টা এলবাম।তার মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্মরণে মুক্তির গান নামে একটি এলবাম ও কাঁদো বাঙ্গালী কাঁদো নামের আরেকটি এলবাম,যা ব্যাপক শ্রোতাপ্রীয়তা পেয়েছিল।যেই গান শুনে শেখ হাসিনা কেঁদেছিলেন। অথচ সেই মুক্তিযোদ্ধার নাম নেই মুক্তিযোদ্ধা তালিকায়। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে ভুমি মন্ত্রনালয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চাকুরী প্রদান করেন এবং নগদ ১ হাজার টাকা ও ৩ বান টিন প্রদান করেন। মুক্তি মালদ্বীপ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মালদ্বীপ কম্যুনিটি এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক, একজন শিক্ষক,ও কন্ঠ শিল্পী।যিনি ভারতে ট্রেনিং এর সময় অবশরে সহযোদ্ধাদের গান শুনিয়ে সাহস যোগাতেন।১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসা পর বঙ্গবন্ধুর দেয়া সেই চাকুরী হারান হতভাগা মুক্তিযোদ্ধা মোক্তেল হোসেন মুক্তি। দেশে নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তাকে।বঙ্গবন্ধুর দেয়া চাকুরীটি কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জীবনে। একজন মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় পদে পদে লাঞ্চনার শিকার হতে হয় তাকে।এসব সহ্য করতে না পেরে ১৯৯১ শেখ হাসিনার খালু মরহুম এস এ জালালের মাধ্যমে পাড়ি দেন জাপানে। যিনি ১৯৭১ সালে জাপানের বাংলা রেডিওর সংবাদ পাঠক এবং ক্যানাডার ইকোনোমিক্স মিনিষ্টার ছিলেন । ১৯৯৬ সালে আবার দেশে আসেন,১৯৯৭ সালে ইউনিক গ্রুপের চেয়ারম্যান ঢাকা ওয়েষ্টিন হোটেলের মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নূর আলীর পিএস এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু আবারও কপালে নামে দুর্গতি,২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর হাওয়া ভবনের চোখ পড়ে ইউনিক গ্রুপের উপর। একসময় হাওয়া ভবন গ্রাস করে নেয় ইউনিক গ্রুপ,আবারো সেখানে প্রতিবাদ করে বসেন মুক্তি,তখনই নেমে আসে তার উপর অমানবিক নির্যাতন।অবশেষে বাধ্য হয়ে ২০০২ সালে দেশ ছেড়ে মালদ্বীপ পাড়ি জমান। স্বাধীনতার ৪৬ বছর শেষে নতুন করে যখন মুক্তিযোদ্ধা বাছাই কাজ শুরু হল,তখন অজানা কারণে বাদ পড়ে গেলেন মুক্তি। যখন শুনলেন মুক্তিযোদ্ধা বাছাই কমিটি তালিকায় তার নাম উঠায়নি তখন মাতায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। দেশের জন্য যারা জীবন দিতে প্রস্তুত সেই মুক্তিযোদ্ধার নাম নেই তালিকায়।বিষয়টা অনেকেই মেনে নিতে পারলেন না।৭১ এ যাদের সাথে ভারতে ট্রেনিং নিয়েছেন সেই সহযোদ্ধারাও হতবাক হয়েছিলেন এ ঘটনায়,মুক্তি কখনো ভাবেননি যুদ্ধের এত বছর পর এসে তাকে প্রমান করতে হবে মুক্তিযোদ্ধা বলে। মুক্তি বলেন,কখনো ভাবিনি এরকম একটা ঘটনার সম্মুখীন হব,আমরা ত যুদ্ধে গিয়েছিলাম বঙ্গবন্ধুর ডাকে ৭ কোটি মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে,নিজের নাম কামাতে নয়।কখনো নিজের জীবনের চিন্তা করিনি।কিন্তু আজ এরকম একটা বাস্তবতার মোখমুখি হব তা কখনো কল্পনা করিনি। বঙ্গবন্ধুর প্রতি অসীম ভালোবাসা থাকায় প্রতিনিয়ত বঙ্গবন্ধুর কথা ভেবে চোখের জল ফেলেছেন মুক্তি, “কাঁদো বাঙ্গালী কাঁদো” এ বাক্য আজ সবার মুখে মুখে,কিন্তু এই জনপ্রিয় বাক্যটির জনক হলেন মুক্তিযোদ্ধা মোক্তেল হোসেন মুক্তি। তিনি তার গানে প্রথম এ বাক্যটি ব্যবহার করেন, যা আজও মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়। তৎকালীন সময়ে দৈনিক বাংলার বানীতে সাংবাদিক শেখ মারুফ পত্রিকায়ও প্রচার করেন ।আমি মন্ত্রীর নিকট আবেদন করেছিলাম। কোটি টাকার সম্পদ দাবী করিনি; আবেদন করার অধিকার আমার আছে। আমি বিচার পাইনি; মন্ত্রী অপমান করেছে আমি আওয়ামী লীগ সরকার প্রধানের নিকট বিচার চেয়েছি। বিচার পাইনি। সূতরাং আমার দাবীর জন্য যা’কিছু করার তাই করবো। এখানে পাগলামি ছাগলামির প্রশ্ন কেন? জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা ও ১১ দফা দাবী যদি পাগলামি না হয়ে থাকে, একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী কর্তৃক লাঞ্ছিত হবার কারনে সে লাঞ্ছিত মুক্তিযোদ্ধা ন্যায় সংগত বিচার প্রার্থনা করছে। এতে পাগলামির কি আছে? আমি বিচার পাইনি; তাই আমার পথে আমাকে এগোতে হবে। আমি আর মুক্তিযোদ্ধা হতে চাইনা। বাচার স্বপ্নও ঐ একই সাথে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সমস্যা; আওয়ামী লীগকেই সমাধান করতে হবে; মহান মুক্তিযুদ্ধে যদি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের দাবীদার হয়, আমি মুক্তিযোদ্ধা এবং দাবীদার। সেখানে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী আমাকে অপমান লাঞ্ছিত করে তার কক্ষ থেকে সুবিদ আলী ভুইয়ার কথায় বেড় করে দিতে পারে না; মন্ত্রী যদি অপমান করার অপরাধে শাস্তি না পান, তাহলে দেশে আইন নেই, শাসন ব্যবস্থাও নেই বলেই ধরে নিতে হবে। আমার অস্তিত্বের প্রশ্ন এখানে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। আমি আমার নিজের অস্তিত্বের দিকটাই প্রথম দেখবো। দেখবো আমার সংসার সন্তান স্ত্রী কন্যা আত্মীয় পরিজন; আমি আওয়ামী লীগের স্বার্থ নৌকার স্বার্থ দেখার আমার অবকাশ কোথায়? দেশ স্বাধীন হয়ে থাকলে আমি মুক্তিযোদ্ধা; মন্ত্রী কর্তৃক লাঞ্ছিত হবার বিচার চাই; অতি সিম্পল; যারা এটাকে গভীরভাবে জড়িয়ে কাদা ছোঁড়াছুড়ি করতে চান, তাঁদের জন্য বলিঃ “মুক্তিরা একবার জন্মায়, একবারই মরে” মুক্তিরা নীতির সাথে আপোষ করতে জানে না-এ মুক্তিদের জাতিরজনক হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বাংলার মহা নায়ক কিংবদন্তি বিশ্বনেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিখিয়ে গিয়েছেন। বিশ্ববাসী দেখ, দেখ সকল মুজিবসেনা, সকল বি এন পি জামাত জাতীয় পার্টি জাসদ নেতা কর্মী ভাই বোনেরা, একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার আবেদন আ ক ম মোজাম্মেল হক গ্রহণই করেনি। লিখিত দিয়ে ফেরত দিয়েছে। কোন আইনে সে ফেরত দিয়েছে-জানতে চাই? সংবিধানে এমন কোন আইন রয়েছে যে একজন মন্ত্রীকে আবেদন করলে তদন্ত ছাড়াই/আইন/রীতি/নীতি/অধ্যাদেশ ব্যতিরেকেই আবেদন সরাসরি নাকচ করা যায়? যেহেতু সে আমার কালকিনি মাদারীপুরের নয়; সে আমার সম্পর্কে কিছুই জানেনা এবং সে কারনেই আমি তদন্ত চেয়ে আবেদন করেছি। মেজর জেনারেল সুবিদালীর (সুবিধাবাদী খালেদা জিয়ার এজেন্ট) কথায় মন্ত্রী আমাকে অপমান করে বেড় করে দেয়ার কথা বলতে পারে না; সংবিধান এ কথা বলে না। আমি জামাত শিবির বি এন পি আওয়ামী লীগ বুঝিনা; আমি জন্মগতভাবে বাঙ্গালী । বিচার চাই; মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট পত্রিকার মাধ্যমে আবেদন করাতে bangloadeshpress.com অনলাইন পত্রিকাকে হুমকি দিয়ে আ ক ম মোজাম্মেল হক আমার সংবাদ বন্ধ করে দিয়েছে। ঐ ছেলেরা এখন হুমকির মূখে আছে।
is it called democracy? what is called democracy. its my question to all of the highly qualified innocence Bangladeshi citizen. i want reply from central of bangladesh awami league. আওয়ামী লীগের জন্য যদি ৬০ হাজার পোষ্টার করতে পারি ১৭ বছরে, মন্ত্রী মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে কত হাজার করতে পারবো? মৃত্যুর আগ পর্যন্ত? আমি অনলাইনের সর্ব দলীয় বাঙ্গালী বাংলাদেশীদের নিকট বিচার চাইঃ আমি ভারতে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। আমার নাম কেন তালিকায় নাই? কিসের স্বাধীনতা? কিসের মুক্তিযুদ্ধ যদি মুক্তিযোদ্ধাদের আওয়ামী লীগ মন্ত্রী অপমান অপদস্ত করে? বিচার চাই। এখনো আওয়ামী বিরোধী শ্লোগান শুরু করি নাই। ঘরের কথা পরের কানে দেই নাই। বিচার চাই। ***************************************************************************************** মন্ত্রী মহোদয় গদি সামলান! হিন্দি সিনেমার ষ্টাইলে আপনাকে শিক্ষা দেয়া হবে। আপনি ডিবি পুলিশের ভয় দেখান। ছেলেদের দিয়ে হুমকি দেন? আপনার মন্ত্রীত্ব! না হয় আমার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি! একটা চাই। আপনিও মুক্তিযোদ্ধা তাই কিছুটা শ্রদ্ধা ছিল, সেটি এখন গোলাম আযমের চেয়েও ঘৃণ্য পর্যায়ে চলে গিয়েছে। আপনি আমাকে বলেন-আমি মন্ত্রী আর আপনি পাবলিক? আপনি উকিল। জীবন ভর মানুষকে ঠকিয়ে মিথ্যা মামলা চালিয়ে টাকা বানিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা হয়েছেন? আপনি উকিল হলে আমি মোক্তার! এই পাবলিকের ভোট চুরি করে মন্ত্রী হয়েছেন আর আমাকে হুমকি দেন? মূখ খুলি নাই। এখন থেকে খুলবো। জামূকায় লাল বাতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের “লালবই” দিন তারিখ সঠিক মনে নেই। তবে ১৯৯৭ সালের সম্ভবতঃ বিজয় দিবস অথবা স্বাধীনতা দিবস অনুষ্ঠিত মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আয়োজনে “জামূকা’র ছোট্ট মাঠে একটি অনুষ্ঠান। মুজিববাহিনী প্রধান, মহান মুক্তিযুদ্ধের সফল সংগঠক, ডামূড্যার কৃতি সন্তান সাবেক নৌ ও পরিবহন মন্ত্রী মরহুম আব্দুর রাজ্জাক (বঙ্গবন্ধুর রাজ্জাক ) ভাই প্রধান অতিথি-সাথে মঞ্চে ছিলেন অনেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, সেক্টর কমান্ডার, ক্যাপ্টেন তাজ, সুলতান রাজা ভাই এবং আমার একান্ত বন্ধু সহকর্মী জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বাদী ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আ ফ ম মোহিতুল ইসলাম। রাজ্জাক ভাইকে মঞ্চেই অনুষ্ঠান শুরু হবার আগেই আমি একখানা আবেদন দিলাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম লিখানো সংক্রান্ত। রাজ্জাক ভাই আবেদনটি চৌধূরী সাহেবের হাতে দিয়ে বললেন “ছেলেটি মুজিবনগরে ছিল, দেখেন। বাস! আহাদ চৌধূরীর পিছনে ঘুরতে ঘুরতে ঘুরতে ঘুরতে ঘুরতে ঘুরতে ঘুরতে আমার জাপানী জুতা ছিড়ে গেছে। কয়েকদিন পরে দেখলাম জামুকায় লালবাতি জ্বালিয়ে আহাদ চৌধূরী সাহেব বেড় করলেন মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নামের “লাল বই” মুক্তি বার্তার নতুন সংস্করন এ লাল বই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকেই পুড়ে ছারখার করে জ্বালিয়ে লাল করে দেয়। এই লাল বই কার নির্দেশে কার অধীনে কার তত্বাবধায়নে কিভাবে প্রিন্ট করা হল? খাসের হাট (বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের দুই স্বর্ণ পুরুষ দুই ভাই ( বীর বিক্রম শহীদ এস এম নুরুল ইসলাম ও কমান্ডার এস এম সিরাজুল হক) যারা দুই ভাই ৭১ সালে রাওয়ালপিন্ডি থেকে একজন এসেছিলেন পালিয়ে আর একজন ছুটিতে থাকাকালীন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়; তাঁদের অধীনেই আমরা বাঁশগাড়ি ইউনিয়নে সর্ব প্রথম মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষন দেয়া শুরু করি এবং মাদারীপুরে পাক বাহিনী আসা শুরু করলেই আমরা এক সাথে ভারতে পালিয়ে যাই। মাদারীপুরের নিকট টেকের হাটে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরু ভাই শহীদ হন। লাল বইতে কি তাঁদের নাম আছে? কালকিনি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাই অনুষ্ঠানে মাননীয় নৌ পরিবহন মন্ত্রী শুদু লাল বইতে যাদের নাম রয়েছে, তাঁদের বাদে অন্যান্য সকলের নামই ডেকেছেন আবার কিছু কিছু লাল বইতে নাম থাকা ব্যক্তিদের নাম ডাকা হয়নি। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা যিনি মোটেও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, তাঁর নাম লাল বইতে এলো কিভাবে? সে নামগুলো আপনি বা আপনারা বা সরকার চাইলে আমি দেবো এবং প্রমান করবো। আর যদি আমার এ সকল তথ্যের সঠিক সত্যতা প্রমান না করতে পারি; আত্মহত্যা করবো-জাতিকে এ প্রতিশ্রুতি দিলাম। সূতরাং চৌধূরী সাহেব, যদি সত্যিকারেই একনিষ্ঠভাবে সচেতনতার সাথে সুক্ষভাবে সৎ ও নিষ্ঠার সাথে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেই লাল বই করে থাকেন, তাহলে লাল বইয়ে ভুয়া নাম এলো কিভাবে? এবং আসল মুক্তিযোদ্ধাদের নাম নেই কেন? যারা আমার সাথে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আবেদন করেছিল, তাঁদের কারো কারো নাম এলো, কারো নাম এলো না, এটা আসল নকল প্রমানিত হয়নি বলে নয়; টাকার বিনিময়ে; কালকিনি উপজেলায় চলেছে সনদের রমরমা বেচা কেনা। সে বেচা কেনার কারনেই আমার নাম ও আব্দুল মান্নান তালুকদার, হায়দার বেপারী, ইয়াসিন খান, মরহুম মাষ্টার শামসুদ্দিন খান মিলন ও আমাদের ভারতীয় কমান্ডার হানিফ মাহমুদের নাম। তাহলে তালিকায় কাদের নাম এলো আহাদ চৌধূরী সাহেব? আর কত জ্বালাবেন আমাদের? যারা ৭১ এ খাসের হাট বাজারের হিন্দুদের স্বর্ণ সম্পদ লুট করেছে, তাঁদের নাম এলো মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়। যারা ৭২ ৭৩ এ ডাকাতি করেছে এবং রক্ষীবাহিনীর দৌড় খেয়ে পালিয়ে জীবন বাচিয়েছে, তাঁদের নাম এলো মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়। যাদের মূখে ৬৯ ৭০ ও ৭১ এ আওয়ামী লীগ নৌকার নাম শোনা যায়নি, তাঁদের নাম এলো মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়। যারা খাসের হাট বাজারে ৭১ সালে বীর কমান্ডার সিরাজ শিকদার ও নুরু শিকদারকে রাম দা ট্যাঁটা শর্কি নিয়ে দৌড়ালো তাঁদের আত্মীয় স্বজনের নাম এলো মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়; আর ৬৯ এর গন অভ্যন্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা নায়ক মরহুম মাষ্টার শামসুদ্দিন খান মিলনরা মুক্তিযোদ্ধারা স্বীকৃতি না নিয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন। আজ তাঁর পরিবার তালিকায় নাম লেখানোর জন্য অসৎ অমুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারদের দ্বারে দ্বারে স্বীকৃতির জন্য কাঙ্গালের মত ভিক্ষা চায়; আপনাদের লজ্জা করে না? আপনাদের কি আল্লাহ্‌ তায়ালা চোখে কোন লজ্জা শরমের ছোয়া লাগায়নি? আর কত ব্যবসা করবেন এই হতভাগা দিন মজুর নিরীহ গরীব অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সাথে? আল্লাহ্‌র গজব পড়বে আপনাদের উপর একদিন-সেদিন হয়তো আমি থাকবো না। দেখে যেতে পারবো না। আর কত এই মুক্তিযুদ্ধ আর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে রাজনীতি ধান্দাবাজী চলবে? আর কত বয়োবৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর অসহায় পরিবার আপনাদের পা’চাটতে থাকবে? আর কত কাল এই তালিকা লীলা চলবে? আর কত এই তালিকা বাণিজ্য চলবে? আমাদের ক্ষমা করেন; রেহাই দিন। বন্ধ করুন এই সার্কাস! আপনাদের পকেট গরম হবার কলঙ্কিত অধ্যায়ের কারনেই লাল বই নীল বই সবুজ বইয়ের পাতায় ৭১ এর শিশুর নাম। আপনাদের দুর্নীতির ফসল আজকের এই জাতীয় সমস্যা। আপনাদের সরম লজ্জা নাই; আপনারা বেহায়া বেশরম বেগারত তাই আবারো জামূকার গদির লোভে নিজের আত্মীয় স্বজনদের বিলিয়ে দিয়েছেন প্রচার চালিয়ে আবার জামূকা দখলের জন্য। জিয়াউর রহমান ৫০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছে, আমরা জিয়ার মরণোত্তর বিচার চাই; আ ক ম মোজাম্মেল হক মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইয়ে সীমাহীন দুর্নীতি স্বজনপ্রীতি অনিয়ম এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের লাঞ্ছিত করার অপরাধেও বিচার চাই; স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ আমরা স্বাধীন করেছি; আমাদের উপর কোন প্রকার অবিচার জুলুম নির্যাতন অবজ্ঞা অবহেলা করা হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিবাদ করার জন্য আহবান জানিয়েছেন। আমরা আ ক ম মোজাম্মেল হকের বিচার চাই; মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা। *********************** ১৯৭১ সালে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ দেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেই তখন কেঊ ই সনদ, ভাতা, স্বীকৃতি, চাকুরী চিন্তা করে তা করিনি। দেশের প্রতি মমত্ববোধ আর সময়ের প্রয়োজনে জাতিরপিতার আহবানে যার যা ছিল তা নিয়ে নিজের সাধ্য অনুযায়ী শত্রুর মোকাবিলা করেছি। কেঊ সিমান্ত পাড়ি দিয়ে ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধ করেছি কেঊ বা দেশে থেকেই শত্রুর বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি মুক্তিযোদ্ধাদের চলাচল গেরিলা ক্যাম্প স্থাপন পাহারা দেয়া শত্রু অধ্যুসিত এলাকায় গিয়ে অপারেশন এ সাহায্য সহ না না ভাবে সম্পৃক্ত হয়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করেছি। স্বাধীনতার পর আবার নিজের শিক্ষা ও কর্ম জীবনে ফরে গিয়েছি। অনেকেই কোন ডকুমেন্টস সংগ্রহ ও সংরক্ষন করিনি আবাত ইতিমধ্যে অনেকে হারিয়ে গেছে ইতিহাসের অতলে। ৭১:এর ১৬ ই ডিসেম্বর বিকেলের সেই গানের মত ” হয়তো বা ইতিহাসে তোমাদের নাম কোন দিন রবে না বড় বড় লোকেদের ভিড়ে ” ——— এক সাগর রক্তের। বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা ” সত্যি আমার দেখা অনেক মুক্তিযোদ্ধা আজ হারিয়ে গেছে, আদমজীর এক আনসার কমান্ডার মুক্তি যোদ্ধা বিনা চিকিৎসায় দীর্ঘ দিন অসুস্থ থেকে বছর দশেক আগে মরে গেলেন। আরেক মুক্তিযোদ্ধা ৭৫ এর পর রক্ষি বাহিনী থেকে বহিস্কৃত হয়ে গত ৪২ বছর মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন এখন অসুস্থ, এবার যাচাই বাচাই কমিটির তালিকায় তার নাম এসেছে তবে এতে বিভিন্ন পর্যায়ে তার খরছ হয়েছে ষাট হাজার টাকা। সে চায় মরার আগে যদি কিছু টাকা পায়। আর একজনের ভাই কয় দিন আগে ফোন করলো তার মুক্তি্যোদ্ধা ভাই যাকে ৭১ এ আমি জানতাম সে অনেক আগেই গত হয়েছে তার সন্তান আছে কিভাবে তার সনদ সংগ্রহ করা যায়? মালদ্বীপ প্রবাসী আমার অনেক দিনের পরিচিত এক মুক্তিযোদ্ধা যাকে মাননীয় মন্ত্রী ও চিনেন তিনি সময় মত আবেদন না করায় স্বীকৃতি পাবার যোগ্য নন।অথচ এটা ঠিক তিনি সময় মত মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন। মুক্তি যোদ্ধাদের যাচাই বাচাই হবে একটি চলমান প্রক্রীয়া। যেহেতু বর্তমান সরকার দেশের বীর সন্তান্দের মর্যাদা পূ:ণ প্রতিষ্ঠায় দৃড় প্রতিজ্ঞ এবং তাদের অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় সুযোগ ও সম্মান দিতে বদ্ধ পরিকর এবং মুক্তি যোদ্ধা সংসদ জাতীয় মুক্তিযদ্ধা কাঊন্সিল ও মুক্তিযুদ্ধ মন্য্রনালয় আছে সেহেতু যখন ই কোন মুক্তিযোদ্ধা আবেদন করবে তা গ্রহনকরে স রকারের সংস্থার মাধ্যমে তথ্য উপাত্ত যাচাই করে তা চুড়ান্ত করবে। তাতে ই জাতি তার বীর দের খুজে পাবে। এভাবে ঘটা করে জাতির অহংকার মুক্তিযোদ্ধাদের রাজনীতিক দূর্ণীতিবাজদের নিকট জিম্মি করে অর্থের বিনিময়ে তালিকা করা ভবিষ্যতে পুরো জাতিকে কুলশিত করবে। জয় বাংল 25/8/201 পূন:– নওগাঁর “মুক্তি যোদ্ধা” গোলজার হোসেন বয়স ৮০ এর উপর, জলিল সাহেব তাকে মুক্তিযুদ্ধে নিয়েছিলেন বলে জানালেন। কাগজপত্র হারিয়ে ফেলেছেন। অনেকের কাছে গিয়েছেন অজ্ঞাত করণে এখনো স্বিকৃতি নাই। ঢাকার উত্তরায় রিকক্সা চালান তা আবার এলাকার লোকেরা জানেনা। তিন মেয়ে শিক্ষিত। তিন জন ই শিক্ষকতা করেন। বিয়ে হয়ে গেছে। করো করূনা নিতে চান না। স্ত্রী ও জীবিত। বললেন এ ভাবে চলতে চলতে মরতে চাই। আমি তার কথা শুনে মোহাম্মদ পুর বাবর রোডে জামুকা য় যেতে পরামর্শ দিলাম। আমরা বাঙ্গালীরা ত শুধু পরামর্শ দিতে তৎপর। তাই। যদি সরম লজ্জা থাকে, যদি মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আদৌ কোন শ্রদ্ধাবোধ থাকে, যদি জাতিরজনকের সারা জীবনের কষ্টার্জিত ফসল মহান স্বাধীনতার প্রতি বিশ্বাস থাকে যদি জাতিরজনকের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সত্যিকারেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সমর্থন করেন, যদি সত্যিই জীবনে একবার হলেও নৌকায় ভোট দিয়ে থাকেন, অনুগ্রহ করে আর এদিকে পা’ বাড়াবেন না। অন্ততঃ ৩০ লক্ষ শহীদ, জাতীয় ৪ নেতা ও জাতিরজনকের বিদেহী আত্মাকে শান্তিতে থাকতে দিন। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে রঞ্জিত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে কাউকে খেলতে দেয়া হবে। জীবন যায় যদি যাক। মোজামেল, সুবিদ আলী, ক্যাপ্টেন তাজ, আহাদ চৌধূরী রেদোয়ান আহমেদ সচিব হান্নান, মাসুদ সিদ্দিকী, কার রেহাই নেই; প্রয়োজনে আবার যুদ্ধ, গর্জে ওঠো মুক্তিসেনার সন্তানেরা। এ দেশ তোমার পিতার অবদান, এর গৌরব মহিমা সার্বভৌমত্ব সন্মান তোমাদেরকেই রক্ষা করতে হবে। আজ আর বঙ্গবন্ধু নেই, জাতীয় ৪ নেতা বেচে নেই; বঙ্গবন্ধুর রাজ্জাক নেই; শেখ মনি ভাই নেই, কে রক্ষা করবে? কে দায়িত্ব নেবে এই হায়েনা বটতলার উকিল মোজাম্মেল হকদের বিতাড়িত করার? হে আল্লাহ্‌, হে রহমানুর রহিম, হে সর্বশক্তিমান, তুমি স্বাক্ষী তোমার ফেরেশ্তাগন স্বাক্ষী, আকাশ বাতাস নদ নদী নালা বট বৃক্ষ তরু লতা মেঘ বৃষ্টি সবুজ বনানী পশু পাখী তোমার পবিত্র ক্বোরান স্বাক্ষী আমি ভারতে প্রশিক্ষন নেয়া মুক্তিযোদ্ধা। আমাকে যারা সমাজে রাষ্ট্রে স্বীকৃতির বদলে অপমান করেছে, তাঁদের তুমি বিচার কর; আমি এ বিচার জীবিত অবস্থায় দেখে যেতে চাই হে পরোয়ারদিগার; আমাকে যারা সমাজে হেয় করেছে, রাষ্ট্রীয়ভাবে অমর্যাদা করে তাড়িয়ে দিয়েছে; তুমি তাঁদের কঠিন শাস্তি প্রদান কর হে রাব্বুল আল আমিন। আমার দুটি কন্যা সন্তানকে যারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলে পরিচয় দিতে দেয়নি; সে আ ক ম মোজাম্মেল হকের ধ্বংস চাই; তুমি তাঁদের সন্তানের পরিচয় কেড়ে নাও হে মায়াবুদ; আর যদি আমি মিথ্যা ভূয়া ভন্ড মুক্তিযোদ্ধা হই; আমাকে তুমি ধ্বংস কর হে রাব্বুল আল আমিন। শেখ হাসিনা আজ বড় অসহায়; তার সাথে যারা আছে, ওরা নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নের ধান্দায় ব্যস্ত। ওদের দ্বারা কোন প্রত্যাশা নেই; ওরা হাওয়া ভবনের চেয়েও ভয়াবহ। হায়রে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের শিক্ষিত জনবল এবং দুর্নীতির আখড়া জামূকা? ৪৬ বছরেও মাত্র ২/৩ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন করতে পারলো না; লুন্ঠন করেই গেল; গদি বদল হল, কত যোদ্ধা মহাযোদ্ধা আসন গ্রহণ করিলো, উঠিল আবার বসিল, তালিকা করিল; পকেট ভরিল; আবার গেল; অন্যজন আসিল, তালিকা মুছিল; আবার লিখিল; আবার পকেট ভর্তি করিল এতবার ধর্ষণ করার পরেও হতভাগা মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা ত দূরের কথা যাদের নাম রয়েছে তাঁদের নামের আসল বানান টূকুও সঠিকভাবে লিখতে পারেনি; কেমন মূর্খ চন্ডাল জাতিকে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা দিয়ে গেলেন? সামান্য কজন মুক্তিযোদ্ধার নাম পিতার নাম ও ঠিকানা শুদ্ধ করে লিখতে পারে নাই ৪৬ বছরে? এই আহাম্মক জাতিকে রক্ত দিয়ে গেলে হে পিতা? তোমার রক্তের মূল্য এরা দিতে জানে না। এরা তোমার নাম আদর্শ আর চেতনার বুলি আওড়িয়ে ফায়দা লুটে গেল; লুটপাট করে গেল-আমরা সব চুপ নিশ্চুম অধম অক্ষম অচেতন মুড় বাঙ্গালী রবী ঠাকুরের ভাষায় মানুষ না হয়েই মনুষ্যত্বের দাবী করে গেলাম। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্টের কোটি কোটি টাকা লুটপাট, বেতন ভাতা উতসব ভাতা গ্রহণ করে সবশুন্য ঝুরি করেও একটি সঠিক তালিকা প্রণয়নে আওয়ামী লীগ, বি এন পি জাতীয় পার্টী আবার বি এন পি আবার আওয়ামী লীগ আবার বি এন পি এবং শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার বদল হল, কোটি কোটি টাকা মন্ত্রী সচিব আমলা কর্মচারী কমান্ডারগণ লুন্ঠন করিয়াও মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের নাম তালিকাভুক্ত করতে পারেনি; এ লজ্জা কার? এ লজ্জা হতভাগা শেখ মুজিবের? এ লজ্জা জাতীয় ৪ নেতার? এ লজ্জা শেখ হাসিনার? এ লজ্জা জেনারেল ওসমানীর? এ লজ্জা মুক্তিযুদ্ধের সকল নিবেদিত বুদ্ধিজীবী জ্ঞানি গুনি প্রাজ্ঞ নীতি নির্ধারকগণের? এ লজ্জা বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তির? এ লজ্জা কার? আ ক ম মোজাম্মেল হকের ত কোন লজ্জাই নেই; বিশ্ব বেহায়া হুসেইন মূহাম্মদ এরশাদের থেকে ছিনিয়ে এনে এ উপাধী মোজাম্মেল হক সাহেবকেই দেয়া হল। জামূকার চেয়ারম্যান, বদল হল কতবার? নেইম প্লেট বদল হল কতবার? কোন কোণ চেয়ারম্যান ও কমিটির বিভিন্ন অধঃস্থন কমান্ডারগণ এই ৪৬ বছরে কত শত কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন? কে হিসেব নেবে আর কে হিসেব দেবে? মন্ত্রী ও সচিব থেকে পিওন পর্যন্ত এ যাবত যত টাকা বেতন নিয়েছে, যত ঘুষ নিয়েছে, টেবিল থেকে চেয়ার পর্যন্ত এমন কি অফিসের জ্বানালা দরজাও ঘুষ গ্রহণ করেছে, তাতে একটা নাম লেখার দাম পড়েছে ১২ কোটি টাকা।
এই লুন্ঠন এই যে হরিলুটের বাতাসা বিতরন এর থেকে আসল মুক্তিযোদ্ধার ঘরে কত টাকা গিয়েছে? কে হিসেব দেবে? জাতিরজনক নেই; জিয়াও নেই, এরশাদ অর্ধ উন্মাদ, বাকী ঘসেটি বেগম আর শেখের বেটি। কার নিকট মুক্তিযোদ্ধারা যাবে? কার নিকট হিসেব চাইবে? কে দেবে হিসেব? বন্ধ হোক এ হরিলুট বাতাসা। বন্ধ হোক মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে প্রতারনার এ যন্তণাদায়ক হরিলুটের খেলা। বন্ধ হোক জাতিরজনকের বিদেহী আত্মাকে অশান্তিতে রাখার হীন পায়তারা। বন্ধ হোক ৩০ লক্ষ শহীদের বিদেহী আত্মাকে যন্তণা দেয়ার নামে মন্ত্রণালয়ের অরাজকতা।১৯৯৬ টার্মের ভুয়া অধ্যক্ষ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান আহাদ চৌধূরী মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত সংক্রান্ত প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতকারি এবং লাল বই নামকরনে সারা দেশ থেকে অসংখ্য অমুক্তিযোদ্ধার নাম লাল বইতে তালিকাভুক্ত করে নিজের পকেট ভর্তি করেছেন। যে লাল বই এখন আওয়ামী লীগের প্রধান সম্বল বলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মুক্তিযোদ্ধারা দাবী করছেন, সে লাল বইয়ে অসংখ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকাভুক্ত করেছেন এই আহাদ চৌধুরী । একবার লুট করে খেয়েছেন। আবার আসতে চাইছেন। এদের আবার সুযোগ দেবার বদলে এদের প্রত্যাহার করুন; ঘৃণা করুন; নইলে আবার শুরু হবে আহাদ চৌধূরীর ভাগ্নে চান ভাইয়েদের দৌরাত্ব লুন্ঠন এবং সন্ত্রাস।মহান যুদ্ধের মহিমাকে যারা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কলুষিত করেছে, তাঁদেরকেই আবার ২০১৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়ন করে লুটপাটের সুযোগ দিলে ৩০ লক্ষ শহীদ ও জাতিরজনকের সাথে বেঈমানী করা হবে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্তকরণের নামে কোটি কোটি টাকা উপার্জন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে বিদেশী অতিথিদের “মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সন্মাননা” পদকের স্বর্ণ চুরি করে দেশি বিদেশী সকল মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে বেঈমানী করা ক্যাপ্টেন তাজের বিরুদ্ধে কেন কোন কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হল না? মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাজুলকে কলকাতায় জড়িত থাকার বিষয়টি জানায়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তাদের মতামত ইসলামের অব্যবহারণে দাখিল করেছে, যারা এখন খুব কমিটির প্রধান। গত বছরের ২4 এপ্রিল প্যানেলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিদেশী বন্ধুদের কাছে স্বর্ণের ক্রিস্টদেরকে সোনার পরিমাণের চেয়ে কম পরিমাণে অভিযোগের তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তদন্তের জন্য এটির আহবায়ক মো। আফসারুল আমিনসহ একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন মন্ত্রী তাজুল ইসলাম মৃত্তিকা প্রদত্ত কর্মসূচির আওতায় আক্রান্ত হন। জালিয়াতি অভিযোগের পর, মন্ত্রণালয়, যখন এটি AKM Mozammel হক দ্বারা চালানো হয়, একটি কমিটি গঠিত। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, তদন্তে তাজুলের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে, 13 মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা, সাবেক সচিব মিজানুর রহমান ও কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী এবং এই দুর্নীতির বেসরকারি সরবরাহকারীরা।দেশে কি বিচার ব্যবস্থার এতই অবনতি হয়েছে যে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী লাঞ্ছিত করছে আর তার বিচার হচ্ছে না? তাহলে জামাত বি এন পি র অত্যাচারী স্বৈরাচারী সরকার আর মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানকারী সফল রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? জামাত শিবির মুক্তিযোদ্ধাদের মার ধর করে, আমরা প্রতিবাদ করি। আজ আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী ভারতে প্রশিক্ষন নেয়া একজন মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করছে; তার কেন প্রতিবাদ হল না? তার কেন বিচার হবে না? তাহলে কি আওয়ামী লীগ সরকার ও মন্ত্রী পরিষদ স্বেচ্ছাচারী হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখতে যাচ্ছে? হারিয়ে যেতে বসেছে মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগ মহিমা গৌরব ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের তপস্যা সাধনা শ্রম ও জেল জুলুমের মহাত্ম? ৩০ লক্ষ শহীদদের আত্মত্যাগের মহিমা কি এই আ ক ম মোজাম্মেল হকদের দ্বৌরাত্বের নিকট হেরে গেল? ২ লক্ষ ৪০ হাজার মা বোনের ইজ্জত ও সম্ভ্রমের কি মর্যাদা প্রদান করলো আওয়ামী লীগ? প্রতিকার চাই। বিচার চাই; এটাই শেখের বেটির নিকট শেষ প্রত্যাশা। আওয়ামী লীগের পা চাটেন? চাটেন, এই নিচের ছবিটি কার জানেন? আমার ভারতের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নিউজিল্যান্ড প্রবাসী হানিফ মাহমুদের। শুনে বড় কষ্ট পাবেন যে এই হতভাগা হানিফ মাহমুদের নামও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নেই। এর পরেও আ ক ম মোজাম্মেল হকের মত শুয়োরের বাচ্চাদের আপনারা ভোট দেবেন? মন্ত্রী বানাবেন? জুতা পেটা করুন ওদের। ওরা মুক্তিযোদ্ধা নামের কলঙ্ক। ওরাই প্রকৃত রাজাকার। ওদের ফাঁসি দিন যারা গরীব দুখি হতভাগা মুক্তিযোদ্ধাদের নাম কেটে দিয়ে নিজেদের আত্বীয় স্বজন ও রাজাকারের বংশধরদের মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে ভাতা প্রদান করে। মোজাম্মেল হকদের প্রতিশোধ নিতে হবে ব্যালটের মাধ্যমে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে; মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দিয়েছে আর ক্যাপ্টেন তাজ আহাদ চৌধূরী রেদোয়ান আহমেদ সুবিদ আলী ভুইয়া ও আকাইম্মা মোজাম্মেল হককে দিয়েছে কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স করার সুযোগ। সূতরাং “আপনার মন্ত্রীদের কর্মকাণ্ডের সুফল কুফল দুটোই আপনি ভাগিদার কারন আপনি দলীয় প্রধান এবং সরকার প্রধান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, খবর নিন; কি হচ্ছে দেশের অভ্যন্তরে? কি করছে আপনার গুনধর মন্ত্রীগণ? কি করছে দেশের জেলা উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের নামে, বঙ্গবন্ধুর নামে কমান্ডার নামের ডাকাতদল? বিগত বছরের সকল উন্নয়নের প্রশংসা যেমন আপনার প্রাপ্য ঠিক আমলা মন্ত্রী নেতা নেত্রীদের অপকর্মের দুর্নামও আপনার জীবন খাতায় লিপিবদ্ধ হবে; ইতিহাস তাই বলে। জাতিরজনক চুরি করেনি, জাতিরজনক সরকারী কোষাগার থেকে নিজের বেতনও অনেক সময় গ্রহন করেন নি; সেই বংগবন্ধুকেই এই গাজী গোলাম মোস্তফাদের মত চোরের দল কম্বল চুরি করে আওয়ামী লীগের ৩০ বছরের সুনাম খ্যাতি অর্জন এবং বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ তিতিক্ষাকে ধুলায় লুন্ঠিত করে কলঙ্কিত করেছিল। আপনি কি তেমনি কলংকের থেকে বাচতে পারবেন? মোটেই না। চুরি করে ডাকাতি করে সন্তান আর মানূষ ডাকে চোরের বাবা বলে। আওয়ামী লীগের অধঃপতন হোক, এমন কুশব্দ যেনো মূখে না আসে কখনো; কিন্তু পতনের বাঁশী কি শুনতে পান না আপা? আওয়ামী মন্ত্রী নেতাদের দুর্নীতি স্বজনপ্রীতি জামাত বি এন পির লোভী সন্ত্রাসীদের দলে ভিরিয়ে নিজের পকেট ভারী করার জঘন্য মনোবৃত্তির সংবাদ গুলো কি আপনার নিকট যায় না? আপনার অফিসে বাসায় চারিদিকে যে চামচগুলো তেলের ডিইব্যা নিয়ে আপনার পিছনে ২৪ ঘণ্টা দৌড়ায়, ওরা কি আপনাকে ১৯৭৪ এর দুর্ভিক্ষের মত দুঃসংবাদগুলো পৌছায়? আমার মনে হয় না। আপনি প্রতিদিনের সংবাদ পত্রে যা পড়েন, যা শোনেন, তাঁর অন্তরালের সংবাদ আপনাকে পড়তে দেয়া হয় না। আল্লাহ্‌ আপনাকে দীর্ঘায়ু দান করুন। অবহেলিত আসল মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে সহায়তা করুন। 
মোকতেল হোসেন মুক্তি 
মুক্তিযোদ্ধা 
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি 
মালদ্বীপ আওয়ামী লীগ 
মালদ্বীপ বঙ্গবন্ধু পরিষদ 
সময়৭১ 
কন্ঠশিল্পী 
সঙ্গীত শিক্ষক 
মালে 
মালদ্বীপ

শেখ হাসিনার বৈশ্বিক নেতৃত্ব

শেখ হাসিনার বৈশ্বিক নেতৃত্ব

বিশ্বশান্তি ও উন্নয়ন প্রসঙ্গ

‘দেশ ও বিশ্বপরিম-লে শেখ হাসিনা আজ গণতন্ত্র, উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও শান্তির প্রতীক। তারই নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতিসংঘে অনেকগুলো প্রস্তাব আনে, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানবকল্যাণ, টেকসই উন্নয়ন এবং সকল জাতিসত্তার অব্যাহত উন্নয়ন ও মুক্তি।’

04

ড. আব্দুল মোমেন: প্রাণঘাতী যুদ্ধ-বিগ্রহ আর অযুত মানুষের হত্যাযজ্ঞের ওপর দাঁড়িয়ে শান্তির অন্বেষায় ১৯৪৫ সালে যে বিশ্ব সংস্থাটির জন্ম, সেই জাতিসংঘ পরিপূর্ণারূপে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সফল হয়েছে কি-না তা এখনও বিশ্বজুড়ে একটি আলোচ্য বিষয়। তবুও সাবেক মহাসচিব দ্যাগ হ্যামার্শ্যল্ড-এর ভাষায় বলতে হয়, ‘জাতিসংঘ আমাদের স্বর্গে নিতে না পারলেও নরক থেকে দূরে রাখতে সমর্থ হয়েছে।’ পৃথিবীর নানা অঞ্চলের সংঘাতপূর্ণ বিষয় ও সমস্যার ওপর আলোচনা, বিতর্ক ও সংলাপ যেমন জাতিসংঘ আয়োজন করে চলেছে, তেমনি সংস্থাটি অন্তত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এই পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখতে সমর্থ হয়েছেÑ এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। আশার কথা হচ্ছে, এই যে জাতিসংঘের নিরলস প্রয়াসের কারণেই আজ পৃথিবীতে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার কমেছে, প্রসূতি মায়েরা অধিক হারে সুস্থ সন্তানের জন্ম দিচ্ছে, লাখ লাখ শিশু স্কুলে যাচ্ছে এবং কোটি কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধার ভয়াল চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে। তবে এই অর্জন সম্ভব হতো না, যদি বৈশ্বিক নেতৃত্বের গতিশীলতা, দৃঢ়সংকল্প ও প্রয়াস না থাকতÑ যারা স্ব-স্ব দেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়নে এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে ইস্পাত কঠিন সংকল্প নিয়ে কাজ করেছেন এবং এখনও করে চলেছেন। তেমনি এক নেতৃত্ব জাতিসংঘের স্বীকৃৃতিসহ সারা পৃথিবীতে সুশাসনের জন্য নিজের দেশের সম্মান ও গৌরব বৃদ্ধি করেছেন। নিজের দেশসহ সারা পৃথিবীতেই নিরাপত্তা, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্তি এবং স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য এই নেতৃত্ব বিশ্বসভায় অগ্রসর অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। সেই নেতৃত্ব আর কেউ নন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিম-লেও আজ ন্যায় ও সুশাসন এবং উন্নয়নের প্রতীক বলে খোদ জাতিসংঘই বলছে বাংলাদেশ ও দেশটির নেতা শেখ হাসিনার কথা।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন সুশাসন ও মানবতার প্রতি বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনার এই সংকল্প? কেন তিনি নিজের দেশের মানুষ এবং বিশ্বের জন্য দারিদ্র্য দূরীকরণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে লিপ্ত? কেন তিনি বৈষম্যহীন এবং সকলের অংশগ্রহণমূলক, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি ‘সোনার বাংলা’ গঠনের স্বপ্নে বিভোর? কেন তিনি জাতিসংঘের নেতৃত্বে বিশ্বে সন্ত্রাস ও ধর্মীয় উগ্রবাদমুক্ত পৃথিবী উপহার দিতে প্রয়াসী? কেন তিনি নিজের দেশ এবং পৃথিবীর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় এতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ? জাতি, লিঙ্গ, ধর্ম, বর্ণ এবং দেশের সীমারেখা নির্বিশেষে কেন তিনি একটি সহনশীল ও নিরাপদ বিশ্ব গঠনে জাতিসংঘকে অকুণ্ঠ সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছেন? কেন দৃঢ়ভাবে জাতিসংঘ সনদের আলোকে আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং বহুমাত্রিক কূটনৈতিক তৎপরতার প্রতি এতটা আস্থাশীল হয়ে বৈশ্বিক শান্তির পতাকা বয়ে বেড়াতে তিনি সদা তৎপর? এ প্রশ্নগুলো গভীরভাবে ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে। ---

শেখ হাসিনা এমন একটি সমাজের মানুষ যেখানে সুদূর অতীত থেকেই, ১৪৯২ সালে কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কার বা ষোড়শ শতাব্দীর ইউরোপীয় শিল্প বিপ্লবেরও আগে, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ছিল। কবি চ-ীদাসের ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’, কিংবা কাজী নজরুল ইসলামের ‘গাহি সাম্যের গান, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান’Ñ এসব লেখায় আমরা সেই ইতিহাসের সাক্ষ্য পাই। চ-ীদাসের এ দর্শনতত্ত্ব বাঙালির মনন ও মানসের এতটাই গভীরে প্রোথিত যে তা শতাব্দীর পর শতাব্দী উচ্চারিত হয়েছে। মানবতাই সবার ঊর্ধ্বেÑ তেমনি এক আলোকিত পরিম-ল থেকে উঠে এসেছেন শেখ হাসিনা। তিনি এমন এক পরিবার থেকে এসেছেন, দেশ ও মানবতার জন্য আত্মত্যাগ যাদের অপরিসীম। তার পিতা সারাটা জীবন অতিবাহিত করে গেছেন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে। গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য যাকে জেল খাটতে হয়েছে জীবনের দীর্ঘ সময়। তিনি চেয়েছিলেন একটি শোষণমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র যেখানে সকলের জন্য সমানাধিকার, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার,

অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-চিকিৎসা-শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। তার স্বপ্ন ছিল এমন একটি দেশ যার মূল ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ, শান্তি-সমৃদ্ধি এবং জননিরাপত্তা; যেখানে থাকবে না ক্ষুধা-দারিদ্র্য, শোষণ এবং অবিচার। এহেন একটি শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে যখন বঙ্গবন্ধু আত্মনিয়োগ করেছেন তার সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশে, ঠিক তখনই ১৯৭৫ সালে তাকে সপরিবারে হত্যা করে পরাজিত পাকিস্তানিদের দোসর এদেশীয় ঘাতকচক্র। ওই ভয়াল হত্যাকা-ে শেখ হাসিনা কেবল তার পিতাকেই নয়, হারান পরিবারের প্রায় সব সদস্যকে; এমনকি তার ৯ বছরের ছোট্ট শিশু ভাইকেও রেহাই দেয়নি খুনিরা। শুধু তিনি নিজে এবং তার ছোট বোন বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

মানুষের জন্য শেখ হাসিনার জীবনসংগ্রাম এখানেই শেষ নয়, তিনি এ পর্যন্ত ২৩ বার প্রাণঘাতী হামলার শিকার হয়েছেন। প্রতিটি হামলার ক্ষেত্রেই তার প্রিয় রাজনৈতিক সহকর্মীদের অনেকেই নিহত বা আহত হয়েছেন; নয় তো পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে, প্রিয় সহযোদ্ধাদের হারিয়েও শেখ হাসিনা দমে যাননি। তার লড়াই-সংগ্রাম চলছে। সারাবিশ্বে আর কোনো দেশে এমন একজন নেতা খুঁজে পাওয়া যাবে না যিনি নিজের সর্বস্ব হারিয়েও দেশের আপামর জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার এবং একটি উন্নত-সুন্দর জীবন প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি নিয়ত সংগ্রাম করে চলেছেন। দেশে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-চিকিৎসা-শিক্ষাসহ সকল মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবিচল থেকে তিনি কাজ করে চলেছেন নিরন্তর।

এতে সন্দেহের কোনো

অবকাশই নেই যে দেশ ও বিশ্বপরিম-লে শেখ হাসিনা আজ গণতন্ত্র, উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও শান্তির প্রতীক। তারই নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতিসংঘে অনেকগুলো প্রস্তাব আনে, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানবকল্যাণ, টেকসই উন্নয়ন এবং সকল জাতিসত্তার অব্যাহত উন্নয়ন ও মুক্তি। উদাহরণস্বরূপ, তারই নেতৃত্বে ও তারই আনীত প্রস্তাবের কারণে জাতিসংঘে আজ ‘উন্নয়নের অধিকার’ একটি মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ১৩২৫ নম্বর প্রস্তাবের কল্যাণে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণের প্রতিটি পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনার কল্যাণেই আজ জাতিসংঘে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ বা ‘ঈঁষঃঁৎব ড়ভ চবধপব’ চালু হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী জোরালভাবে অনুসৃত হচ্ছে।

কেন এই শান্তির সংস্কৃতি এতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাসঙ্গিক? এর মূলনীতি হচ্ছে এমন একটি আবহ সৃষ্টি করা যার মাধ্যমে পরমত সহিষ্ণুতা এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করা যায়Ñ জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা এবং নৃ-গোষ্ঠীগত পরিচয় নির্বিশেষে। কেননা, শান্তির সংস্কৃতি বিশ্বাস করে যে, অসহিষ্ণুতা এবং ঘৃণা থেকেই সর্বপ্রকার বিরোধ, সহিংসতা ও যুদ্ধের উৎপত্তি। তাই সকলের মাঝে যদি পারস্পরিক সহিষ্ণুতা এবং শ্রদ্ধাবোধ সৃজন করা যায়, তা হলেই আমরা যুদ্ধহীন ও সংঘাতমুক্ত এক পৃথিবী গড়তে পারব। তা হলেই সম্ভব হবে স্থায়ী উন্নতি, সমৃদ্ধি ও শান্তি অর্জনÑ জাতিসংঘের মূল লক্ষ্যও তাই। আশার কথা এই যে বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনা অনুসৃত শান্তির সংস্কৃতি আজ বিশ্বজুড়ে, সকল জাতির মাঝেই ব্যাপকভাবে অনুভূত হচ্ছে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশ আজ সর্বোচ্চ সৈন্যদাতা রাষ্ট্র। যুদ্ধ আক্রান্ত রাষ্ট্রে যাতে সাধারণ মানুষ এবং শান্তিরক্ষীরা সুরক্ষিত থাকে সে বিষয়ে শেখ হাসিনা বদ্ধপরিকর। বিশ্বে তিনিই একমাত্র নেতা যিনি এমনকি বড়দিনের ছুটির মাঝেও জাতিসংঘ মহাসচিবের অনুরোধে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শান্তিরক্ষী প্রেরণের নির্দেশনা দিয়েছেন। শান্তিরক্ষী প্রেরণে তিনি কখনোই কার্পণ্য করেননি। এটি কোনো বিস্ময়ের ব্যাপার নয় যে ১ লাখ ৩৮ হাজার শান্তিরক্ষী বাহিনীর সমন্বয়ে জাতিসংঘ সারা পৃথিবীতে শান্তি রক্ষা করতে সমর্থ হচ্ছে যেসব সৈন্যের অনেকেই তাদের জীবনের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। তারা প্রকৃত অর্থেই শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কারের দাবিদার।

শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতিসংঘে দুটি যুগান্তকারী প্রস্তাব আনে ২০১২ সালে, যা সর্বসম্মতিক্রমে বিশ্বসভায় গৃহীত হয়। এর প্রথমটি ছিল অটিজম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের অধিকার সংক্রান্ত, আর দ্বিতীয়টি জনগণের ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত। তিনি বিশ্বাস করেন, সবারই অংশগ্রহণের সমান সুযোগ রয়েছে, কারোরই বাদ পড়ার কথা নয়। মানবতা ও উন্নয়নে সবাই নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখতে পারে। তাই অটিজমে আক্রান্ত এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের জীবন যন্ত্রণা ও বঞ্চনার বিষয়টি যখন তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন উত্থাপন করেন, বাংলাদেশ দ্রুত এ বিষয়টি বিশ্বসভায় উত্থাপন করে এবং বিশ্বনেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ ও সমর্থন আদায় করে।

অটিজম এবং প্রতিবন্ধিতা সংক্রান্ত অনেকগুলো বড় বড় সভা আহ্বান করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘ এবং তার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সামনে বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ার পরপরই মহাসচিব তা সাধারণ পরিষদে সেগুলো প্রস্তাবিত ও অনুমোদিত হয় এবং সদস্য রাষ্ট্রসহ সবকটি জাতিসংঘ সংস্থার কর্মকা-ে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়। এক্ষেত্রে বৈশ্বিক নেতৃত্বটি অবশ্যই বাংলাদেশের এবং দেশটির নেতা শেখ হাসিনার।

বিগত ৪০ বছরের জাতীয় ও বৈশ্বিক রাজনীতির অভিজ্ঞতা থেকে শেখ হাসিনা জানেন যে সামনের দিনগুলোতে বিশ্বের প্রধানতম চ্যালেঞ্জগুলো হবে জলবায়ু পরিবর্তন, বেকারত্ব, আর্থিক সংকট, দীর্ঘস্থায়ী ক্ষুধা ও দারিদ্র্য এবং এগুলো থেকে উদ্ভূত হাজারও সমস্যা। তাই তিনি বিশ্বাস করেন এই চ্যালেঞ্জগুলো তখনই মানুষ অতিক্রম করতে সক্ষম হবে যখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা যাবে। একেই তিনি বলছেন জনগণের ক্ষমতায়ন। এটি সম্ভব হলে সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী শক্তি, সক্ষমতা এবং কার্যকরিতার সাথে মানুষ কাজ করতে পারবে, ফলে সবাই সমভাবে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে পারবে। তাই জনগণের ক্ষমতায়নের প্রতি তিনি এতটা গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে জনগণকে ক্ষমতায়িত করা যাবে? বিষয়টিকে তিনি ৬টি আন্তঃসংযুক্ত চলকের দ্বারা বিশ্লেষণ করেছেনÑ প্রথমত; মানুষের ক্ষমতায়ন হবে চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্তি সম্ভব হলে, দ্বিতীয়ত; তাদের ক্ষমতায়ন সম্ভব হবে প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কারিগরি জ্ঞান ও মানসম্মত শিক্ষাদানের মাধ্যমে যাতে করে তারা নিজেরাই কর্মসংস্থান বা উপযুক্ত চাকরির ব্যবস্থা করে স্বাবলম্বী হবে, তৃতীয়ত; তাদের ক্ষমতায়ন সম্ভব হতে পারে বৈষম্য ও বঞ্চনার অবসানের মাধ্যমে, চতুর্থত; সন্ত্রাস নির্মূল করে একটি নিরাপদ জীবন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায়ন করা যাবে, পঞ্চমত; এতদিন যারা উন্নয়ন ও মূল জীবনধারার বাইরে ছিল, তাদের অন্তর্ভুক্ত করে ক্ষমতায়ন করা যাবে এবং সর্বোপরি, তাদের ক্ষমতায়ন সম্ভব হবে ভোটাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে ও শাসন ব্যবস্থায় সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে।

শেখ হাসিনার ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ ধারণাটি জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনসসহ সদস্য রাষ্ট্রসমূহের নেতৃবৃন্দের মধ্যেও অনুরণিত হয়েছে। ২০১২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত ‘রিও+২০ বিশ্ব সম্মেলনে’ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ‘যেমন ভবিষ্যৎ চাই’ শীর্ষক দলিল গ্রহণ করেন যার মধ্যে শেখ হাসিনা প্রণীত জনগণের ক্ষমতায়ন নীতিমালা এবং তার সাথে জড়িত আদর্শ অনুসৃত হয়। উক্ত সম্মেলনে দারিদ্র্য দূরীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়, যার মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে সকলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতা অর্জন। সম্প্রতি জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত প্রস্তাব যা, ‘20130 Agenda for Sustainable WorldÕ বা ÔSDGs’ নামে পরিচিত সেটির মূল ভিত্তিই ছিল রিও+২০ তে অনুসৃত শেখ হাসিনার জনগণের ক্ষমতায়ন তত্ত্ব। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা জাতিসংঘে গ্রহণ করেন ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, যার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের যথার্থভাবেই শেখ হাসিনা প্রণীত জনগণের ক্ষমতায়ন নীতিমালার আলোকে সবার অন্তর্ভুক্তি, মানসম্মত শিক্ষা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দারিদ্র্য দূরীকরণ, জনগণের অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, সুশাসন ইত্যাদি নির্ধারিত হয়।

তার গতিশীল নেতৃত্বে জাতিসংঘে বাংলাদেশ কর্তৃক উত্থাপিত প্রতিটি বিষয়ই এসডিজি-র ১৭টি লক্ষ্য এবং ১৬৯টি উদ্দেশের মাঝে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, অভিবাসন ও উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গ-সমতা, শুল্কমুক্ত কোটামুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার, জলসম্পদের আন্তঃদেশীয় ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য, নীল অর্থনীতি (সাগর ও মহাসাগর), বিশ্ব আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকতর অংশগ্রহণের সুযোগ, শান্তি ও স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন, পারস্পরিক সহযোগিতা, এলডিসি ইস্যু ইত্যাদি।

জাতিসংঘের সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে অবিস্মরণীয় অগ্রগতি, তা মূলত সম্ভব হয়েছে দেশটির নেতা শেখ হাসিনার উন্নয়ন চিন্তা এবং জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে তার অবিচল প্রতিজ্ঞার কারণেই। সম্পদের ব্যাপক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কেবল নেতৃত্বের বিচক্ষণতা, দৃঢ়তা এবং সঠিক দিক-নির্দেশনার কারণেই বাংলাদেশ এই লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে। এককালে যে দেশকে বলা হয়েছিল ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ (Bottomless Basket), যার ‘সফল হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই’ বিশ্ব মোড়লেরা দেখেনি, সেই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আজ ৬.৩ শতাংশ, তাও আবার এক নাগাড়ে সাত বছর ধরে। চরম দারিদ্র্য ১৯৯১ সালে যেখানে ছিল ৫৭.৮ শতাংশ, ২০১৫ সালে তা কমে এসেছে ২২.৪ শতাংশেরও নিচে। একই সাথে নবজাত শিশু মৃত্যুর হার ৭৩ শতাংশ কমিয়ে আনতে পেরেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের সর্বাধিক জনঅধ্যুষিত ও স্বল্প আয়তনের এক দেশের জন্য এই সাফল্য একেবারে কম নয়। আর এই অর্জন সম্ভব হয়েছে কেবল শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের কারণেই।

দেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক বিরোধিতা এবং নানান প্রতিবন্ধকতার মধ্যও শেখ হাসিনা তার দৃঢ় ও আপসহীন সিদ্ধান্তের দ্বারা দেশকে উন্নয়নের পথে যেভাবে পরিচালিত করেছেন, তার কল্যাণেই বাংলাদেশ খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে, অথচ পূর্বে দীর্ঘ সময় ধরে দেশটি ছিল খাদ্য ঘাটতির মধ্যে। এই ব্যাপক পরিবর্তনের জন্য শেখ হাসিনা এবং তার দেশবাসী বিশ্বসভায় সাধুবাদ পেতেই পারেন। আর তারই প্রমাণ আমরা দেখি যখন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নের মডেল’ এবং ‘নারীর ক্ষমতায়নের উজ্জ্বল নক্ষত্র’। আমেরিকার প্রভাবশালী ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ভাষায় বাংলাদেশ হচ্ছে ‘দক্ষিণ এশিয়ার আলোকবর্তিকা’ আর গোল্ডম্যান শ্যাক্স তাদের গ্লোবাল অবস্থানে বাংলাদেশকে এন-১১ তে উন্নীত করেছে, যার অর্থ হচ্ছে ১১টি অগ্রসরমান অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ।

দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম প্রধান দেশের সুনাম অর্জন করেছে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনার নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে একাধিক পদকে ভূষিত করেছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনের জন্য এমডিজি-৪ পুরস্কার (২০১০)। সাউথ-সাউথ পুরস্কারে তিনি ভূষিত হন ২০১৩ সালে, দেশজুড়ে ১৩ হাজার ৮০০ কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ৪ হাজার ৫০১টি ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে জনগণকে সফলভাবে ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তির সংযোগের আওতায় নিয়ে আসার স্বীকৃতিস্বরূপ। ২০১৪ সালে তাকে সাউথ-সাউথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় বিশ্বের দক্ষিণের দেশগুলোতে নেতৃত্বের দূরদর্শিতার স্বাক্ষর হিসেবে। ২০১৫ সালে তিনি জাতিসংঘ কর্তৃক দুটি পুরস্কারে ভূষিত হন, এগুলো হচ্ছেÑ জলবায়ু পরিবর্তনে প্রভাব মোকাবিলায় সফলতার জন্য ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পুরস্কার এবং টেলিযোগাযোগ খাতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন সংস্থার পুরস্কার বা ‘আইটিইউ অ্যাওয়ার্ড’।

২০০০ সালে যখন জাতিসংঘে সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) ঘোষণা প্রদান করা হয় তখন শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নেতা হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আবার ২০১৫ সালে যখন ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের লক্ষ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা (এসডিজি) হয় তখনও তিনি বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘে নেতৃত্বদান করেন। তিনি বিশ্বের একমাত্র নেতা যিনি জাতিসংঘের উন্নয়ন সংক্রান্ত এ দুই মাইলফলক ঘোষণার সময় নিজের দেশের নেতা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তার দেশ সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে মর্মে ২০০০ সালের সম্মেলনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশ্রুতি দেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সামনে। সেই প্রতিশ্রুতি তিনি রক্ষা করেছেন। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সেই যে সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছে। ২০১৫ সালের সম্মেলনে আবার যখন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেন (যা ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জন করতে হবে)

তখন শেখ হাসিনা বিশ্বসভায় এই প্রতিশ্রুতি দেন যে তার দেশ এই লক্ষ্যমাত্রাও যথাসময়ে পূরণ করবে। শুধুু সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকেন নি তিনি, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে তারই স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছেন তারই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী ও বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনা। এ হবে এমন এক বাংলাদেশ যেখানে সবাই পাবে সমানাধিকার, ন্যায়বিচার এবং সুষম উন্নয়নের সুযোগ। যেখানে সমৃদ্ধি ও শান্তির মাঝে বাস করবে দেশের প্রতিটি মানুষ। সেই স্বপ্নই দেখেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।

সাউথ-সাউথ দেশগুলোর অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিধি ক্রমেই বাড়ছে। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিমাণ ২ গুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের এক বিশাল বাজারে পরিণত হবে এ দেশগুলো। তা সত্ত্বেও এ দেশগুলোর পূর্ণ সম্ভাবনা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য এ দেশগুলোর প্রতিবছর ৫ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করতে হবে। বর্তমানে বৈদেশিক সাহায্য স্কিমের আওতায় উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্রসমূহ বছরে ১৩৮ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়ে থাকে যার মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে যায় মাত্র ৩৮ থেকে ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য অর্থ পর্যাপ্ত নয়। সাউথ-সাউথ দেশগুলোর অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোার জন্য এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অগ্রগতি যথাযথভাবে তদারকি ও মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশ সাউথ-সাউথ দেশগুলোর অর্থ ও উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রীদের একটি ফোরাম গঠনের প্রস্তাব করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহল কর্তৃক সমর্থিত হয়েছে। সম্প্রতি চীন সাউথ-সাউথ সহযোগিতার জন্য ১ বিলিয়ন ডলারেরও ‘আধুনিক বিশ্বে বাংলাদেশ আরও একটি কারণে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করছে, তা হলোÑ একটি শক্ত, সৃজনশীল ও পরিশ্রমী অভিবাসী শ্রমিকদের দেশ হিসেবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আজ বাংলাদেশের প্রায় ৯০ লাখ প্রবাসী নাগরিক রয়েছেন যারা কঠোর পরিশ্রম বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্ধু রাষ্ট্রসমূহের অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রাখছেন, তাদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছেন।’ বেশি অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে।

শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো কর্তৃক ২১ ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা শহীদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সক্ষম হয়। এ কথা আজ সারাবিশ্ব জানে যে, ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাংলাদেশের জনগণ তাদের বুকের রক্ত দিয়েছে। সেই আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ পৃথিবীর সব জাতির মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রয়াসে সেই দিনটিকে জাতিসংঘ সম্মানিত করেছে, যা আজ বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সব দেশে পালিত হচ্ছে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ আইনের শাসনে প্রতিষ্ঠার অনন্য নজির স্থাপন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমা নিয়ে প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সাথে যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল সেই বিষয়ে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র-আইন সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত তিনি গ্রহণ করেন, তারই ফলস্বরূপ বাংলাদেশ তার সমুদ্রসীমার ওপর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্র ভারত এবং মিয়ানমারও তাদের আইনগত ন্যায্য পাওনা পেয়েছে। কোনো সংঘাত বা যুদ্ধ ছাড়াই এহেন বিরোধ নিষ্পত্তির ঘটনা পৃথিবীতে বিরল।

শেখ হাসিনার শাসনের প্রথম মেয়াদে (১৯৯৬-২০০১) বাংলাদেশে কয়েকটি যুগান্তকারী ঘটনা ঘটে। এর প্রথমটি ছিল ভারতের সাথে দীর্ঘদিনের সমস্যা গঙ্গা নদীর পানির বণ্টনের ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর। এর মাধ্যমে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ গঙ্গা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় যে ঐতিহাসিক ঘটনা সেই সময়ে ঘটে সেটি হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর। যে সমস্যার আবর্তে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের দোলাচলে সেই সময় পর্যন্ত ২৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, রাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপ নিয়ে শেখ হাসিনা সেই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের অবসান ঘটান বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে। পৃথিবীর সাম্প্রতিক ইতিহাসে শান্তি প্রতিষ্ঠার এমন নজির বিরল। মার্কিন কংগ্রেস এবং বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এই সাহসী দুই চুক্তির জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও সাহসী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রসংশা করেছে। সম্প্রতি কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা, রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও প্রশাসনিক কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভারতের সাথে অর্ধশতক ধরে ঝুলে থাকা ছিটমহল সমস্যার সমাধান করেছেন ৬৮ বছর আগের ‘সীমান্ত নির্ধারণ চুক্তি’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে। ফলে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার এবং ন্যায়বিচার পেয়েছে দীর্ঘদিন ভাগ্যবিড়ম্বিত থাকা উভয় দেশের ছিটমহলবাসী। প্রকৃত অর্থেই শেখ হাসিনা শান্তি ও স্থিতিশীলতার মূর্ত প্রতীকে পরিণত হয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জন্য। আশার আলোকবর্তিকা হয়ে তিনি আবির্ভূত হয়েছেন বিশ্বের শত কোটি নিপীড়িত মানবতার জন্য।

আধুনিক বিশ্বে বাংলাদেশ আরও একটি কারণে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করছে, তা হলোÑ একটি শক্ত, সৃজনশীল ও পরিশ্রমী অভিবাসী শ্রমিকদের দেশ হিসেবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আজ বাংলাদেশের প্রায় ৯০ লাখ প্রবাসী নাগরিক রয়েছেন যারা কঠোর পরিশ্রম বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্ধু রাষ্ট্রসমূহের অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রাখছেন, তাদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছেন। একই সাথে নিজেদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা স্বদেশে পাঠিয়ে তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তবে এসব প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনে থাকে অজ¯্র দুঃখগাঁথা, বঞ্চনা আর প্রতারণা কাহিনি। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা নিজেদের ন্যায্য বেতনটুকু থেকেও বঞ্চিত হন। অথচ এই প্রবাসীরাই মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে কি অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছেন বিদেশের মাটিতে। আবার আজ তারা সেই বিদেশে থেকেও নিজের দেশকে সমৃদ্ধ ও উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যেতে রাখছেন ব্যাপক অবদান। সহ¯্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আয় রেখেছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। দেশে বিনিয়োগ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি। ৯০ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের ওপর দেশের প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষ নির্ভর করে, যাদের সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এই অভিবাসী শ্রমিক এবং বিদেশে অবস্থানরত দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীদের স্বীকৃতি প্রদান করেছে; তাদের সুরক্ষা এবং দেশে তাদের বিশেষ সম্মানের ব্যবস্থা করেছে এবং তাদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য গ্রহণ করেছ নানামুখী পদক্ষেপ। প্রবাসে তাদের সমস্যা সমাধানে নিদের দেশের সরকারি প্রতিনিধি/কূটনীতিকদের যেমন তিনি নির্দেশনা দিচ্ছেন ঠিক তেমনি বিশ্বসভায় তিনি এই দাবি তুলেছেন যে প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে হোস্ট কান্ট্রি বা শ্রমিকদের অবস্থানকারী রাষ্ট্রের দায়িত্ব অনেক। তাদেরই এটি নিশ্চিত করা কর্তব্য যাতে তাদের দেশে প্রবাসী শ্রমিকদের কেউ শোষণ, নির্যাতন বা কোনোরকম বৈষম্য বা বঞ্চনার শিকার হতে না হয়। একই সাথে উন্নত দেশগুলোরও এ বিষয়ে যতœবান হওয়া উচিত যাতে তাদের দেশে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত হয় এবং সেই সব সংগ্রামী শ্রমজীবী জনতা যেন কোনো প্রকার শোষণ, নির্যাতন বা প্রতারণার শিকার না হন।

দেশে এবং বিদেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের অধিকার আদায়ে এতটা সোচ্চার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কণ্ঠস্বর হতে পারে বলেই হয়তো বাংলাদেশ গত ৬টি বছরের জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনে এবং বিভিন্ন কমিটিসমূহের নির্বাচনে জয়লাভ করে নির্বাচিত হয়েছে। বস্তুত, এ সময়ের মধ্যে কোনো আন্তর্জাতিক নির্বাচনেই বাংলাদেশ পরাজিত হয়নি; বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রসমূহ বাংলাদেশের কথা ভেবে, বাংলাদেশ নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে ওইসব নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারও করে নিয়েছে। বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ তথা বিশ্ব নেতৃত্বের আস্থা এবং প্রগাঢ় ভরসারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে এসব আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে।

জাতিসংঘের সেকেন্ড কমিটির চেয়ার হিসেবে অধিকাংশ বিতর্কেই বাংলাদেশ সকল সদস্যকে মতৈক্যে নিয়ে আসতে পেরেছে। পিস বিল্ডিং কমিটি (পিবিসি) বা অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইসিওএসওসি) চেয়ার হিসেবে বিশ্বব্যাংকে জাতিসংঘ কমিটিসমূহের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করাতে সক্ষম হয় বাংলাদেশে। সাউথ-সাউথ কো-অপারেশনের চেয়ার হিসেবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বাধাসমূহ ও করণীয় চিহ্নিতকরণে বাংলাদেশ নেতৃস্থানীয় ভূমিকা গ্রহণ করে। জাতিসংঘের ব্যুরো সদস্য এবং এলডিসি গ্রুপের চেয়ার হিসেবে ইস্তাম্বুল কর্মপরিকল্পনা (আইপিএও) প্রণয়নে বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা রাখে; শুধু তাই নয়, জাতিসংঘের বিভিন্ন ফান্ড যেমন ইউনিসেফ, ইউএনডিপি, ইউএন উইমেন, জাতিসংঘ জনসংখ্যা কমিশন ইত্যাদির চেয়ার হিসেবে ওইসব অঙ্গ সংগঠনের কর্মপরিকল্পনায় ইস্তাম্বুল কর্মপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যতম ভূমিকা পালন করে।

সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতিসংঘ কমিটির ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে ২০১০ সালে বাংলাদেশ উক্ত কমিটির প্রস্তাব সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মতৈক্যের অর্জনে সফল হয়। ‘মানবপাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতিসংঘের বন্ধু’ রাষ্ট্রসমূহের সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের প্রস্তাব পাসের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। মানবপাচার প্রতিরোধ ও অবসানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সাহসের সাথে উটের জকি ও দাস হিসেবে শিশুদের ব্যবহারের বিরুদ্ধে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মাঝে সোচ্চার জনমত গড়ে তোলেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে পাচার হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি শিশুদের উদ্ধারের নির্দেশ দেন ও তাদের উদ্ধার পরবর্তী পুনর্বাসনের পদক্ষেপ সংক্রান্ত সার্ক সম্মেলনে ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতিসংঘের ‘ফ্রেন্ডস অব মিডিয়েশন’, ‘ফ্রেন্ডস অব ইনএ্যলিনেবল্ রাইটস অব প্যালেস্টাইন’, ‘ফ্রেন্ডস অব নো ফুড ওয়েস্ট, নো ফুড লস’ ইত্যাদি ভূমিকায় মানবতার মর্যাদা রক্ষা এবং জাতিসংঘ সদনের লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

বস্তুতপক্ষে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতিসংঘে একটি অত্যন্ত সম্মানজনক সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে এবং বর্তমানে ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে জাতিসংঘ কর্তৃক বাংলাদেশকেই চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। কেবল সর্বোচ্চ সৈন্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবেই নয়, সক্ষমতার সাথে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাকারী দেশ হিসেবেও বাংলাদেশের সুনাম আজ জাতিসংঘে ব্যাপক। জাতিসংঘের ‘হি অ্যান্ড শী’ প্রোগ্রামের চ্যাম্পিয়ন হিসেবেও বাংলাদেশের নাম চলে আসে সবার আগে। জাতিসংঘ মহাসচিবের ‘শিক্ষাই সর্বাগ্র’ শীর্ষক প্রকল্পে এবং মহাসচিবের স্বাস্থ্যরক্ষা সংক্রান্ত উদ্যোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে গণ্য করা হয়। মহাসচিবের নেতৃত্বে শান্তিরক্ষী নিয়োগ সংক্রান্ত সিনিয়র পরামর্শক কমিটির সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষীদের নীল হেলমেট প্রদানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা সংক্রান্ত আঞ্চলিক রিভিউ কমিটির ঢাকা কনফারেন্সের আয়োজন করে বাংলাদেশ, ২০১৪ সালে এবং সদস্য রাষ্ট্রসমূহের শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণ দান করে। প্রতি ১০ শান্তিরক্ষীর মধ্যে একজন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ নারী শান্তিরক্ষীদের জন্য নীল হেলমেট, বর্ম ও তলোয়ার চালানো এবং পুলিশের একটি নারী ইউনিট বসানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

জলবাযু পরিবর্তন মোকাবিলার ক্ষেত্রে জাতিসংঘে অত্যন্ত সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অপূরণীয় ক্ষতি ও চ্যালেঞ্জকে বিশ্ববাসীর সামনে যথার্থভাবে তুলে ধরতে তিনি সদা সচেষ্ট থেকেছেন। তিনিই একজন নেতা যিনি এ বিষয়টিকে বিশ্ববাসীর সামনে বারংবার তুলে ধরেছেন যে, পরিবেশ দূষণকারী না হয়েও স্বল্পোন্নত ও দ্বীপ-রাষ্ট্রসমূহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সবচেয়ে বড় হুমকির মধ্যে রয়েছে। কেবল বাগাড়ম্বর বা উচ্চবাচ্য না করে এ বিষয়টি তিনি কর্মপরিকল্পনার মধ্যে গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে কীভাবে বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগুনো যায় তা নিজে তদারক ও কাজ করে চলেছেন। আজ সম্পদের স্বল্পতা ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা সংক্রান্ত দুটি ফান্ড গঠন করেছে। তাই সংগত কারণেই জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) তাকে চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ পুরস্কারে ভূষিত করেছে। কেননা পরিবেশ সুরক্ষার জন্য তিনিই বিশ্বের সিংহভাগ জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর; এবং পরিবেশ নীতিমালা গঠনের ক্ষেত্রে জোরাল ভূমিকা রেখেছেন। জলবায়ু ঝুঁকি ফোরাম (সিভিএফ) এবং জলবায়ু ঝুকিপ্রবণতা তদারকি (সিভিএম) গঠন করেছেন তিনিই। তার প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়েই জাতিংঘে ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিষয়ের দায়িত্ব বিষয়ক রাষ্ট্রদূত’ ফোরাম (Ambassadors with Responsibility to Climate Change-ARC) এবং ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বন্ধু’ (Friends of Climate Change-FCC) গঠন করা হয়েছে, যারা জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধ ঘোষণার পরই আমরা দেখতে পাই যে অন্যান্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এই জটিল ইস্যুতে এগিয়ে আসছেন।

যুদ্ধ-বিগ্রহ, ভয়াল বন্যা, অনাবৃষ্টি, ক্ষরা, নদীভাঙন ইত্যাদি নানা কারণে সাম্প্রতিককালে দেশে দেশে যে হারে মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে বা নিজ দেশে কাজ হারিয়ে দেশান্তরী হয়ে পড়ছে জীবিকার তাগিদে, কিংবা শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় খুঁজছে বিভিন্ন দেশে তখন সেই সব কঠিন সমস্যার কারণ খুঁজে আর কোনো মানুষ যেন শরণার্থী না হয়, বাস্তুচ্যুত না হয় তার ব্যবস্থা করার জন্য জোরাল দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। সম্পদশালী দেশগুলো সম্পদের অপব্যবহারের মাধ্যমে আজ পৃথিবীর পরিবেশের এই দশা করেছে, যদিও তাদের অবিমৃষ্যকারিতার ফল পেতে হচ্ছে স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে, যারা হয়তো কোনোভাবেই এই ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা জলবায়ু’র কারণে উদ্বাস্তু হওয়ার জন্য দায়ী নয়। অথচ তাদেরই সবচেয়ে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। বাংলাদেশ মনে করে এই অবস্থা হতে উত্তরণের দায় এবং দায়িত্ব উভয়ই উন্নত বিশ্বকে নিতে হবে। হয় তাদের এসব নানান প্রক্রিয়ায় করা পরিবেশ দূষণ বন্ধ করতে হবে; অথবা তাদের এমন কাজ করতে হবে যাতে যুদ্ধ-বিগ্রহ না বাধে বা মানুষ নিজের দেশ ছাড়তে বাধ্য না হয়।

শেখ হাসিনা কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী। লক্ষ্য অর্জনে তিনি পিছপা নয় এক কদমও। তার অক্লান্ত প্রয়াসের ফলে বাংলাদেশের কর্মজীবী জনসংখ্যার মাঝে আজ নারীর অংশগ্রহণ প্রায় ৩৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা পূর্বে ছিল মাত্র ৭ শতাংশ। আজ বাংলাদেশে সরকার প্রধান একজন নারী। জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং সংসদ উপনেতাও নারীÑ নারীর ক্ষমতায়নের এ এক অনবদ্য সংযোগ। শেখ হাসিনার বাংলাদেশ সেই গুটিকয়েক রাষ্ট্রের মধ্যে অন্যতম যেখানে বছরের শুরুতে দেশব্যাপী শিশুদের মধ্যে ৩২৬ মিলিয়ন বই বিতরণ করা হয় বিনামূল্যে। বাংলাদেশ সেই রাষ্ট্র যেখানে এনজিওরা উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সরকারের সাথে সমান তালে অংশগ্রহণ করে। তাই বাংলাদেশ আজ তার উদ্ভাবনী সুশাসন প্রক্রিয়া এবং যুক্তির নিরখে চলার জন্য বিশ্ব দরবারে সম্মানিত। সামগ্রিক এই প্রক্রিয়ায়, সন্দেহ বা বিস্ময়ের কোনো অবকাশই নেই যে, সেই বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনা, আজ জাতিসংঘ তথা বিশ্ব পরিম-লে শান্তি ও ন্যায্যতার এক মূর্ত প্রতীক হিসেবে নিজের দেশ ও জনগণকে তুলে ধরেছেন সবার ওপরে।

জয়তু বিশ্বনেতা শেখ হাসিনা।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান

* জনগণের ক্ষমতায়ন মডেল : অস্থিরতা, সহিংসতা, পরমত অসহিষ্ণুতা, বৈষম্য এবং ব্যাপক জন-অসন্তোষের ক্ষেত্রে এই মডেল বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

* কালচার অব পিস : বিগত সময়ে সরকারের থাকাকালীন বাংলাদেশ কর্তৃক জাতিসংঘে শান্তির সংস্কৃতির ধারণা প্রচলন করা হয়। জাতিসংঘের ভিতরে ও বাইরে এই ধারণা ব্যাপক সমর্থন লাভ করে; কেননা এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন, যা সমগ্র জাতিসংঘ ব্যবস্থার মাঝে অনুরণিত হয়।

* শান্তিরক্ষা কার্যক্রম (পিস কিপিং) : শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা সর্বজনবিদিত ও স্বীকৃত। জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিম-লে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বদ্ধপরিকর। তার গতিশীল নেতৃত্বে বিশ্বে আজ সর্বোচ্চ সংখ্যক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে সমাদৃত বাংলাদেশ।

* শান্তি বিনির্মাণ (পিস বিল্ডিং) : তার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ শান্তি বিনির্মাণের বিষয়টি বিশ্বব্যাপী গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছে। স্বল্পদিন হলো এ সংক্রান্ত কমিশন গঠিত হয়েছে, যা ইউএন পিস বিল্ডিং কমিশন নামে পরিচিত। বাংলাদেশ এর গুরুত্বপূর্ণ মিটিংসমূহে সভাপতিত্ব করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে এ সংক্রান্ত সব কার্যক্রমের আলোচনায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে।

* বহুমাত্রিক নেতৃত্ব : নানামুখী জাতীয় ও বৈশ্বিক ইস্যুতে চ্যালেঞ্জ নিতে পিছপা নন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার অবিচল নেতৃত্বে বাংলাদেশে জাতিসংঘের বিভিন্ন কমিটি এবং অনেকগুলো আন্তর্জাতিক সংস্থায় সভাপতি এবং সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছে। বিগত ছয় বছরে বাংলাদেশে কোনো একটি নির্বাচনেও পরাজিত হয়নি। সকল দেশ ও তাদের নেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ এবং তার নেতা শেখ হাসিনা।

* সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মডেল দেশ : জাতিসংঘ মহাসচিবের ভাষ্যমতে বাংলাদেশ এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কেবল স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যেই নয়, অনেকগুলো উন্নত দেশের চেয়েও বাংলাদেশের এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সাফল্য ব্যাপক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে এর সফল বাস্তবায়ন তদারক ও মূল্যায়ন করে থাকেন এবং প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।

* ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের সুরক্ষা ও নেতৃত্ব দান : বর্তমানে বাংলাদেশ ৪৮টি স্বল্পোন্নত দেশের নেতা ও মুখপাত্র। তাই জাতিসংঘ তথা আন্তর্জাতিক ফোরামে এসব দেশের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ের নেতৃত্বও বাংলাদেশেরই। সর্বসম্মতভাবে বাংলাদেশ এই পদে নির্বাচিত হয়; বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাই বাংলাদেশকে এই পদে আসীন করেছে। এলডিসি রাষ্ট্রসমূহের স্বার্থরক্ষায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

* ভিন্ন জীবনের মানুষের সমস্যাকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসা : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই জাতিসংঘের সকল রাষ্ট্রের কাছে আজ অটিজমে আক্রান্ত শিশু ও অটিজম সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিবর্গের সমস্যাবলি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে। এ সংক্রান্ত বাংলাদেশের প্রস্তাব পৃথিবীর সব কটি রাষ্ট্রের অকুণ্ঠ সমর্থন লাভ করেছে। বিষয়টির প্রবক্তা হিসেবে বাংলাদেশের নাম আজ সব দেশ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।

* জলবায়ুর ঝুঁকি আক্রান্তদের সমস্যায় নেতৃত্ব : জাতিসংঘের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সক্রিয়ভাবে কাজ করে দেখিয়েছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের দরিদ্র ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ঝুঁকি কতটা। এ সমস্যার কারণ খুঁজে আর কোনো মানুষ যেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শরণার্থী না হয়, বাস্তুচ্যুত না হয় তার ব্যবস্থা করার জন্য জোরাল দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। সম্পদশালী দেশগুলো সম্পদের অপব্যবহারের মাধ্যমে আজ পৃথিবীর পরিবেশের এই দশা করেছে, যদিও তাদের অবিমৃষ্যকারিতার ফল পেতে হচ্ছে স্বল্পোন্নত দেশগুলো, যারা হয়তো কোনোভাবে এই ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা জলবায়ু’র কারণে উদ্বাস্তু হওয়ার জন্য দায়ী নয়। অথচ তাদেরই সবচেয়ে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। বাংলাদেশ মনে করে, এই অবস্থা হতে উত্তরণের দায় এবং দায়িত্ব উভয়ই উন্নত বিশ্বকে নিতে হবে। হয় তাদের এসব নানান প্রক্রিয়ায় করা পরিবেশ দূষণ বন্ধ করতে হবে; অথবা তাদের এমন কাজ করতে হবে যাতে যুদ্ধ-বিগ্রহ না বাধে বা মানুষ নিজের দেশ ছাড়তে বাধ্য না হয়। জলবায়ু ঝুঁকি ফোরাম (সিভিএফ) এবং জলবায়ু ঝুঁকিপ্রবণতা তদারকি (সিভিএম) গঠন করেছে বাংলাদেশ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এর প্রতিষ্ঠা করেন জাতিসংঘের ৬৭তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে।

* আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ আইনি সমাধান : শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অনন্য নজির স্থাপন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমা নিয়ে প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সাথে যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল সেই বিষয়ে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে (International Tribunal on the Law of the Seas-ITLOS) যাওয়ার যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত তিনি গ্রহণ করেন, তারই ফলস্বরূপ বাংলাদেশ তার সমুদ্রসীমার ওপর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্র ভারত এবং মিয়ানমারও তাদের আইনগত ন্যায্য পাওনা পেয়েছে। কোনো সংঘাত বা যুদ্ধ ছাড়াই এহেন বিরোধ নিষ্পত্তির ঘটনা পৃথিবীতে বিরল।

* জাতিসংঘের মাধ্যমে অভিবাসীদের অধিকারের সুরক্ষা : অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার জন্য নিরলস কাজ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সংক্রান্ত জাতিসংঘ কমিটিতে তিনি যথার্থভাবে তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন এবং তার পক্ষে সমর্থন আদায়ে সক্ষম হয়ছেন। অভিবাসী শ্রমিকের মানবাধিকার, কাজের পরিবেশ, বেতন ও নিরাপত্তা এসব বিষয়ে নিশ্চিত করার জন্য সকল রাষ্ট্রের প্রতি তিনি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

* সাউথ-সাউথ অ্যান্ড ট্রায়াঙ্গুলার কো-অপারেশনের কণ্ঠস্বর : সাউথ-সাউথ সংক্রান্ত জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সভাপতি বাংলাদেশ। আর সাউথ-সাউথের কণ্ঠস্বর হচ্ছেন শেখ হাসিনা। সম্প্রতি এই রাষ্ট্রসমূহের সাফল্য ব্যাপক, যার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দৃশ্যমান।

জাতিসংঘ সনদের মূল লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়ন

* প্রথমত : সহিষ্ণুতার চর্চা এবং ভালো প্রতিবেশী হিসেবে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান;

* দ্বিতীয়ত : আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার সাথে একতাবদ্ধ থাকা;

* তৃতীয়ত : এই নীতির প্রতি অবিচল থাকা যে শক্তি প্রয়োগ কোনোভাবে করা হবে না, একমাত্র সামষ্টিক স্বার্থ ছাড়া;

* চতুর্থত : বিশ্বের সকল মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক শক্তিসমূহকে কাজে লাগানো;

* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সনদের এসব মূলনীতির আলোকে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও শন্তিপূর্ণ পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন।

http://muktimusician.blogspot.com/
www.youtube.com/muktimusician,
www.myspace.com/muktimusician,
www.shtyle.com/muktimusician,
www.last.fm/muktimusician

যেভাবে বাংলাদেশে ইসলামী জঙ্গিদের উত্থান

যেভাবে বাংলাদেশে ইসলামী জঙ্গিদের উত্থান
রণেশ মৈত্র


যেভাবে বাংলাদেশে ইসলামী জঙ্গিদের উত্থান

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের যে ব্যাপক উত্থান ঘটেছে, তাদের কার্যক্রম ক্রমশই সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং ইতোমধ্যেই বহুলাংশে তাদের বিস্তার ঘটাতে পেরেছে। বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী তা নিরন্তর অস্বীকার করে এগুলো ‘কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা নয়’ বা ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে উড়িয়ে দিতে চাইলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশের জঙ্গি উত্থান এক মারাত্নক উদ্বেগের সঞ্চার করেছে এবং তার বহি:প্রকাশ ঘটেছে গত ৯ জুনে প্রকাশিত নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনে।
ওই প্রতিবেদনটিতে প্রধানত: বাংলাদেশের সরকারি মহলের কর্মকর্তাদেরই বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে ইসলামী লেবাস পরিহিত যে তরুণটি ঢাকার একটি জনাকীর্ণ চেকপোষ্টের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, সে অধুনা তৎপর পুলিশের দৃষ্টি এড়াতে পারেনি। তরুণটিকে গ্রেফতার করা হয়। অত:পর দেখা যায়, যে একটি চাপাতি এবং লাইসেন্সবিহীন পিস্তল ও ছয়টি বুলেট নিয়ে যাচ্ছিল। তরুণটির কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় একটি আতঙ্কের কারণ বিগত তিনটি বছর ধরে বাংলাদেশে ‘নাস্তিক’ অভিধায় অভিহিত করে স্বাধীনচেতা লেখক, মুক্তমনা ব্লগার, মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসী, বিদেশী নাগরিক, ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং অপরাপর নানাবিধ পেশায় নিয়োজিত সম্মানিত ব্যক্তিদেরকে হত্যা করে চলেছে।
এই হত্যাকারী আসলে কারা সে সম্পর্কে খুব কমই জানা গেছে। তবে এইটুকু শুধু জানা যায় যে তারা ইসলামের নামে ‘জিহাদের কর্মী এবং ক্রমশই তাদের জিহাদ নামক হত্যালীলা অধিকতর সংখ্যায় সংঘটিত হচ্ছে। আটককৃত ঐ তরুণটি পুলিশের নানা প্রশ্নের জবাবে বেশী কিছু বলতে রাজী হয়নি। শুধুমাত্র বলেছে যে তার নাম সাইফুল ইসলাম, বয়স ২৩ বছর এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। কিন্তু মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে চিত্রটি পাল্টে গেল যখন ১৯ বছর বয়সী অপর দু’জন একটি সফল হত্যালীলা পরিচালনা করে ছুটে পালানোর সময় গ্রেফতার হয়ে পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে প্রকাশ করে দেয় যে ২৩ বছর বয়স্ক সাইফুল ইসলাম তাদেরই সহকর্মী, কোনো মাদ্রাসা শিক্ষক নয়।
ছোট্ট এই ঘটনাটি বাংলাদেশের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে অধিকতর সতর্ক এবং সক্রিয় হতে বাধ্য করেছে। এখন তারা অনেক গভীরে ঢুকে নানা অজানা তথ্য উদঘাটনে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। জঙ্গিদের পরিকল্পনা তার বাস্তবায়ন এবং হত্যার উদ্দেশ্য জেনে বাংলাদেশের মানুষ তো বটেই বাস্তবিক পক্ষেই সমগ্র বিশ্বে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের পুলিশের কাউন্টার টেররিজমের প্রধান মনিরুল ইসলাম তার তদন্ত কাজগুলির বিবরণ জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন। বিগত ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি এই দায়িত্ব প্রাপ্ত হন।
২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ৩৯ জনকে এই জঙ্গিরা বর্বরোচিতভাবে হত্যা করেছে এবং এতে ব্যবহৃত অস্ত্র হলো চাপাতি, বন্দুক বা পিস্তল ও বোমা। এই হত্যাকাণ্ডগুলির বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চাপাতি ব্যবহৃত হয় এবং তাই দিয়ে ভিকটিমের পিঠে আঘাত করে গলা কেটে ফেলতে দেখা যায়। এরকম হত্যা ইদানিং বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এপ্রিলে এভাবে পাঁচজনকে এবং মে মাসে চারজনকে হত্যা করা হয় এবং কমপক্ষে আরও তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে জুনের প্রথমার্ধেই।
গত ৫ জুন একই দিনে উত্তরাঞ্চলের নাটোরের একজন খ্রিষ্টান মুদির দোকানি ও চট্টগ্রামে তথাকার পুলিশ সুপারের স্ত্রীকে হত্যা করা হয়। অত:পর দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে একজন হিন্দু পুরোহিতকে বিশাল মাঠের মধ্যে খুন করা হলো। দীর্ঘ ইন্টারভিউতে পুলিশের কাউন্টার টেররিজমের প্রধান মনিরুল ইসলাম তার তদন্ত কাজের ফলাফল খুঁটিনাটি তুলে ধরে বলেন, দুইটি জঙ্গি গ্রুপ এই হত্যাকাণ্ডগুলি চালিয়ে থাকে। তারা হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক রিক্রুট করেছে, অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং অত:পর এক একজন কমান্ডারের নেতৃত্বে তাদেরকে বিভিন্ন গ্রুপে পাঠিয়ে এই হত্যালীলা পরিচালনা করছে। তারা অত্যন্ত সতর্কভাবে তাদের লক্ষ্য (টার্গেট) নির্দিষ্ট করে যাতে জনমত তাদের পক্ষে থাকে এবং এভাবেই খুনীদের প্রশিক্ষিত টিম গড়ে তোলে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের মিশ্রিত ধর্মনিরপেক্ষ ও ইসলামী সংস্কৃতিকে পরিবর্তন করে নিখাদ ইসলাম ধর্মীয় রাষ্ট্রে বাংলাদেশকে পরিণত করা।
বাংলাদেশ সরকার এখানে স্বীকার করেন যে ঐ দুটি জঙ্গি গ্রুপই এগুলি পরিচালনা করছে এবং তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করতে। জঙ্গিদের নেতারা যখন ধরা পড়বেন, তাদের মতে, এই হত্যালীলা ও আক্রমণ বন্ধ হবে। তবে ইসলামী মৌলবাদ যে ইসলামসম্মত নয় তা জনগণকে বুঝিয়ে আনতে হবে।
সরকার এখন বলেছে, উভয় জঙ্গি গ্রুপের মূল নেতাদেরকে তারা চিহ্নিত করতে পেরেছেন- ঐ নেতারাই এই ঘটনাগুলির জন্য দায়ী। পূর্ব ভারতের সংলগ্ন মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে ১৯৭১ সালে এবং তখন একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী সমর্থিত সরকার একতা গড়ে প্রায় তিন দশক শাসন কাজ পরিচালনা করে। ঐ সময়েই ইসলামী মৌলবাদের প্রসার ঘটতে শুরু করে। ২০০৯ সালে একটি ধর্ম নিরপেক্ষ সরকার ক্ষমতায় পুনরায় অধিষ্ঠিত হন বিপুল সংখ্যক আসনে বিজয়ী হয়ে শাসন ক্ষমতায় বসেন। তবে ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠির কাছে আজও গ্রহণযোগ্য হয় নি-তাই গোঁড়া ইসলামী সংস্কৃতি প্রবর্তিত হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদনে এমন কথা বলা হয়েছে।
মনিরুল ইসলাম বলেন, উগ্র ধর্মান্ধ জঙ্গিরা ধর্ম নিরপেক্ষ মতবাদকে সমাজে বহুলাংশে হেয় ও অগ্রহণযোগ্য করে তুলতে সক্ষম হয়েছে। তারা ধর্মনিরপেক্ষতার বিশ্বাসী সরকারটিকে আত্নরক্ষামূলক অবস্থানে ফেলতেও সক্ষম হয়েছে। ফলে, একদিকে সরকার হত্যাকাণ্ডগুলির প্রতিবাদ জানাচ্ছে, অপরদিকে লেখকদেরকে ইসলামের বিরুদ্ধে বা তার সমালোচনা করে না লেখার আহবান জানিয়েছে-আহবান জানিয়েছে ‘অস্বাভাবিক মৌনতা’র সমর্থনে কোনো কিছু না বলতে।
এ বিষয়ে ইনষ্টিটিউট অব ল এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ এর পরিচালক অবসর প্রাপ্ত মেজর আব্দুর রশীদ বলেছেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালালে হত্যালীলা বন্ধ হবে কিন্তু সরকার ততটা এগুতে রাজী না; এই ভেবে যে তার প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া হতে পারে। দেশের রাজনীতি এখন দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে একটি ধর্মনিরপেক্ষ অপরটি ইসলামভিত্তিক। এ কারণেই সরকার অত্যন্ত সতর্ক।
এ বিষয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, যখন মৌলবাদীদের ব্যাপক ক্রিয়াকলাপের বিরুদ্ধে ‘শাহবাগ আন্দোলন’ নামে পরিচিত শক্তিশালী গণআন্দোলন গড়ে তুলতে চেষ্টা করা হয়, জঙ্গিরা তখন ইচ্ছাকৃতভাবেই লোকজনকে হত্যার মধ্য দিয়ে হত্যাভিযান শুরু করে। শাহবাগ আন্দোলন গড়ে ওঠে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির অবসানের দাবীতে এবং ১৯৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার দাবীতে। এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে যখন বেশ কয়েকজনকে ফাঁসি দেওয়া হলো তখন ইসলামী জঙ্গিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য, শাহবাগ আন্দোলনটি ২০১৩ সালে গড়ে ওঠে ব্লগারদের নেতৃত্বে।
মনিরুল ইসলাম নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, এই হত্যালীলা চালানোর দায়িত্ব নিয়েছে দুটি জঙ্গি গ্রুপ। এক, আনসার আল ইসলাম- যারা অত্যন্ত ফলপ্রসূ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দুর্ধর্ষ খুনি গড়ে তুলেছে তাদের অপারেশন কমান্ডারদের দ্বারা। এসব কমান্ডারদের নাম প্রকাশে তিনি অবশ্য অস্বীকৃতি জানান; কারণ তাদেরকে কঠিন নজরে রাখা হয়েছে। তবে এদের নেতা বা কমান্ডাররা ২৫ জন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত খুনি তৈরি করেছে-যাদের কেউ কেউ সাম্প্রতিক ৩/৪টি আক্রমণ পরিচালনা করেছে। দ্বিতীয়ত: জামাতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশ-জেএমবি। এদেরকে চিহ্নিত করা হয় ২০০৫ সালে সারা দেশে একই সাথে প্রায় ৫০০ বোমা ফাটিয়ে ছিল সাফল্যের সাথে। এদেরই একটি অংশ এখন অধিকতর সক্রিয়।
সাক্ষাতকারে মনিরুল ইসলাম অবশ্য আরও বলেন যে এই দুটি গ্রুপই দুর্ধর্ষ ইসলামী জঙ্গিগ্রুপ হলেও এরা কেউই আল কায়েদা বা আইএস জাতীয় আন্তর্জাতিক ইসলামী জঙ্গি সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। এই গ্রুপ দুটি শাহবাগ আন্দোলনের বিরুদ্ধে ত্বরিত সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে একজন ব্লগারকে হত্য করে এই অভিযোগ এনে যে তিনি সরাসরি ইসলামে বিরুদ্ধে লিখে থাকেন। তিনি লিখতেন ‘থাবা বাব’ এই ছদ্মনামে। ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কতিপয় মেধাবী ছাত্র এই নামে লিখতেন এবং তার প্রতিক্রিয়ায় জসীম উদ্দিন রাহমানি নামক ৪৫ বছর বয়স্ক একজন ইসলামী খাদেম ঐ ব্লগারদের হত্যা করার নির্দেশ দেন। অবশ্য জসীম উদ্দিন রাহমানিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অার ৩২ বছর বয়স্ক একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর একজন ছাত্র রেদোয়ানুল আজাদ, আনসার আল ইসলামের অপর একজন নেতা জুনিয়র ছাত্রদেরকে জসীম উদ্দিন রাহমানির উদ্দীপক বক্তব্য দিয়ে ক্ষেপিয়ে তুলে থাবা বাবা নামের লেখকদেরকে হত্যা করতে উত্তেজিত করে তুলতে থাকে।
ঐ রেদোয়ানুল ইসলামের বক্তব্য ছিল, ‘একজন আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাসী হিসেবে তাদেরকে হত্যা করাটা তোমাদের পবিত্র দায়িত্ব।’ আটক হওয়া একজন আদালতে এমন বক্তৃতার কথা স্বীকারও করেছে। সে আদালতে বলেছে, ঐ বক্তব্যে বিশ্বাস স্থাপন করে তারা থাবা বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করে- কারণ থাবা বাবা আল্লাহকে অপমানিত করেছে। আটক ওই জঙ্গির নাম ফয়সাল বিন নঈম (২৪)। সে বলেছে, থাবা বাবার ছবি ফেসবুকে দেখে এবং তখন থেকে তাকে খুঁজতে থাকে এবং এক পর্যায়ে অনুরূপ চেহারার একজননের সন্ধান পায় শাহবাগ আন্দোলনকারীদের মধ্যে। অবশেষে একজন ৩২ বছর বয়স্ক আর্কিটেক্ট-যার নাম আহমেদ রাজীব হায়দার তাকেই থাবা বাবা হিসেবে চিহ্নিত করে। অত:পর রাজীবের দৈনন্দিন কাজের রুটিন অনুসরণ করে শেষ পর্যন্ত একদিন তারা তিনজন মিলে রাজীবের বাড়ীর সামনে রাত্রি প্রায় ৯টার দিকে পেয়ে যায়। নঈম তখন চাপাতি দিয়ে তার মাথার পেছনে, গলায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ঐ আকষ্মিক আঘাতের ফলে।
এরপর প্রধান ইসলামী জঙ্গি গ্রুপ হিসেবে আনসার আল ইসলাম প্রচার করতে শুরু করলো যে নাস্তিক ব্লগারদের হত্যাকারীরাই হলো প্রকৃত ইসলাম সেবক। অন্তত: দুটি জাতীয় দৈনিক প্রকাশিত কয়েকটি লেখা তাদেরকে আরও বেশী করে ক্ষুব্ধ করে তোলে এবং পাঠকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও এতে ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ। এরা শুরুতে শাহবাগ আন্দোলনের সমর্থকও ছিলেন। পরবর্তী দুই মাসে আরও দুইজন ব্লগারকে হত্যা করা হয়। পুলিশ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সব ছাত্রকে জঙ্গি হিসেবে সক্রিয় ছিল তাদেরকে গ্রেফতার করতে শুরু করে। বিশেষ করে যারা হায়দার হত্যায় জড়িত ছিল। পুলিশ পুনরায় রাহমানিকেও গ্রেফতার করে। এরফলে আনসার আল ইসলাম আরও বেশী হত্যাকাণ্ড পরিচালনা থেকে বিরত হয় এবং এরাই আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বলেও পরিচিত। কিন্তু তারা পুনরায় পুনর্গঠিত হয় সন্ত্রাসী সেল এ যার সংখ্যা জানা যায়নি।
মনিরুল ইসমাল বলেন, গত বছর ফেব্রুয়ারিতে আনসার আল ইসলাম অভিজিত রায় নামক আমেরিকা প্রবাসী এক বাংলাদেশী ব্লগারকে ঢাকায় হত্যা করে। অভিজিত রায় আমেরিকাতে একটি বায়োটেকনোলজি ফার্মে দিনে কাজ করতেন এবং রাত্রিতে নানা বিষয়ে বিস্তর লেখালেখি করতেন যার মধ্যে ধর্ম, বিজ্ঞান, সমকামিতা প্রভৃতি ছিল। বিপুল সংখ্যক আনসার আল ইসলাম জঙ্গিকে কারারুদ্ধ করার পর জেলের ভেতর থেকে পুলিশ এক গোপন তথ্যে জানতে পারে যে পুনর্গঠিত আনসার আল ইসলাম তাদের কর্ম কৌশল পরিবর্তন ঘটিয়েছে এবং তারা মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে বিপ্লবী করতে মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে রিক্রুট করতে শুরু করেছে। মাদ্রাসার শিক্ষকরাও বাদ যাচ্ছেন না। ২০১৩ সালে ব্লগারদের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা শিক্ষক ছাত্রদের তীব্র প্রতিবাদ সংগঠিত করতে দেখে তারা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে রিক্রুটের চাইতে মাদ্রাসাগুলির উপর বেশী গুরুত্ব আরোপ করতে শুরু করে। অত:পর তারা আরও গুরুত্ব দিয়ে আদর্শগত ও অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিতে থাকে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে।
অভিজিত রায়ের হত্যার এক মাস পরেই ওয়াশিকুর রহমান বাবু (২৭) নামক অপর একজন ব্লগারকে হত্যা করে। তারা একটি এপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে সেখানে দুইজন সিনিয়র অস্ত্র প্রশিক্ষক থাকতো একটি ভষ্যিতে খুনী হিসেবে প্রশিক্ষণ নেবেন এমন একটি গ্রুপের মাদ্রাসা ছাত্রের সাথে। একজন শিক্ষা দিত কিভাবে চাপাতি দিয়ে আঘাত করলে মানুষ নির্ঘাত খুন হয় এবং কিভাবে পিস্তল ব্যবহার করতে হয় যদি চাপাতি দিয়ে আঘাতের সময় কেউ ছুটে আসে তাকে বাঁচাতে এমন লোকজনদের হটিয়ে দিতে। নিহত ব্লগার আশিকুর রহমান বাবুর ছবি এবং ঠিকানা তাদের হাতে দিয়ে বাবুর বাড়ীর কাছে মহড়া দিতে পাঠানো হতো এটা নির্ধারণ করতে যে; কোন পরিস্থিতিতে কখন নিরাপদে হত্যা করা যেতে পারে। অন্যদিকে বাবুর কিছু সংখ্যক নির্দিষ্ট লেখা পড়িয়ে ঐ প্রশিক্ষণার্থী গ্রুপকে জিজ্ঞেস করা হতো, এই সব ধরণের লেখা যে লেখে তার শাস্তি কি হওয়া উচিত? শিক্ষার্থীরা সমস্বরে জবাব দিত ‘একমাত্র মৃত্যু’।
Moktel H. Mukthi's photo.মনিরুল ইসলাম জানান, পুলিশ এখন এদেরকে ধরার সর্বাত্নক প্রচেষ্টা করছে। সন্দেহভাজনদের ছবিসহ জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় পুলিশের পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপন দিয়ে বলা হয়েছে যে, ‘যারা বা যিনি এদের ধরার ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য দিতে পারবে তাকে পাঁচ লক্ষ টাকা পুরষ্কার দেওয়া হবে। অন্য জঙ্গি গ্রুপ জামাতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশ-জেএমবি অবশ্য আনসার আল ইসলামের চেয়ে কম সক্রিয়। কতিপয় ভুল পদক্ষেপের কারণে তাদের সমর্থক সংখ্যা কমে গেছে। এই গ্রুপ ৫০ থেকে ১০০ জন মাদ্রাসা ছাত্রকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল খুনী হিসেবে তাদেরকে চারজন করে এক একটি গ্রুপে সংগঠিত করেছিল। কিন্তু এরা এমন ব্যক্তিদের খুন করে ফেলে যারা ব্যাপক সক্রিয় হয়ে ওঠেন। এদের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অন্যজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক যিনি দরিদ্র রোগীদের বিনা পয়সায় চিকিৎসা সেবা দিতেন।
যখন হত্যাকারীদেরকে গ্রেফতার করা হলো, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেল যে তারা ৬৬ বছর বয়স্ক একজন জাপানী নাগরিককে হত্যা করেছে। অথচ ২০১৫ সালেই তাকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করা হয়েছিল। ফলে এই খুনীরা দ্রুত জনপ্রিয়তা হারায় এবং জনগণ ওই খুনীদেরকে ধরতে পুলিশকে ব্যাপক সহযোগিতাও দেয়। পুলিশ এখন তাদের নেতাদেরকে ধরতে সচেষ্ট। বাংলাদেশে বর্তমানে মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, বলেন মনিরুল ইসলাম।
অনেকে লুকিয়ে আছেন-অনেকে দেশত্যাগী হয়েছেন-আবার অনেকে তাদের দৈনন্দিন রুটিন পরিত্যাগ করে লেখালেখি ছেড়েছেন এবং এমন কি, সন্তানদের স্কুলে আনা নেওয়াও ছেড়েছেন। এই জঙ্গিদের কার্যকলাপের ফলে জাতিকে এই মূল্য দিতে হচ্ছে, বলেন সুধীজনেরা।
নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলামের ইন্টারভিউ নিয়ে লেখাটি হয়তো আগ্রহী পাঠক পাঠিকাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে এবং দেশের পরিস্থিতি বুঝতেও কিছুটা সহায়ক হবে। পাবনার আশ্রমসেবক হত্যাকাণ্ড লেখাটি শেষ হতে না হতেই জানলাম, গত ১০ জুন ভোরে পাবনার বিখ্যাত (এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতি সমৃদ্ধ) হেমায়েতপুরের শ্রী শ্রী অনুকূল ঠাকুরের আশ্রমে ৪০ বছর ধরে সেবক হিসেবে কর্মরত ৬২ বছর বয়স্ক নিত্যানন্দ পান্ডেকে ভোর বেলায় নৈমিত্তিক প্রাত:ভ্রমণকালে একই পদ্ধতিতে চাপাতি দিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকারীরা আঘাতই শুধু করেনি তার মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
আশ্রম কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই নিত্যরঞ্জনকে হত্যা করা হলো পুলিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে। কারণ আগের দিন আইজির নেতৃত্বে পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারা (সম্ভবত: চট্টগ্রামের এসপির স্ত্রী হত্যার পটভূমিতে) সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো ঐ দিন রাত ১২টা এক মিনিট থেকেই জঙ্গি-সন্ত্রাসী ধরার জন্য দেশব্যাপী সমন্বিত সপ্তাহব্যাপী অভিযান শুরু করবে এবং তা করাও হয়। ওই অভিযান শুরুর মাত্র ৬-৭ ঘণ্টা মধ্যেই এবং পবিত্র রমজানের শুরুতেই হেমায়েতপুর আশ্রমের নিষ্ঠাবান সেবক নিত্যানন্দ পান্ডেকে নির্মমভাবে আশ্রমের নিকটেই খুন করা হলো। আমি শোকাহত। আমরা সমগ্র জাতি শোকাহত। গোটা পৃথিবী উদ্বিগ্ন আজকের বাংলাদেশ নিয়ে।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

জাতির পিতাকে হারিয়ৈছি, তার সুযোগ্য কন্যাকে হারাতে চাইনা। নাছির ধ্রুবতারাঃ

জাতির পিতাকে হারিয়ৈছি, তার সুযোগ্য কন্যাকে হারাতে চাইনা। নাছির ধ্রুবতারাঃ
জাতির পিতাকে হারিয়ৈছি, তার সুযোগ্য কন্যাকে হারাতে চাইনা। নাছির ধ্রুবতারাঃ- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তৃনমূল নেতা-কর্মী নয় নিবেদিত প্রান সাধারন সমর্থকের একমাত্র মনোভাব নিয়ে লেখাটি। লেখাটি পড়ে মনে কষ্ট নেবেন না, আর কষ্ট নিলেই বা কি হবে? আমরা তো বড় দলীয় পদ-পদবী, সরকারি দল হিসেবে বিশেষ সুযোগ সুবিধা কিবাং হালুয়া রুটির লোভে সংগঠন করিনা । আসলে বেশ কিছুদিন লিখবো লিখবো করেও নিজের ইচ্ছেকে দমন করেছি, কারন আমার মত অতি নগন্য দলীয় কর্মী সাধারন সমর্থকের যেহেতু আওয়ামী লীগের প্রতি বিশেষ ভালোবাসা বা হৃদয়ের টান রয়েছে তাই যুদ্ধপরাধীদের বিচার সহ দেশের সত্যিকারের উন্নয়ন এষ জ্ন্য আমাদের প্রানপ্রিয় নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা যেখানে নিজে সব বাঁধা বিপত্তি, নিজের ও পরিবারের জীবন নাশের আশংকাকে তোয়াক্কা না করে অবিচল ও অক্লান্তভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সেখানে অনলাইনে সরকার বা দলের কোন কাজের সমালোচনায় যদি পাকিস্থানী চেতনার অনুসারী মানুষগুলো সামান্য উৎফুল্ল বোধ করে কিবাং নিজের প্রিয় দল ছোট হয়, তাই অতি কষ্টে নিজেকে দমিয়ে রেখেছি অনেকদিন (হাইব্রিড ফরমালিনের যাতাকল সহ্য করেছি দাঁতে দাঁত চেপে । এরকরাটা অতি সামান্য কারন একরাতে পরিবারের সবাইকে হারিয়ে একজন নারী যেখানে নিজের কথা না ভেবে হৃদয়ের কষ্টকে চেপে রেখে আপনার আমার সর্বোপরি দেশের কল্যানে নিরলস কাজ করে যেতে পারেন সেখানে আমার এই মন্দ লাগার কোন স্থান হতে পারেনা ৳ কিন্তু গুলশানের ঘটনা ঘটার পর কিছু কথার উত্তর চাওয়াটা ও উত্তর পাওয়াটা এবং প্রিয় নেত্রীর নিরাপত্তা চিন্তায় নিবেদিত মুজিব আদর্শের কর্মী হিসেবে ফরজ হয়ে গেছে । তাই জানতে চাই পদ-পদবীধারী, সরকারের গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব প্রাপ্তদের নিকট এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট আইন শৃংখলা বাহিনীর কাছে সব দয় কি একা একজনের ?? নিচের প্রশ্নগলোর জবাব ও ভীষন প্রয়োজনঃ- ১। গুলশান ডিপ্লোমেটিক জোনে সবসময়ই পুলিশ কিবাং অনান্য সংস্থার ১ কিবাং দুইটি চেকপোষ্ট দিনে ও থাকে এবং যেহেতু ঈদের বদ্ধের কারনে ঢাকার নিরাপত্তা বিধানর বিষয়ে আরো বিশেষ ব্যাবস্থা ও নেওয়া হয়েছে ও কুটনীতিক পাড়া হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে গুপ্তহত্যার কারনে বাড়তি নিরাপত্তা বেষ্টনী ও যেখানে থাকর কথা, সেখানে এই ধরনের ঘটনা যা বাংলাদেশে প্রথম? কিভাবে এত নিবিঘ্নে সংগঠিত হয়?? ২/ আইন শৃংখলা বাহিনীর বাইরে ও নিরাপত্তার জন্য সিটি করর্পোরেশান মেয়র ঢাক ডোল পিঠে মিডিয়া ডেকে প্রতিটি স্থানে সিসি ক্যামেরা দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছেন, সেগুলির আসলে কাজ কি? এটা মন ভুলানো হৃদয় জয় করার বিশেষ আয়োজনই ছিল মাত্র? ৩/ জংগীদের অপতৎপরতা, গুপ্ত হত্যার প্রেক্ষিতে সারাদেশে অভিযান বিশেষ চালিয়ে আটক অনেকের কাছে বিশেষ করে এই নাশকতা ঘটানো জংগীদের জিম্মি মুক্তির তিনটি শর্তের প্রথমটি ছিল ডেমরা থেকে আটক হওয়া জেএমবি নেতা খালেদ সাইফুল্লার মুক্তি । অত্যন্ত আক্ষেপের বিষয় এই জংগী থেকে প্রচুর তথ্য উপাত্ত আমাদের বিশেষ গোয়েন্দা বাহিনী পেয়েছেন বলে সাংবাদিক ডেকে প্রেস কনফারেন্স করে জানিয়েছেন বহু আগে । এছাড়া কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হবার আগে আদালতে কোন জবানবদ্ধী নেয়া ব্যাতিত কথিত ভিডিও জবানবন্দীর কথা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছন বিশেষ বাহিনী সিটি প্রধান উপ-পুলিশ প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান । মাদারিপুর সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজের গনিতের শিক্ষক ও পুরোহিত রিপন চক্রবর্তীর উপর হামলা চালিয়ে পালানোর সময় ছয় জন হামলাকারীর মূল অভিযুক্ত হিসেবে আদালতে চার্জশীট প্রদান ও সম্ভবপর নয় । এ সমস্ত ঘটনা প্রচুর সন্দেহের জন্ম দেয় । এখানে বাকী পাঁচ জংগীকে বাঁচানোর জন্য জবানবদ্ধী না নেয়া হয়েছে বললে আইনগতভাবে অভিযোগটি গ্রহনযোগ্য এবং তদন্তযোগ্য । আদালতে ১৬৪ এ জবানবদ্ধী আদালতে গ্রহনযোগ্য্য নয় । মধ্যে শুধু ফাহিম স্থানীয় জনতা ধরে ফেলে । মামলায় আসামী ও ছয়জনকে করা হয় । প্রচলিত আইনী প্রক্রীয়া হচ্ছে যে অভিযোগে গ্রেফতার হয় তা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবদ্ধী নেয়া, তারপর অন্য কোন বিষয়ে অগ্রসর হওয়া । কিন্তু তা করা হয়নি । যার ফলে বাকী পাঁচজন শুধু সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা যাবে কিন্তু তাদেরকে আরো আছে আজ পুলিশের আইজিপি মহোদয় জানালেন নিহত ছয় জংগীর মধ্যে পাঁচ জংগীই তালিকাভুক্ত ও খুছছিলেন, আপনাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করি কি বিশেষ কারনে জংগী বিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে ১৪ হাজার জনকে গ্রেফতার করতে পারলে ও এই পাঁচজনকে পাওয়া যায়নি (সমগ্র আটকর মধ্যে তালিকাভুক্ত ১৫৪ জন জংগী) । এদের কাছ থেকে কোন তথ্য কি নেওয়া হয়নি? ঘটনার দশ ঘন্টা আগে এ ধরনের ঘটনা সংগঠনের হুমকি ও আসে আইন শৃংখলা বাহিনীর কাছে । আমাদের আইন শৃংখলা বাহিনী কি দেশের শান্তি নিরাপত্তা রক্ষার বদলে অপরাধ সংগঠনের অপরাধীদর গ্রেফতারের কাজে নিয়োজিত? তানাহলে গুরুত্বপূর্ন তথ্য পেয়েছেন বলে পুলিশের ৪/ জংগী দমনে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জনকারী এসপি বাবুল ও তার পরিবার জংগীদের হিট লিস্টে ছিলেন বহুদিন ধরে । এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সিএমপিকে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা গ্রহনের কথা বলা হলে ও বর্তমানে ডিএমপি ডিবিতে চাকুরীর এক বিশের কর্মকর্তা তখন সিএমপিতে থকার কারনে নিরাপত্তা দেয়া হয়নি । তার সাথে এসপি বাবুলের সাথে বৈরি সমর্পক ছিল , যার কারন তিনি জংগী বিরোধী অভিযান পরিচালনা না করতে বেশ কয়েকবার বলেছিলেন। এমনকি এসপি বাবুল এর পোষ্টিং অর্ডার ঢাকায় হলে জংগী দমনে তিনি সিএমপি ডিবিতে থকার আগ্রহ প্রকাশ করলে ও তা শোনা হয়নি। আর এসব কারনে ঢাকার ডিবিতে কর্মরত ঐ ব্যাক্তি বাবুল আহামেদকে অপদস্থ করতে তার শ্বশুরের বাসা মধ্যরাতে ডিবি অফিসে নিয়ে যান । কি এমন ঘটনা, কোন পলাতক আসামী ও নন বরং সারাদেশে জংগীবিরোধী অভিযান পরিচালনায় সব্বোচ সাফল্য পাওয়া তাকে একনামে সারাদেশের সকল পুলিশ চিনতেন একজন দক্ষ কর্মকতা হিসেবে । তাহলে তাকে কেন নেয়া হলো? তাকে অপদস্থ করার জন্য, যেহেতু তার অপরাধ তিনি জংগী দমনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন এবং ভবিষৎ এ রাখবেন । আর এ সমস্ত আলামত প্রমানকরে আইন শৃংখলা বাহিনীর ভেতর জংগীদর পৃষ্ঠপোষকতাকারী ও সহায়তাকারী লোক আছে, তারা কারা? যদি না থাকে তাহলে এতবড় ঘটনা কিভাবে করা সম্ভব । ৫ /সকল গোয়েন্দা সংস্থা ব্যার্থ, সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মর্কতা ব্যার্থ, মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে যিনি আছেন তিনি সহ সবাই কেন এখনো নিজ দায়িত্বে বহাল থাকবেন ?? নিজের বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে এখনি সরে দাঁড়ান । আপনাদের সফলতা আর ব্যার্থতা সব কিছুই কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বহন করবেন । মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি সরকার তথা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের চেতনা সত্যিই বুকে ধারন করেন তাহলে এখনি পদত্যাগ করুণ । দায়িত্ব ছেড়ে দেয়া আপনাকে দলের ও দেশর ইতিহাসে সন্মানের আসনে বসাবে। নাহলে সবার কাছে সকল প্রাননাশের ঘটনার দায়বদ্ধতা নিয়ে নিজের বিবেকের কাছে আসামী বাকি সময়টা কটাতে হবে । একজন স্বজন মানুষ হিসবে আপনি স্বীকৃত, সামান্য ক্ষমতার লোভে জীবনের ত বড় অর্জনটা কি বিসর্জন দেবেন?? আপনার এই গুনের কারনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ স্বল্প সময়ের মন্ত্রী পরিষদে আপনাকে পদ্দোনতি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী । অন্তত নেত্রীর আস্থার কথা ভেবে দায়িত্ব থকে সরে যান ৬/ এবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একজন ব্যাক্তি দলে এবং সরকারে যাকে জাতীয় চার নেতার সন্তান ও উভয় ক্ষেত্রে তার পদবীর প্রতি সন্মান জানিয়ে ও তার থেকে যোগ্যতার সকল ক্ষেত্রে ক্রুদ্র হওয়ায় বিনীতভাবে ক্ষমা চেয়ে প্রশ্ন করতে চাই- দেশের বিশেষ পরিস্থিতে ছাত্রলীগের সভায় তিনি যে মন্তব্য করেছেন তার একটি অংশ মেনে নেয়া যায়, যদি মেনে নেয়া হয়, কারন ১৪ দলীয় জোট গঠন ও সরকারে অংশগ্রহনের সিদ্ধান্ত সাধারন সম্পাদক হিসেবে তার অসসম্মতি কখনোই হওয়া সম্ভব নয় (যদি তার পদবীর কারনে বলা শ্রেয় ছিলনা), জাসদ সংক্রান্ত,যদি ও উক্ত বক্তব্যের পর দলের কার্যনির্বাহী সভায় তিনি বিষয়টি হালকা করতে যার ব্যাখা দিয়েছেন নুতন প্রজন্মকে ইতিহাস জানিয়েছেন । মেনে ও নিলাম মাননীয়, কিন্তু জাসদকে মন্ত্রীত্ব কিবাং সরকারে অংশগ্রহনের সুযোগ দেবার খেসারত সরকারকে দিতে হবে, এ জাতীয় বক্তব্য দিয়ে তিনি কি ভবিষৎ বানী করেছেন? তিনি কি রাজনীতিবিদ নন, দলের সাধারন সম্পাদক নন এবং মন্ত্রীপরিষদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন মন্ত্রনালয় জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী নন । জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের অধীনে সকল মন্ত্রনালয় কারনে কল সরকারী কর্মকর্তা – কর্মচারী, সকলের চাকুরী আচরন বিধি, সকল বিষয়ে অবহিত ও অনুমোদনর পরই অনান্য মন্ত্রনালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয় । এমনকি প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের বিশেষ কিছু বিষয় এই মন্ত্রনালয়র অধীনস্থ । শুধূ তাই অন্য মন্ত্রনালয়ে চকুরীরত যে কাউকে চাকুরী বিধি অনুযায়ী নিজ মন্ত্রনালয়ের অধীনে নিয়ে আসার মত ক্ষমতা রয়েছে এ মন্ত্রনালয়ের । মোদ্দ কথা সরকার পরিচালনার (সরকারের প্রশাসন ও প্রজাতন্ত্রভুক্ত সকল কর্মচারী কর্মকর্তা)। আর দল ও সরকারের দ্বিতীয় ব্যক্তি হয়ে সেই জায়গার কোন বিপর্যয় হবে, তা কিভাবে অনুমোদন করলেন বং নিজমুখে সবীকারোক্তি ও দিলেন। ক্ষতি তা আপনার বক্তব্যের মাধ্যমে কি অশনী সংকেত করেছেন তা জাতির কাছে ও দলের কাছে পরিষ্কার হববার আগেই ঘটে গেল গুলশান ট্যাজেটি । আর সবকিছু জানার পর পারিবারিক অবকাশে বিদেশে বসে নিজের ফেইসবুকে নাশকতার বিরুদ্ধে হুশিয়ারী উচ্চারনই কি আপনার দায়িত্ব সম্পাদন। নিজের বাবাকে আর ছোট করবেন না । যিনি জাতীয় চার নেতার অন্যতম এবং দায়িত্ব সম্পাদনে নিজের জীবন স্বেচ্ছায় দিয়ে গেছেন, মন্ত্রীত্বের বদলে মৃত্যকে বেছে নিয়েছেন। যোগ্যতার সকল ক্ষেত্রে আপনার কাছে আমি অতি ক্ষুদ্র আগেই বলেছি কিন্তু একজন বিবেকবান সাধারন মানুষ হিসেবে কারোই দায়িত্ব পালন না করতে পারলে বিশেষ কুটনৈতিক সুপারিশে প্রাপ্ত দায়িত্ব আঁকড়ে থাকতো না । যেখানে দল কিবাং সরকার যেন প্রতিকূল অবস্থায় না যায় তা ঠেকানো দায়িত্বভার আপনারই সবচেয়ে বেশী, সেখানে আপনার মত সৎ ও সদালাপী মানুষের আচরনে আমরা দলের ক্ষুদ্র নেতা-কর্মীরা অত্যন্ত হতাশ হয়ে আপনার প্রতি প্রতি অনাস্থা জানাচ্ছি এবং আপনি সৎ মানুষ কিনা সেটা ও আপনাকেই রায় দিতে অনুরোধ করছি। তারপরও বক্তব্যের শেষ অংশটির মুজেজা পরিষ্কার করুন, আত্নপক্ষ সর্মথন গ্লানী মুক্ত হোন । নাহলে ইতিহাসে অপরাধীর খাতায় আপনার শেষ ঠিকানা হবে, নিশ্চিত জানুন। সবকিছুর শেষে দলের ত্যাগী অবহেলিতদের নেতা-কর্মীদের যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ে এবং করুন সাংগঠনিক ও বেহাল সংগঠনকে শক্তিশালী ও সংগঠিত করুন মাননীয় নেত্রী । আপনাকে ভুল তথ্য , সঠিক অবস্থা জানানো হচ্ছে না । দ্রুত সুবিধাবাদী এই চক্রকে নির্মূল করে সত্যিকার থাবা এই বহুরুপী প্রশাসন কিবাং দলীয় কাঠামো দিয়ে উৎপাটন মোটে ও সম্ভব নয়। সম্ভব শক্তিশালী সংগঠনের ত্যাগী পরিক্ষিত নেতা-কর্মীদের সন্মিলিত প্রচেষ্ঠায়। প্রিয় নেত্রী নিজেদের দূর্ভাগে জাতির পিতাকে হারিয়ৈছি, তার সুযোগ্য কন্যা আমাদের আশ্রয়স্থল আপনাকে আমরা হারাতে চাইনা। জাতির পিতার নেতৃত্বে যে স্বাধীন জাতিসত্তার পরিচয় আমরা অর্জন করেছি সুদীর্ঘ সংগ্রাম ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত আর দুই লাখ মাবোনের সভ্রমের বিনিময়ে জাতি হিসেবে সেটা আবার ও কারো অধীনস্থ রাষ্ট্রের এস্টেট হিসেবে আবার পরাধীনতার শৃংখলে আবদ্ধ হবে ।

Continue reading “জাতির পিতাকে হারিয়ৈছি, তার সুযোগ্য কন্যাকে হারাতে চাইনা। নাছির ধ্রুবতারাঃ”

Advocate Nazma Kawsar

A Blog of Advocate Nazma Kawsar

মুক্তির বার্তা ২৪

মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার স্বপক্ষশক্তির একটি পত্রিকা

Mousumi akther mou

Graphics Degin

হারিয়ে গিয়েছি মা

A blog of Freedom Fighter Mukthi

Whom Shall We Trust?

A Blog of freedom fighter Moktel Hossain Mukthi

আমি যুদ্ধ দেখেছি

মোকতেল হোসেন মুক্তি

Moktel Hossain Mukthi

A blog of Freedom Fighter Mukthi

Bangladesh in 1971

A blog of Freedom Fighter Mukthi

Eliza Haya Ijaz's Photo

A blog of Moktel Hossain Mukthi

Islam Ebong Shanti

Rediscovering Islam's Message of Peace & Love

Moktel Hossain Mukthi

A blog of Muktimusician

মুক্তিরকাজ MukthizCreation

A blog of Moktel Hossain Mukthi

জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু

মোকতেল হোসেন মুক্তির একটি ব্লগ

MukthizCreation মুক্তিরকাজ

A blog of Moktel Hossain Mukthi

Father of Bengali Nation

A blog of Moktel Hossain Mukthi